জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এ এইচ এম হামিদুর রহমান আজাদ বলেছেন, 'দীর্ঘদিনের অধিকার কেড়ে নেয়ার অন্যতম কারণ ত্রুটিপূর্ণ নিবাচন। কালো টাকা, ফ্যাসিবাদ ও নমিনেশন বাণিজ্য ও মানুষের ভোটাধিকারের স্বীকৃতি দিতে হলে পিআর পদ্ধতির বিকল্প নেই। অবিলম্বে পিআর পদ্ধতির মাধ্যমে নির্বাচনের ঘোষণা দিতে হবে। নয়তো রাজপথের মাধ্যমে আমরা এ দাবি আদায় করবই। আপনারা প্রস্তুত হোন।'
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জামায়াতে ইসলামীর জাতীয় সমাবেশের মূল পর্বে তিনি এ কথা বলেন। আজ শনিবার (১৯ জুলাই) দুপুর পৌনে ২টার দিকে এই পর্বের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়।
দুপুরে সমাবেশ মঞ্চে উপস্থিত হন দলের আমির ডা. শফিকুর রহমান। তার আগমনে 'নারায়ে তাকবীর, আল্লাহু আকবর' স্লোগান দিতে থাকেন নেতাকর্মীরা। তিনি ছাড়াও দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য, জুলাইয়ে আহত ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা মঞ্চে রয়েছেন।
সমাবেশে নেজামে ইসলামীর সভাপতি মাওলানা মুসা বিন ইজহার বলেন, ‘বাংলাদেশের মাটিতে মুজিববাদের ঠাঁই হবে না। আমাদের পরিচয় আমরা মুসলমান; আমরা বাংলাদেশী। একইসঙ্গে, প্রয়োজনীয় সংস্কারের আগে বাংলাদেশের মানুষ নির্বাচন মেনে নেবে না। ফ্যাসিবাদী হাসিনাসহ অন্যান্যদের বিচারের আগে এ দেশের মাটিতে নির্বাচন হতে পারবে না।’
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, নির্বাচনের আগে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে হবে। সব দল যেন নির্বিঘ্নে সভা-সমাবেশ ও প্রচারণা চালাতে পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। আজকের সমাবেশের এটি একটি বড় দাবি।
জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘শুধু নির্বাচন দিয়ে গণতন্ত্রকে সুরক্ষা দেয়া যায় না। যার জন্য পিআর পদ্ধতিতে উচ্চকক্ষের নির্বাচন হতে হবে। যারা বলে উচ্চকক্ষের নির্বাচন চাই না তারা জাতির সঙ্গে বেইমানি করে। ধর্মের ওপর ভিত্তি করে এ দেশের মানুষের ওপর জুলুম হতে দেব না। আওয়ামী লীগ ও তার দোসরদের গণহত্যার দায়ে বিচারের আওতায় আনা না হলে শহীদদের সঙ্গে বেইমানি করা হবে। দ্রুত জুলাই ঘোষণাপত্র ঘোষণা করতে হবে। এছাড়াও মৌলিক সংস্কারের ভিত্তিতে লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্ক অর্ডারের মাধ্যমে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন করতে হবে।’
জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারী জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘ইসলামী শক্তির বিরুদ্ধে চলমান অন্যায়ের বিরুদ্ধে আজকের এ জনবিস্ফোরণ। ক্রসফায়ার, গুম ও হত্যা-নির্যাতনের শিকার হয়েছে হাজার হাজার মানুষ। দুনিয়ায় সবচেয়ে মজলুম জামায়াতে ইসলামী। আমরা একটি কল্যাণ রাষ্ট্র গঠন করতে চাই। তাই আসুন আগামীর বাংলাদেশে জুলাই অভ্যুত্থানকে ধারণ করে দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিন।’
জামায়াতে ইসলামীর সমাবেশে আরো বক্তব্য রাখেন শহীদ ফয়সাল আহমেদ শান্তর পিতা জাকির হোসেন, শহীদ আবু সাইদের বড় ভাই রমজান আলী, সাবেক আমির মতিউর রহমান নিজামীর ছেলে ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন, মহানগর উত্তরের আমির সেলিম উদ্দিনসহ অন্যান্যরা।









