ব্যাংক-বহির্ভূত আর্থিক কোম্পানি আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি ৪০০ কোটি টাকার দুটি বন্ড ইস্যুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে ২০০ কোটি টাকার আনসিকিউরড সাবঅর্ডিনেটেড বন্ড এবং ২০০ কোটি টাকার গ্রিন জিরো-কুপন বন্ড রয়েছে। বেসরকারি প্লেসমেন্টের মাধ্যমে বন্ড দুটি ইস্যু করা হবে। ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
তথ্য অনুযায়ী, চলমান অর্থায়নের চাহিদা পূরণ এবং ভবিষ্যতে মূলধন পর্যাপ্ততা নিশ্চিত করতে বন্ড ইস্যুর এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। গত ২৯ অক্টোবর অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় এ সিদ্ধান্ত অনুমোদন করা হয়।
সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, নন-কনভার্টিবল সাবঅর্ডিনেটেড বন্ডটি টিয়ার-২ মূলধন হিসেবে গণ্য হবে। এ বন্ডের মেয়াদ হবে ছয় বছর। অন্যদিকে গ্রিন জিরো কুপন বন্ডের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে পাঁচ বছর। তবে বন্ড দুটি ইস্যুর আগে বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদন নিতে হবে।
একই সভায় কোম্পানিটির ১৬তম বিশেষ সাধারণ সভা (ইজিএম) আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আগামী ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬ সকাল ৯টায় ভার্চুয়াল মাধ্যমে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। সভায় কোম্পানির সংঘ স্মারকে নতুন উদ্দেশ্যসংক্রান্ত ধারা সংযোজন, সংঘবিধিতে নতুন ধারা যুক্ত করা এবং কোরামসংক্রান্ত বিদ্যমান বিধান সংশোধনের বিষয়ে শেয়ারহোল্ডারদের অনুমোদন নেয়া হবে। এসব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে শেয়ারহোল্ডার ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার সম্মতি প্রয়োজন হবে।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৬ হিসাব বছরের প্রথম তিন প্রান্তিকে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৮২ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৬১ পয়সা। ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৩৭ পয়সায়।
সর্বশেষ ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ১ টাকা ১১ পয়সা, আগের হিসাব বছরের একই সময়ে যা ছিল ৮৯ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৮৫ পয়সায়।
২০২৪ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৮৯ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৮৮ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৭৩ পয়সায়।
২০২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ৫ শতাংশ নগদ ও ৫ শতাংশ স্টক লভ্যাংশ দিয়েছে আইপিডিসি ফাইন্যান্সের পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে কোম্পানিটির ইপিএস হয়েছে ৮৮ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ২ টাকা ৪৩ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ১৭ টাকা ৩৩ পয়সায়।
আইপিডিসির ঋণমান দীর্ঘমেয়াদে ‘এএএ’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-১’। ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত ২০২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য গুণগত ও পরিমাণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ইমার্জিং ক্রেডিট রেটিং লিমিটেড (ইসিআরএল)।










