জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘বিচার, সংস্কার ছাড়া নির্বাচন অর্থহীন হয়ে যাবে। সে নির্বাচন জনগণ গ্রহণ করবে না। আমাদের একটা নতুন সংবিধান দরকার। যে সংবিধানে বাংলাদেশের মানুষের মানবাধিকারের কথা লেখা থাকবে, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার সংগ্রাম ও ২৪-এর গণ-অভ্যুত্থানের স্বীকৃতি দেয়া থাকবে। সেই নতুন সংবিধানের বিপক্ষে দাঁড়িয়ে যাচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক শক্তি। ৭২-এর সংবিধানকে রক্ষার জন্য তারা রাজপথে নামছে।’

গতকাল দুপুরে মৌলভীবাজার শহরের বেরিরপার পয়েন্টে দলটির জুলাই পদযাত্রার পথসভায় তিনি এসব কথা বলেন। পথসভা আয়োজন করে এনসিপি মৌলভীবাজার জেলা শাখা। এতে সভাপতিত্ব করেন এনসিপির মৌলভীবাজারের প্রধান সমন্বয়কারী ফাহাদ আলম। অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সচিব প্রীতম দাশ প্রমুখ। পথসভায় কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারাসহ অন্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘৭২-এর সংবিধান মুজিববাদ প্রতিষ্ঠার সংবিধান। এ সংবিধানের মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা নষ্ট করার চক্রান্ত করা হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আমরা সেই চক্রান্ত থেকে বের হতে চাই।’

তিনি বলেন, ‘গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে আমরা অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে অনেক স্বপ্ন দেখেছিলাম। আমাদের অনেক দাবি ছিল। কিন্তু নির্বাচনের সঙ্গে এখন আমাদের সব স্বপ্ন ও প্রত্যাশাকে একমাত্র দাবিতে রূপান্তর করে ফেলা হয়েছে।’

পরে শ্রীমঙ্গলের মহসিন মিলনায়তনে বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এনসিপির নেতারা। কয়েক দিন পরপর ন্যায্য মজুরির জন্য চা শ্রমিকদের আন্দোলনের বিষয়টি তুলে ধরে এনসিপির আহ্বায়ক জানান, শ্রীলংকায় চা শ্রমিকরা সাড়ে ৫০০ টাকা দৈনিক মজুরি পান। ভারতে পান ৪২০ টাকা। আর বাংলাদেশে পান ১৭৯ টাকা। এ টাকায় একজন শ্রমিক কীভাবে জীবন যাপন করেন? কীভাবে পরিবারের ভরণ-পোষণ দেবেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘আমরা যে বাংলাদেশ কামনা করি, সেখানে যাতে চা শ্রমিকরা ন্যায্য মজুরি পান, সন্তানের স্বাস্থ্য, শিক্ষা নিশ্চিত করতে পারেন। চা শ্রমিক, খাসিয়াসহ সবার অধিকার নিশ্চিত করতে চাই।’

বিবিসির একটি প্রতিবেদনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা বিবিসির একটি রিপোর্ট দেখলাম হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচংয়ে, যেখানে পুলিশ হত্যাকে প্রমিনেন্ট করে তোলা হচ্ছে। এ পুলিশ হত্যার দায় আমাদের অভ্যুত্থানকারী ছাত্র-জনতাকে দেয়ার অপচেষ্টা করা হয়েছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, ৩ আগস্ট আমরা এক দফার মাধ্যমে স্পষ্ট করেছিলাম আমাদের এ লড়াইটা শেখ হাসিনার ফ্যাসিস্ট শাসনের বিরুদ্ধে। কোটা সংস্কার আন্দোলন ছিল শান্তিপূর্ণ। শেখ হাসিনার পুলিশ, ছাত্রলীগ, সন্ত্রাসী বাহিনী গুলি চালিয়ে, বর্বরোচিত হামলা করে আমাদের অভ্যুত্থানের দিকে নিয়ে যেতে বাধ্য করেছিল। আমরা শান্তিপ্রিয় ছাত্র-জনতা বাধ্য হয়েছিলাম প্রতিরোধ গড়ে তুলতে, লাঠি হাতে তুলে নিতে। বাধ্য হয়েছিলাম ফ্যাসিস্টের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে। আমরা স্পষ্ট করেছিলাম, এ লড়াইটা ফ্যাসিস্ট রাষ্ট্র, ফ্যাসিস্ট বাহিনীর বিরুদ্ধে জনগণের লড়াই।’