সরকারি নির্দেশনার প্রেক্ষিতে গ্যাস সংকটের কারণে চট্টগ্রামের আনোয়ারা-কর্ণফুলীতে দুটি সার কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে। কারখানা দুটি হলো, চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো)। গতকাল বুধবার বিকাল থেকে গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেয়ায় কারখানা দুটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আমেরিকা-ইসরাইল ও ইরানের সংঘাতের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উদ্ভূত পরিস্থিতির কারণে এ সংকট দেখা দিয়েছে। এলএনজি সরবরাহে বাধাগ্রস্থ হওয়ায় গ্যাস সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদে সংকটের মধ্যে পড়তে পারে বাংলাদেশ। এ আশঙ্কায় শিল্পখাতে গ্যাস সরবরাহ সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর অংশ হিসেবে সার কারখানাগুলোতে গ্যাসের চাপ কমে গেলে উৎপাদন স্বাভাবিকভাবে চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে সরকারি নির্দেশনায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়।
কারখানার কর্মকর্তারা জানান, সার উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে গ্যাসনির্ভর হওয়ায় পর্যাপ্ত চাপ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ ছাড়া উৎপাদন চালানো ঝুঁকিপূর্ণ। কম চাপের গ্যাসে উৎপাদন অব্যাহত রাখলে যন্ত্রপাতির ক্ষতির আশঙ্কা থাকে। তাই নিরাপত্তা বিবেচনায় এবং সরকারি সিদ্ধান্তের কারণে কারখানাগুলো সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।
চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেডের (সিইউএফএল) প্রধান রসায়নবিদ ও বিভাগীয় প্রধান (উৎপাদন) উত্তম চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ইরানের সঙ্গে আমেরিকা ও ইসরাইলের যুদ্ধের কারণে গ্যাস সরবরাহ সংকটের মধ্যে আছে। মূলত গ্যাস সংকটের কারণে সরকারের নির্দেশনায় কারখানার উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে কারখানাটি পুনরায় চালু করা হবে। পেট্রোবাংলা থেকে কেজিডিসিএলকে (কর্ণফুলী গ্যাস) বলা হলে তারা আমাদেরকে কারখানায় গ্যাস সরবরাহ দিতে পারবে না বলে জানিয়েছে। যার কারণে সিইউএফএলে উৎপাদন বন্ধ আছে। এছাড়া গ্যাস সংকটের কারণে ঘোড়াশালেও কারখানাটি বন্ধ আছে। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে কারখানার উৎপাদন স্বাভাবিকভাবে শুরু হবে বলে জানান তিনি।
কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এডমিন) আলমগীর রহমান বণিক বার্তাকে বলেন, সরকারের নির্দেশনার কারণে আমাদের কারখানার উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। শুধু আমাদের নয় দেশের সবকয়টি সার কারখানা বন্ধ করা হয়েছে। আমরা শুনেছিলাম বৃহস্পতিবার গ্যাস দিতে পারে। কিন্তু সেরকম কিছুই হয়নি। সরকার যখনই আমাদের গ্যাস দেবে তখনই আমরা কারখানা চালু করব। আমাদের প্রস্তুতি আছে। বুধবার বিকাল থেকেই মূলত উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে এ গ্যাস সরবরাহ সংকট শুরু হয়েছে।










