গার্মেন্টস শ্রমিকদের শিশুদের জন্য কার্যকর ও টেকসই শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আজ রাজধানীর মিরপুরে মটস ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজিতে মাল্টি-স্টেকহোল্ডার সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘কমিউনিটি-ভিত্তিক শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা’ প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত এ সংলাপের মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘শিশু নির্যাতন এবং শোষণ প্রতিরোধে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, সুশীল সমাজসহ বিভিন্ন অংশীজনদের নিয়ে সংলাপ ও করণীয়’।

অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে টেরে ডেস হোমস নেদারল্যান্ডস, সহযোগিতায় ছিল ব্রেকিং দ্য সাইলেন্স এবং ভিলেজ এডুকেশন রিসোর্স সেন্টার (ভার্ক)।

প্রথম পর্বে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন টেরে ডেস হোমসের কান্ট্রি ম্যানেজার নজরুল ইসলাম। এরপর প্রকল্পের প্রেক্ষাপট ও উদ্দেশ্য তুলে ধরেন বিটিএসের প্রোগ্রাম ডিরেক্টর জাহিদুল ইসলাম। প্রকল্পের অগ্রগতি, কার্যক্রম এবং শিক্ষণীয় দিক নিয়ে বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন নুরুল কবির, প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর (পিএমই ও ফান্ডরেইজিং এবং প্রোগ্রাম ফোকাল, সিবিসিপিএম প্রকল্প, টিডিএইচ-এনএল)।

অনুষ্ঠানে নির্বাচিত শিশুরা সরাসরি তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে, যা উপস্থিত অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এই অংশটি শিশুদের কণ্ঠে তাদের বাস্তব জীবনের চিত্র তুলে ধরার মাধ্যমে সংলাপটি আরো মানবিক ও বাস্তবসম্মত করে তোলে।

পরবর্তীতে এক উন্মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে বিজিএমইএ, বিকেএমইএ, গার্মেন্টস প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মতামত দেন ও শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ পরিবেশ গড়ে তুলতে সম্মিলিতভাবে কাজ করার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিটিএসের নির্বাহী পরিচালক রোকসানা সুলতানা, ভার্কের উপ-নির্বাহী পরিচালক মাসুদ হাসান, ঢাকার রূপনগর ও পল্লবী থানা এবং গাজীপুরের কাশিমপুর থানার শিশুবান্ধব পুলিশ কর্মকর্তা, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর (ওয়ার্ড ২, ৩ ও ৫) মেহরুন নেসা, গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর (ওয়ার্ড ১, ২ ও ৩) পারভীন আক্তার, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের সমাজসেবা কর্মকর্তা আবদুল সালাম এবং ঢাকা ও গাজীপুরের জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা রাশেদা বেগম।

উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধ বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় নিহত শিশুদের স্মরণে অনুষ্ঠানে নীরবতা পালন করা হয়। সমাপনী বক্তব্যে নজরুল ইসলাম অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানান এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের সংলাপের মাধ্যমে নীতিনির্ধারক ও মাঠপর্যায়ের প্রতিনিধিদের মাঝে সমন্বয় বাড়িয়ে শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। —বিজ্ঞপ্তি