বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, ‘সারা দেশে মবোক্রেসির রাজত্ব হচ্ছে। চেয়েছিলাম ডেমোক্রেসি, হয়ে যাচ্ছে মবোক্রেসি। কিন্তু কেন? যারা গণ-অভ্যুত্থানের শক্তিকে চ্যালেঞ্জ করার সাহস পাচ্ছে তারা কারা এবং কেন? এই দুই কেনর জবাব হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকারের নির্লিপ্ততা ও আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতা।’

দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে গতকাল নয়াপল্টনে যুবদলের সংক্ষিপ্ত সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন।

সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘আমরা এসব বলতে চাইনি। গত ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর থেকে আমরা তাদের সহযোগিতা করে যাচ্ছি। কিন্তু দেশে ফ্যাসিবাদবিরোধী সংগঠন বিএনপিকে কলঙ্কিত করার চেষ্টা করছে। যারা ফ্যাসিবাদের পুনর্বাসন চায়, তারাই এই কাজ করছে। আজ দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের জন্য সরকার কী কী পদক্ষেপ নিচ্ছে। আমরা আশা করেছিলাম, লন্ডন বৈঠকের পর ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচনের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নেবে। কিন্তু আমরা লক্ষ করলাম এখনো ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠানের কোনো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি।’

নির্বাচন নিয়ে তিনি আরো বলেন, ‘আমরা চাই প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় থেকে নির্বাচন কমিশনকে ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন আয়োজনের জন্য মেসেজ দিন। যারা নির্বাচনকে বিলম্বিত করার চেষ্টা করছে তারা যেন প্রশ্রয় না পায়। জনগণের মনে যেন এ প্রশ্ন না ওঠে যে অন্তর্বর্তী সরকার কোনো একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলকে বাড়তি সুবিধা দেয়ার চেষ্টা করছে।’

গোপালগঞ্জের ঘটনা নিয়ে সালাহউদ্দিন বলেন, ‘গোপালগঞ্জে যে ঘটনা দেখলাম, সেটা খুবই উদ্বেগের। কিন্তু কেন ফ্যাসিবাদীরা ফের হামলা চালানোর সুযোগ পাবে? এই কেনর জবাব কী? জবাব একটাই। যারা একটি নতুন রাজনৈতিক দল সংগঠিত করেছে, যাদের এখনো রেজিস্ট্রেশন নাই। যারা অনেক আবেগতাড়িত হয়ে অপরিকল্পিতভাবে এমন সব রাজনৈতিক কর্মসূচি দিচ্ছে সেই রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে আজ সারা দেশের মানুষ দেখল গণ-অভ্যুত্থানের অগ্রসেনানীদের ওপর পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি হামলে পড়ছে। বাবারা রাজনীতির ময়দানে আরো অভিজ্ঞতা সঞ্চয় করার পরামর্শ আগেও দিয়েছিলাম, এখনো দিচ্ছি, নসিহত করছি। আমরা তোমাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি। তোমরা জাতীয় নেতৃত্ব হয়ে উঠবে, সেটা কামনা করি। কিন্তু যেভাবে এনসিপির কর্মসূচির ধরন দেখছি, তাতে করে আমরা একটি মেসেজ পাচ্ছি যে এমন একটা বাহানা তৈরি করা, যাতে নির্বাচন পেছানো যায়।’

শাপলা প্রতীক চেয়েও মব হতে পারে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘শাপলা ছাড়া কি কোনো মার্কা হয় না। এটা তো জাতীয় প্রতীক। এই মার্কা না দিলে আবার মব হবে। যারা বলছে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে, তারাই তো সরকারে আছে। তারা কাদের বলছে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খারাপ?’