জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে নিহতদের দ্রুত সময়ের মধ্যে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। তাদের দাবি, ‘‌জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারের জন্য কোনো কিছু করেনি অর্ন্তবর্তী সরকার। শুরু থেকে সরকারি সহায়তা ও নিহতদের পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে দপ্তরে ঘুরেও কোনো লাভ হয়নি। সরকারের কেউ তাদের খোঁজ নিচ্ছে না। এতদিন হয়ে গেলেও এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে বিচার হয়নি। ছয় মাস পরও প্রধান কাজ নিহতদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেয়া, সেটাও দেয়া হয়নি।’

শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে জুলাই শহীদ পরিবার আয়োজিত ‘প্রতিটি হত্যার আসামিদের দ্রুত গ্রেফতার ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা, শহীদ পরিবারের ন্যায্য দাবি আদায়ের লক্ষ্যে’ সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন শহীদ পরিবারের সদস্যরা।

এ সময় জুলাই অভ্যুত্থানে যাত্রাবাড়ী এলাকায় পুলিশের গুলিতে নিহত ইমাম হাসানের তাইমের ভাই রবিউল আউয়াল বলেন, ‘‌ভাই হত্যার বিচারের দাবি নিয়ে গত ছয় মাস ধরে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে দপ্তরে ঘুরছি। এখন পর্যন্ত মাত্র ৩৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। দুই হাজার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কী ৩৫ জন জড়িত ছিল? আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল সে কথা জানিয়েছে। ট্রাইব্যুনালের প্রতি আমাদের বিশ্বাস আছে কিন্তু ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশন কি করছে? আজকে কেন আমাদেরকে রাস্তায় নেমে আসতে হলো? কেন শহীদ পরিবারকে সরকারি দপ্তরে ঘুরতে হবে? এগুলোর জন্য কি আমার ভাই জীবন দিয়েছে?’

নিহতদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘‌ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার ছয় মাস পার হয়ে গেছে। কিন্তু এখনো শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। আমাদের দাবি দ্রুত সময়ের মধ্যে সকল শহীদদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দিতে হবে।’

সংবাদ সম্মেলনে অভ্যুত্থানে নিহত অনন্ত ৩০টি পরিবার অংশ নেয়। তারা অভিযোগ করে বলেন, ‘‌আমাদের পরিবারের কারো বাবা, কারো ভাই, কারো বোন শহীদ হয়েছে। এ দেশকে তারা ফ্যাসিস্টমুক্ত করেছে। অথচ আমাদের জন্য প্রধান উপদেষ্টার সময় নেই। আমাদের সঙ্গে তিনি দেখা করেন না। আমরা গত রোববার ভিক্ষার ঝুড়ি নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের সঙ্গে দেখা করার সময় হয়নি ওনার। তাহলে আপনারা বলেন শহীদ পরিবার কোথায় যাবে? আমাদেরকে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে। আমাদের পরিবারকে দেখার কেউ নেই। সরকার আমাদের স্বজনদের রক্তের ওপর দিয়ে ক্ষমতায় গেছে। অথচ আমাদের কোনো খোঁজ পর্যন্ত নিচ্ছে না। আমরা সরকারকে বলব আমরা আর পারছি না, আমাদের বাচাঁন, আমাদের পাশে দাঁড়ান।’

খুনিদের বিচারের দাবি জানিয়েছে তারা বলেন, ‘‌আমাদের সন্তানের বিনিময়ে এ দেশ স্বাধীন হয়েছে। নতুন সরকার গঠিত হয়েছে। এখন সংস্কার হবে, নির্বাচন হবে, নতুন ঐক্য হবে। কিন্তু সেগুলোর আগে খুনিদের বিচার করতে হবে। তাদেরকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে হবে, স্বীকৃতি দিতে হবে। তারপর যা করার করবেন।’

সংবাদ সম্মেলনে আগামী ৩ ফেব্রুয়ারির মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা না করলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন নিহতদের স্বজনরা।