মাদারীপুরের ডাসার উপজেলায় হাত-পা বাঁধা অবস্থায় আজিজ হাওলাদার (৬২) নামে আওয়ামী লীগের এক কর্মীর মরদেহ উদ্ধার করছে পুলিশ।

শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে উপজেলার ডাসার ইউনিয়নের ১০৭ নং ধামুসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত মো. আজিজ হাওলাদার উপজেলার ধামুসা গ্রামের মৃত আবদুল রহিম উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে। তিনি আওয়ামী লীগের একজন তৃণমূল কর্মী ছিলেন। আওয়ামী লীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক সভা-সমাবেশে তাকে নিয়মিত দেখা যেত বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

পুলিশ, স্থানীয় ও স্বজনদের কাছ থেকে জানা গেছে, মো. আজিজ হাওলাদার ডাসার উপজেলা সদরের কাঁঠালতলা বাজারে চায়ের দোকান করতেন। পাশাপাশি তিনি এলাকার বিভিন্ন মানুষের কাছে টাকা বিনিয়োগ করে সুদের কারবার করতেন। প্রতিদিনের মতন ৩১ জানুয়ারি (শুক্রবার) বিকালে চায়ের দোকান পরিচালনা করেন। কবে রাত ১০টার পর দোকান বন্ধ করে তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। শনিবার সকালে নিহতের স্ত্রী শাহিদা বেগম তার খোঁজে বাড়ি থেকে বের হলে গ্রামের রাস্তার পাশে স্বামীর হাত-পা গামছা দিয়ে বাঁধা মরদেহ দেখতে পান। এ সময় তার চিৎকারে আশে পাশের লোকজন ছুটে আসেন। পরে পুলিশ খবর পেয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। এ সময় পুলিশ মো. আজিজ হাওলাদারের ডাসার কাঁঠালতলা বাজারের দোকানে একাধিক স্টাম্প ও অনেকের নাম ও টাকার অংক লিখিত রেজিস্ট্রি খাতা উদ্ধার করেন।

নিহতের স্বজনরা জানান মো. আজিজ হাওলাদার চায়ের দোকানের পাশাপাশি সুদের টাকার লেনদেন করতেন।

স্বজনদের দাবি, তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যিা করা হয়েছে। আজিজ হাওলাদার জীবিত থাকাকালে ফেসবুকে দেয়া পুরনো এক ভিডিও সাক্ষাৎকারে তাকে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের প্রতি তার অগাধ বিশ্বাসের কথা বলেন।

নিহতের বড় ভাই মো. আব্দুল গণি হাওলাদার বলেন, আমার ভাইকে হাত-পা বেঁধে যারা নির্মমভাবে হত্যা করেছে, আমি প্রশাসনের কাছে তাদের কঠোর শাস্তির দাবি জানাই। আমার ভাই আওয়ামী লীগের সমর্থক ছিল। তবে তাকে কী কারণে কারা খুন করেছে আমরা তা এখন বুঝতে পারছি না।

এ ব্যাপারে ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহম্মদ আব্দুল বারিক বলেন, আমরা সংবাদ পেয়ে ১০৭ নং ধামুসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের রাস্তায় পাশ থেকে মো. আজিজ হাওলাদারের হাত-পা বাঁধা মরদেহ উদ্ধার করি। সুরতহাল শেষে মরদেহটি মেডিকেলের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার সঙ্গে যারাই জড়িত, তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। কী কারণে তাকে হত্যা করা হয়েছে, আমরা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি। এই বিষয়ে শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত থাকায় কোনো মামলা হয়নি। তবে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।