যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) মিজানুর রহমানকে মারধরের অভিযোগে বিশ্ববিদ্যালয়টির মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. ইকবাল কবীর জাহিদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। মামলায় আজিজুল ইসলাম নামে বিশ্ববিদ্যালয়টির বহিষ্কৃত ছাত্রকেও আসামি করা হয়েছে। গতকাল যশোর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মঞ্জুরুল ইসলামের আদালতে প্রকৌশলী মিজানুর রহমান মামলাটি করেন। আদালত মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের আদেশ দিয়েছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীর আইনজীবী ব্যারিস্টার রিফাত রেজওয়ান সেতু।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিশ্ববিদ্যালয়ে জেনারেটর সরবরাহ করে। ওই প্রতিষ্ঠানের ১৮ লাখ টাকার (বিল) প্রকল্পের বিপরীতে সিকিউরিটি বাবদ ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা জামানত রাখা হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ওই সিকিউরিটির টাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বহিষ্কৃত ছাত্র আজিজকে দিতে চাপ দিচ্ছিলেন অধ্যাপক ইকবাল কবীর জাহিদ। টাকা দিতে না চাইলে তারা প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের ওপর ক্ষিপ্ত হন।

এরই পরিপ্রেক্ষিতে ২৫ জুন বেলা আড়াইটার দিকে আজিজ প্রকৌশলী মিজানুরকে ডেকে শিক্ষক জাহিদের কাছে নিয়ে যান। সেখানে গেলে জাহিদ ও  আজিজ একাডেমিক ভবনের পশ্চিম পাশে সিঁড়ির নিচে নিয়ে প্রকৌশলী মিজানুরকে  গালিগালাজ ও মারধর করেন। একই সঙ্গে তারা দুজনেই প্রাণনাশের হুমকিও দেন বলে উল্লেখ করেছেন বাদী।

তবে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের চেয়ারম্যান ইকবাল কবীর জাহিদ দাবি করেছেন, ওই অভিযোগ সঠিক নয়। তিনি বলেন, মিজানুর ও আজিজের মধ্যে কথা কাটাকাটি চলছিল। তাদের থামাতে এগিয়ে গিয়েছিলাম। আমি তাকে মারধর করিনি। তিনি আরো বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্যালারির সাউন্ড সিস্টেমের দুর্নীতির বিষয়ে একটি তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছিলাম। ওই রিপোর্টে প্রকৌশলী মিজানুর রহমান অভিযুক্ত। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এখনো তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়নি। তার বিরুদ্ধে তদন্ত রিপোর্ট দেয়ায় আমার ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে নাটক সাজিয়েছেন।