বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিয়ে বিদেশে তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন নিয়ে গতকাল রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্বে বঙ্গভবনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিএনপি চেয়ারপারসনের মুক্তির সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিএনপির একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। 

দুর্নীতি মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত খালেদা জিয়ার স্থায়ী মুক্তি ও চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে দল ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে বার বার আবেদন জানানো হলেও আওয়ামী লীগ সরকার এতে সাড়া দেয়নি। বরং নির্বাহী আদেশে দুটি শর্তে ছয় মাস করে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। শর্তগুলো হলো—ঢাকার নিজ বাসায় থেকে চিকিৎসা করতে হবে এবং দেশের বাইরে যেতে পারবেন না। সব শেষে গত ২১ মার্চ নির্বাহী আদেশে আটবারের মতো তার মুক্তির মেয়াদ বাড়ায় আওয়ামী লীগ সরকার। তবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে তার মুক্তির পথ সুগম হলো।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রাষ্ট্রপতির ঘোষণার মধ্য দিয়ে ম্যাডামের (খালেদা জিয়া) মুক্তির বিষয়টি আমরা জেনেছি। পরে উনার সঙ্গে দেখা করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।’

অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের লক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের সভাপতিত্বে সেনাপ্রধান, নৌপ্রধান ও বিমান বাহিনীর প্রধান এবং দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাদের পাশাপাশি সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের এক বৈঠক হয়। প্রথমে কোটা সংস্কার আন্দোলনে নিহতদের স্মরণে শোক প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং তাদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করা হয়। এছাড়া সভায় অনতিবিলম্বে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। 

সেই সঙ্গে দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণে সবাইকে ধৈর্য ধারণ এবং সহনশীল আচরণ করার আহ্বান জানানো হয়। লুটতরাজ ও হিংসাত্মক কর্মকাণ্ড বন্ধে সেনাবাহিনীর কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পাশাপাশি বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ও সম্প্রতি বিভিন্ন মামলায় আটক সব বন্দিকে অনতিবিলম্বে মুক্তি দেয়ারও সিদ্ধান্ত হয়। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি যেন কোনোভাবেই বিনষ্ট না হয় সে বিষয়েও ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয় বৈঠকে। 

সভায় রাজনৈতিক নেতা-সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের মধ্যে ছিলেন বিএনপির মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও মির্জা আব্বাস; জাতীয় পার্টির জিএম কাদের, মুজিবুল হক চুন্নু ও আনিসুল ইসলাম; নাগরিক ঐক্যের মাহমুদুর রহমান মান্না; হেফাজতে ইসলামের মামুনুল হক, মুফতি মনির কাসেমী ও মাহাবুবুর রহমান; জামায়াতে ইসলামীর ড. শফিকুর রহমান ও শেখ মো. মাসুদ, মেজর জেনারেল ফজলে রাব্বি (অব.); জাকের পার্টির শামিম হায়দার; বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মাওলানা জালাল উদ্দীন আহমদ; গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি; জাকের পার্টির শামীম হায়দার; গণ-অধিকার পরিষদের অ্যাডভোকেট গোলাম সারওয়ার জুয়েল; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক আসিফ নজরুল, ফিরোজ আহমদ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল্লাহ আল হোসাইন, আরিফ তালুকদার, ওমর ফারুক ও মোবাশ্বেরা করিম মিমি প্রমুখ।