অধূমপায়ীদের আকৃষ্ট করতে বিজ্ঞান বিকৃত করার অভিযোগ উঠেছে বিশ্বের অন্যতম তামাক কোম্পানি ফিলিপ মরিস ইন্টারন্যাশনালের (পিএমআই) বিরুদ্ধে। মূলত বিভিন্ন গবেষণা ও পরামর্শক সংস্থায় অর্থ বরাদ্দের মাধ্যমে কোম্পানিটি বিকৃত তথ্য ছড়ানোয় প্রভাবকের কাজ করেছে। সম্প্রতি পিএমআইয়ের ফাঁস হওয়া গোপন নথির মাধ্যমে এসব তথ্য জানা গেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
গোপন নথিতে দেখা যায়, বিজ্ঞান বিকৃতির পরিকল্পনাটি তারা করেছিল নিজেদের তামাক পণ্য ‘আইকিওস’-এর ক্রেতা বাড়ানোর লক্ষ্যে। আন্তর্জাতিক বাজারে অধূমপায়ীদের আইকিওসের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে রাজনীতিক, চিকিৎসক ও ২০২০ সালের টোকিও অলিম্পিককে নিশানা বানানোর পরিকল্পনা করেছিল।
আইকিওস অনেকটা ই-সিগারেটের মতো। এ ডিভাইস তামাককে না পুড়িয়েই উত্তপ্ত করে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলছে, এটি যে সিগারেটের চেয়ে কম ক্ষতিকর, তার স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি। অথচ ওই সব গবেষণায় দাবি করা হচ্ছিল, আইকিওস ততটা ক্ষতিকর নয়।
জাপানের বাজারে অভিষেক হয় আইকিওসের। তবে তামাক খাতের নজরদারি প্রতিষ্ঠান স্টপিং টোবাকো অর্গানাইজেশন অ্যান্ড প্রডাক্টসের (স্টপ) সন্দেহ ছিল, পিএমআই সম্ভবত অন্যান্য বাজারেও তাদের পরিকল্পনা প্রয়োগ করবে।
ইউনিভার্সিটি অব বাথের টোবাকো কন্ট্রোল রিসার্চ গ্রুপের গবেষকদের এক নথিতে বলা হয়েছে, ধূমপান কমিয়ে আনার বিষয়ে কিয়োটো ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় অর্থায়ন করেছিল ফিলিপ মরিস জাপান (পিএমজে)। অন্য একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানকে তৃতীয় পক্ষ বানিয়ে তাদের মাধ্যমে এ অর্থায়ন করেছিল তারা।
গবেষকরা বলেন, অর্থায়নের ক্ষেত্রে পিএমজের সম্পৃক্ততার তথ্য তারা জানতে পারেননি। কিন্তু ২০২১ সালে গ্রিসে এক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে যখন গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ পায় তখন পিএমআইয়ের এক মুখপাত্র তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি তুলে ধরেন।
ফাঁস হওয়া নথিতে দেখা গেছে, এফটিআই-ইনোভেশনস নামের বিজ্ঞানবিষয়ক একটি কনসালটেন্সি ফার্মকে মাসে ২০ হাজার পাউন্ড করে দিত পিএমজে। প্রতিষ্ঠানটি চালাতেন টোকিও ইউনিভার্সিটির এক অধ্যাপক। পিএমআইয়ের প্রযুক্তি ও পণ্যকে বিভিন্ন একাডেমিক ইভেন্টে তুলে ধরার বিনিময়ে এ অর্থ দেয়া হতো। পিএমজের এক কর্মী জানিয়েছেন, বিষয়টি গোপন রাখার অনুরোধ জানিয়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে তাদের একটি মেইলও করা হয়েছিল।
ফাঁস হওয়া বিভিন্ন নথির একটি সংকলন সম্প্রতি ‘নিকোটিন অ্যান্ড টোবাকো রিসার্চ’ সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়। এখানে ২০১২-২০২০ সালে ফাঁস হওয়া ২৪টি কোম্পানির নথি রয়েছে।
‘নিকোটিন অ্যান্ড টোবাকো রিসার্চ’ সাময়িকীর গবেষক ড. সোফি ব্রাজনেল বলেন, ‘মুনাফার জন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর বিজ্ঞান বিকৃতির ঘটনা আমাদের সবার জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে নীতিনির্ধারক ও ভোক্তাদের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষেত্রে এসব অপচেষ্টা প্রভাব ফেলে।’










