গাজীপুর মহানগরের কেয়া কসমেটিকস লিমিটেডের নিট কম্পোজিট ডিভিশন, স্পিনিং ডিভিশন, কটন ডিভিশন ও ইয়ার্ন মিলস কারখানা অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সেইসঙ্গে আগামী ১৫ জানুয়ারি কারখানার এসব বিভাগের শ্রমিকদের সব পাওনা পরিশোধ করার আশ্বাস দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার শঙ্কায় এবং জানমালের নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়।
রোববার (২৯ ডিসেম্বর) রাতে মহানগরের কোনাবাড়ী (জরুন) এলাকার কারখানায় কেয়া কসমেটিকস লিমিটেড স্বাক্ষরিত নোটিসে কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করা হয়। সোমবার সকালে বিষয়টি শ্রমিকদের নজরে আসে। নোটিসে আগামী ১৫ জানুয়ারি শ্রমিকদের সব বকেয়া পরিশোধ করার ঘোষণা দিলেও সোমবার বিকাল থেকে শ্রমিকরা বেতনের দাবিতে কোনাবাড়ী (বাইমাইল) সাইনবোর্ড এলাকায় ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন। এতে সড়কের উভয় পাশে যানবাহন আটকা পড়ে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।
নোটিসে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ২৬ ডিসেম্বর কারখানার ভেতরে কিছু সংখ্যক উচ্ছৃঙ্খল শ্রমিক আকস্মিকভাবে অযৌক্তিক ও বেআইনি দাবি নিয়ে অন্য শ্রমিকদের সংগঠিত করে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। শ্রমিক ও কারখানা কর্তৃপক্ষের জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে শৃঙ্খলা বজায় রেখে কাজে যোগদানের জন্য কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রত্যেক লাইনের শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে মিটিং করেন এবং কাজে যোগ দিতে বারবার অনুরোধ করেন। কিন্তু শ্রমিকরা কাজে যোগদান না করে উৎপাদন ফ্লোর থেকে কার্ড পাঞ্চ করে বেরিয়ে পড়েন এবং কারখানার অন্যান্য ইউনিটের কাজ বন্ধ করে দেন।
সর্বশেষ গত রোববার শ্রমিকরা সংগঠিত হয়ে মাইকিং করে সোমবার সকাল ৯টায় তিন শিফটের সব শ্রমিককে কারখানার মূল গেটে সংগঠিত হওয়ার আহ্বান জানান। বড় ধরনের বিশৃঙ্খলার আশঙ্কা থাকার কারণে কর্তৃপক্ষ জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে বাধ্য হয়ে সোমবার থেকে বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬-এর ১৩ (১) ধারা মোতাবেক কারখানার সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে। কাজের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি হলে পরবর্তীতে কারখানা খোলার তারিখ লিখিত নোটিশের মাধ্যমে জানানো হবে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে কোনাবাড়ীর জরুন এলাকায় ওই কারখানার শ্রমিকরা নভেম্বর মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি পালন করছেন। সোমবার সকাল থেকে শ্রমিকরা কারখানাটির সামনে কোনাবাড়ী-কাশিমপুর আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করেন।
গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২ কাশিমপুর সাব জোনের সহকারী পুলিশ সুপার আবু তালেব বলেন, আমরা একটা নোটিস দেখেছি সেখানে বলা হয়েছে আগামী ১৫ জানুয়ারি বেতন পরিশোধ করা হবে। শ্রমিকরা স্বাভাবিকভাবে বেতন চায়। এদিকে মালিক আর্থিক অবস্থার কারণে বেতন দিতে পারছে না, তিনি কারখানাতেও আসেন না। শ্রমিকরা উত্তেজিত হয়ে মহাসড়ক অবরোধ করেছে। এ প্রতিবেদন লেখার সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা পর্যন্ত শ্রমিকরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে রাখে।










