আগামী চার বছরের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাংলাদেশে ৫ বিলিয়ন বা ৫০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ আনতে জ্বালানি নিরাপত্তা চায় আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম)। বিদেশী বিনিয়োগ বাড়াতে হলে জ্বালানি নিরাপত্তার একটা রোডম্যাপ সরকারকে দিতে হবে বলে মনে করে বাণিজ্য সংগঠনটি।

রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ‘৩০তম ইউএস ট্রেড শো ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আজ এসব তথ্য উঠে আসে।

সংবাদ সম্মেলনে অ্যামচেম সভাপতি সৈয়দ মোহাম্মদ কামাল বলেন, দেশে চার বছরে ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ আসার কথা আগেই বলা হয়েছে। সেজন্য আমরা একটি রোডম্যাপ নিয়ে এগোচ্ছি। যুক্তরাষ্ট্র থেকে একের পর এক প্রতিনিধিদল সফর করছে। একেক সময় একেকটি খাত নিয়ে তারা আসছেন। এগুলো কিন্তু গ্রাউন্ডওয়ার্ক হচ্ছে। যখন আমরা জ্বালানি নিরাপত্তার একটি রোডম্যাপ পেয়ে যাব, তখন আমরা দেখতে পারব। এটি পেয়ে গেলে আমার মনে হয়, শুধু যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারী নয়, অন্যান্য দেশের বিনিয়োগকারীরাও আসবে।

সম্মেলনে আগামী ৫ নভেম্বর থেকে ইউএস ট্রেড শো-২০২৬ এর ঘোষণা দেয়া হয়েছে। তিন দিনব্যাপী এ শো হবে অ্যামচেম আয়োজিত ৩০তম ইউএস ট্রেড শো। এতে দেশী-বিদেশী সরকারি-বেসরকারি প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও অংশীজনরা অংশ নেবেন।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক অংশীদারত্বের তিন দশক উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ এ প্রদর্শনীতে থাকছে ৪৩টি প্রদর্শক প্রতিষ্ঠান, ৬৩টি বুথ, ছয়টি বিষয়ভিত্তিক সেমিনার, আন্তর্জাতিক ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ এবং দর্শনার্থীদের জন্য নতুন আকর্ষণ। সহযোগিতা করছে ঢাকায় অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস।

প্রথমবারের মতো এবারের প্রদর্শনীতে খাতভিত্তিক পৃথক জোন রাখা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি; তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি) এবং ডিজিটাল অর্থনীতি; ব্যাংকিং ও আর্থিক সেবা; এফএমসিজি; উৎপাদন ও লজিস্টিকস; শিক্ষা ও উন্নয়ন; এবং কৃষিভিত্তিক ব্যবসা ও অন্যান্য খাত। পাশাপাশি নতুন উদ্যোগ ও উদ্যোক্তাদের উদ্ভাবনী ধারণা তুলে ধরতে থাকছে একটি বিশেষ স্টার্টআপ জোন।

নতুন মাত্রা যোগ করতে এবারের ট্রেড শোতে যুক্ত হচ্ছে কার্নিভাল জোন ও হেরিটেজ কর্নার। কার্নিভাল জোনে দর্শনার্থীরা অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে সরাসরি পণ্য কেনার সুযোগ পাবেন। অন্যদিকে, হেরিটেজ কর্নারে ইউএস ট্রেড শোর দীর্ঘ পথচলা, বিবর্তন এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যিক সম্পর্ক উন্নয়নে এর অবদান তুলে ধরা হবে।

তিন দিনে ১০ হাজার থেকে ১৫ হাজার দর্শনার্থীর সমাগমের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আরো করা হচ্ছে, এ আয়োজন ব্যবসায়িক যোগাযোগ, প্রযুক্তি বিনিময়, বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরো জোরদার করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্লাটফর্ম হয়ে উঠবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী আব্দুল আউয়াল মিন্টু ও ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সেলর পল ফ্রস্ট, অ্যামচেমের সহসভাপতি আলা উদ্দিন, কোষাধ্যক্ষ রেজা উর রহমান মাহমুদসহ অনেকে।