ছাত্র-জনতার আন্দোলনের জেরে শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর পরই বৈষম্য অবসানের দাবিতে আন্দোলনে নামেন তৈরি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এর মধ্যে টিফিন, হাজিরা বোনাস, নিয়মিত বেতন পরিশোধ ও কিছু কিছু কারখানায় শ্রমিকদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করার অভিযোগ ছিল। এর বাইরে বিভিন্ন পোশাক কারখানায় নিজস্ব সমস্যাও আছে।৷ মালিকরা মোট ১৮ দফা দাবি বিভিন্ন পর্যায়ে মেনেও নেন। কিন্তু তার পরও তৈরি পোশাক খাতে অস্থিরতা কমছেই না। গত এক মাসে কয়েক দফা সংঘর্ষে জড়িয়েছেন শ্রমিকরা। এতে হতাহতের পাশাপাশি বেশকিছু কারখানায় ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে।
সাম্প্রতিক এসব ঘটনাপ্রবাহের বিষয় উল্লেখ করে তৈরি পোশাক খাতে সৃষ্ট ক্ষতির কথা জানিয়ে অর্থ উপদেষ্টা বরাবর চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ তৈরি পোশাক প্রস্তুত ও রফতানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ)। এতে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে তৈরি পোশাক শিল্পের ক্ষতিগ্রস্ত ৩৯টি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক কর্মচারীদের সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য সহজ শর্তে সুদবিহীন ঋণ দেয়ার জন্য অনুরোধ জানানো হয়। পাশাপাশি পোশাক শিল্পে চলমান অস্থিতিশীলতার জন্য প্রতিযোগী বিদেশী রাষ্ট্রকে দায়ী করা হয় চিঠিতে।
চিঠিতে বলা হয়, ‘দেশের সর্ববৃহৎ রফতানি খাতকে টিকিয়ে রাখতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে শ্রমিক অসন্তোষের কারণে তৈরি পোশাক শিল্পের ক্ষতিগ্রস্ত ৩৯টি প্রতিষ্ঠানকে শ্রমিক-কর্মচারীর সেপ্টেম্বর ২০২৪ মাসের বেতন ভাতা পরিশোধ করার জন্য সুদবিহীন সহজ শর্তে ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।’
এতে বিজিএমইএ অভিযোগ করে বলেছে, ‘বর্তমানে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের কারণে দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের ফলে প্রতিযোগী বিদেশী রাষ্ট্র ও দেশের একদল স্বার্থলোভী জনগোষ্ঠী আমাদের এ সর্ববৃহৎ রফতানি বাণিজ্য খাতকে ধ্বংস করার জন্য বিভিন্ন চক্রান্ত চালিয়ে যাচ্ছে, যার কারণে আমাদের পোশাক শিল্প খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোয় শ্রমিক অসন্তোষ চলমান আছে।’
চিঠিতে আরো বলা হয়, ‘সাভার ও আশুলিয়া এলাকার পোশাক শিল্প-কারখানাগুলোয় কিছু স্বার্থান্বেষী বহিরাগত লোকজন স্থানীয় লোকের সহায়তায় ভাংচুর, লুটতরাজসহ হতাহতের ঘটনা ঘটিয়েছে। ফলে অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান প্রায় ২০ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে এবং অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো স্বাভাবিকভাবে উৎপাদন কার্যক্রম চালু করতে পারছে না।’
শ্রমিক অসন্তোষের কারণে চলমান রফতানি আদেশগুলো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে দাবি করে চিঠিতে বলা হয়, ‘ক্রেতার নির্ধারিত লিড টাইমের মধ্যে পণ্য রফতানি করতে না পারার কারণে রফতানি আদেশ বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার অনেক ক্রেতা ডিসকাউন্ট দাবি করছে।’
বিজিএমইএ জানিয়েছে, পোশাক কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও প্রতিষ্ঠানগুলোকে শ্রমিক-কর্মচারীর বেতন-ভাতাসহ যাবতীয় স্থায়ী খরচ পরিশোধ করতে হয়। সাম্প্রতিক শ্রমিক অসন্তোষের ফলে ৩৯টি কারখানা ও প্রতিষ্ঠানের উৎপাদন কার্যক্রম প্রায় ২০ দিন বন্ধ থাকা সত্ত্বেও ৫৬ হাজার ৩৫১ জন শ্রমিক কর্মচারীকে শুধু বেতন-ভাতা বাবদ প্রায় ৫৯ কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে।










