যশোরের অভয়নগরে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যার পর পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছে জহিরুল ইসলাম বাবু নামে এক যুবক। গতকাল দুপুরে উপজেলার চাপাতলা গ্রামের আব্দুস সবুরের বাড়ির পেছনে কলাবাগানে হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন বাবুর স্ত্রী সাবিনা ইয়াসমিন বিথি (২৮), মেয়ে সুমাইয়া খাতুন (৯) ও সাফিয়া খাতুন (২)। আটক বাবু যশোর সদর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামের মশিউর রহমান বিশ্বাসের ছেলে।

বাবুর বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে তার বেশ কিছুদিন বিরোধ চলছিল। শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে স্ত্রী ও দুই মেয়েকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি অভয়নগরের সিদ্দিপাশা থেকে বাড়ির উদ্দেশে রওনা দেন। খেয়া নৌকায় ভৈরব নদ পার হয়ে চাপাতলা গ্রামে আব্দুস সবুরের বাড়ির পেছনে কলাবাগানে এসে প্রথমে স্ত্রী বিথিকে ও পরে বড় মেয়ে সুমাইয়া খাতুন এবং শেষে ছোট মেয়ে সাফিয়া খাতুনকে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে মরদেহ সেখানে ফেলে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের লোকজনকে ঘটনা জানান। এ সময় বাবুর বড় ভাই মঞ্জুরুল ইসলাম বসুন্দিয়া পুলিশ ক্যাম্পে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ বাড়িতে গেলে বাবু আত্মসমর্পণ করেন।

বসুন্দিয়া পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ এসআই কামরুজ্জামান বলেছেন, বড় ভাই মঞ্জুরুল ইসলামের দেয়া খবরে জহিরুল ইসলাম বাবুকে আটক করা হয়। আটক বাবু প্রাথমিকভাবে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। রাতে অভয়নগর থানা পুলিশ মরদেহ তিনটি উদ্ধার করেছে।

নিহত সাবিনা ইয়াসমিন বিথির পিতা মুজিবর রহমান বলেন, এক মাস আগে আমার মেয়ে সাবিনা ইয়াসমিন বিথি ও তার দুই মেয়ে আমাদের বাড়িতে বেড়াতে আসে। গতকাল জামাই জহিরুল ইসলাম বাবু আমার মেয়ে ও তার দুই কন্যাকে নিতে আসে। সকাল সাড়ে ১১টার সময় আমাদের বাড়ি থেকে তারা রওনা দেয়। এরপর আমার বিয়াই (জামাই জহিরুলের পিতা) বিকাল ৫টায় ফোন করে বলেন, আমার ছেলেকে আটক করে পুলিশে দিয়েছি, আপনারা চলে আসেন। এরপর জানতে পারি, আমার মেয়ে ও তার দুই কন্যাকে জামাই খুন করেছে।

তিনি আরো জানান, ১২-১৩ বছর আগে যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের মুজিবর রহমানের ছেলে জহিরুল ইসলাম বাবুর সঙ্গে আমার মেয়ের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে তাদের মধ্যে ঝগড়া-বিবাদ লেগেই থাকত। গতকালও আমার বাড়িতে তাদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এরপর তারা আমার বাড়ি থেকে রওনা দেয়।

অভয়নগর থানার ওসি একেএম শামীম হাসান বলেন, জহিরুল ইসলাম বাবু তার স্ত্রী ও দুই কন্যাকে হত্যা করেছে। নিহত তিনজনের মরদেহ উপজেলার চাপাতলা গ্রাম থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।