সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান হত্যার ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত ছিল বলে পর্যবেক্ষণে জানিয়েছেন আদালত। গতকাল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণার শুরুতেই এ পর্যবেক্ষণ দেন কক্সবাজার জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ ইসমাইল।
বেলা আড়াইটার পর সিনহা হত্যা মামলার ৩০০ পৃষ্ঠার রায়ের শেষের অংশ পড়তে শুরু করেন বিচারক। শুরুতেই তিনি বলেন, আমি মেজর সিনহা হত্যা মামলাটির বিভিন্ন ইস্যু ও খুঁটিনাটি খোঁজার চেষ্টা করেছি। এ সময় ঘটনাস্থলে তিনজন এপিবিএনের সদস্য উপস্থিত ছিলেন। তারা স্যালুট দিয়ে চলে যেতে বলার পরেও কেন আবার মেজর সিনহার গাড়ি থামানো হলো? কেনই বা গুলি করা হলো? কেন এপিবিএন সদস্যরা হত্যার ঘটনা থামাতে পারলেন না।
এর জবাবে এপিবিএন সদস্য এসআই শাহজাহানের দেয়া উত্তরও পড়ে শোনান আদালত। সেখানে শাহজাহান বলেছেন, পাশেই একটি গাছের নিচে লিয়াকত দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ১০-২০ সেকেন্ডের মধ্যে তিনি গুলি চালান। কেন লিয়াকত গুলি করেন সেটি সাক্ষী ও আসামিদের সাক্ষ্য ও জবানবন্দি থেকে জানার চেষ্টা করেছেন বলে জানান বিচারক।
এরপর বিচারক মোহাম্মদ ইসমাইল বিভিন্ন সাক্ষী ও আসামির জবানবন্দি থেকে সেদিন রাতের ঘটনা, কার কী ভূমিকা ছিল, কখন কে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলেন, কোন বিষয়ে কথা বলেছিলেন, কার কেমন গতিবিধি ছিল তা তুলে ধরেন।
চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে বিচারক বলেন, ষড়যন্ত্রমূলক ও পূর্ব পরিকল্পনার ভিত্তিতে সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ডে আগাগোড়া নেতৃত্ব দেয়ায় প্রদীপ ও লিয়াকতকে ৩০২, ২০১, ১০৯, ১১৪, ১২০ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাদের মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেয়া হলো।
এ দুজনের বিরুদ্ধে মৃত্যু নিশ্চিত করতে সিনহা মোহাম্মদ রাশেদকে আঘাত করা ও হাসপাতালে নিতে দেরি করা, ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা, হত্যার আলামত ধ্বংসের চেষ্টা এবং সিনহার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেয়ার অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে বলে জানান আদালত। বিচারক বলেন, এসবই শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তিনি বলেন, এ মামলার কেবল সাক্ষীরাই নন, অনেক আসামিও ঘটনার সঙ্গে ওসি প্রদীপ কুমার দাশের সম্পৃক্ততার বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন। ঘটনার পূর্বাপর বিবেচনা করে তার ভূমিকা প্রমাণিত হয়েছে।










