যুক্তরাষ্ট্রে চীনের বিরল মৃত্তিকা বা রেয়ার আর্থ চুম্বকের রফতানি আগস্টে কমেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ খনিজের বিক্রি কমেছে ১৩ শতাংশ। এছাড়া জুলাইয়ের তুলনায় কমেছে ২০ শতাংশ। চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক হওয়ার কথা। এর আগে রফতানি কমার এ তথ্য দুই দেশের বাণিজ্য আলোচনায় বিরল মৃত্তিকার সরবরাহকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত করতে পারে। খবর এফটি।

চীনের সরকারি কাস্টমসের রোববার প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, আগস্টে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের বিরল মৃত্তিকা চুম্বক রফতানির পরিমাণ ছিল ৫১২ টন। উচ্চপ্রযুক্তির বিভিন্ন পণ্য ও উন্নত উৎপাদন খাতে এসব উপাদান গুরুত্বপূর্ণ। গাড়ি, শিল্পপণ্যসহ বিভিন্ন প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য তৈরিতে এ ধাতুর ব্যবহার রয়েছে।

বিরল মৃত্তিকা বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলোর একটি শ্রেণী। উন্নত উপাদান ও উচ্চপ্রযুক্তির হার্ডওয়্যার তৈরিতে এসব খনিজ অপরিহার্য। বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিরল মৃত্তিকা উৎপাদক দেশ চীন। বিশ্লেষকদের মতে, এসব খনিজ ও এগুলো থেকে তৈরি চুম্বকের সরবরাহকে বাণিজ্য আলোচনায় নিজেদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছে বেইজিং।

২০২৫ সালের মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে চীনের বিরল মৃত্তিকা রফতানি বড় ধরনের ধাক্কা খায়। ওই মাসে রফতানি নেমে আসে ৪৬ দশমিক ৪ টনে। ট্রাম্প প্রশাসনের তথাকথিত ‘লিবারেশন ডে’ শুল্ক ঘোষণার পর পরই এ পতন দেখা যায়।

এরপর যুক্তরাষ্ট্রে চীনের বিরল মৃত্তিকা রফতানি ধীরে ধীরে বেড়েছে। তবে প্রতিবেদন অনুযায়ী, দাম এখনো তুলনামূলকভাবে বেশি। এ নিয়ে শিল্প খাতের সংগঠনগুলোর উদ্বেগও রয়েছে। আশঙ্কা, চীন ফের সরবরাহ কমিয়ে দিতে পারে। এতে গাড়ি থেকে শুরু করে যুদ্ধবিমান পর্যন্ত বিভিন্ন পণ্যের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

চীনের কাস্টমস তথ্য অনুযায়ী, আগস্টে জাপান ও জার্মানিতেও চীনের বিরল মৃত্তিকা চুম্বক রফতানি কমেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় জাপানে রফতানি কমেছে ১৭ শতাংশ। জার্মানিতে কমেছে ২২ শতাংশ।

ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের বিশ্লেষকরা বলেন, ইউরোপে সরবরাহের ক্ষেত্রে চীন এখনো একই ধরনের চাপ তৈরি করেনি। তবে চীনের বিরল মৃত্তিকার ওপর ইউরোপের নির্ভরতা দেশগুলোকে কঠিন অবস্থানে ফেলেছে। বিশেষ করে চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে বাণিজ্য উত্তেজনা বাড়তে থাকায় এ নির্ভরতা আরো গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।