সপ্তাহের শেষ দিনে গতকাল দেশের পুঁজিবাজারে রেকর্ড উত্থান হয়েছে। এদিন প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) সার্বিক সূচক ডিএসইএক্স প্রায় সাড়ে ৫ শতাংশ বেড়েছে। পাশাপাশি এক্সচেঞ্জটিতে দৈনিক লেনদেনের পরিমাণ বেড়েছে ১০৭ শতাংশ। অন্যদিকে দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেরও (সিএসই) সূচক বাড়লেও লেনদেন ছিল নিম্নমুখী।
বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, গতকাল বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার কেনার প্রবণতা বেড়ে যাওয়ায় পুঁজিবাজারে ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় ছিল। সম্প্রতি দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের প্রভাবে শেয়ারবাজারে এই ঊর্ধ্বমুখিতা দেখা গেছে। গতকাল লেনদেনের পুরো সময়জুড়ে বিনিয়োগকারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল লক্ষণীয়। পাশাপাশি অধিকাংশ সিকিউরিটিজের দরও ছিল ঊর্ধ্বমুখী। পুঁজিবাজারে স্থিতিশীল ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা থাকায় বিনিয়োগের আকর্ষণীয় সুযোগ কাজে লাগিয়েছেন তারা।
বাজার পর্যালোচনায় দেখা যায়, গতকাল ডিএসইএক্স ৩০৬ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ৫ হাজার ৯২৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, যা সাড়ে চার মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। শরিয়াহ সূচক ডিএসইএস ৫৬ পয়েন্ট বা ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ২৭৫ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১ হাজার ২১৯ পয়েন্টে। গতকাল নির্বাচিত কোম্পানির সূচক ডিএস ৩০ প্রায় ১১১ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ২ হাজার ১৩৩ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২ হাজার ২২ পয়েন্টে।
গতকাল সূচকের উত্থানে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা ছিল ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো বাংলাদেশ কোম্পানি, ব্র্যাক ব্যাংক, স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস, ইসলামী ব্যাংক ও গ্রামীণফোনের শেয়ারের। এ পাঁচ কোম্পানির দরবৃদ্ধিতে সূচক বেড়েছে ৮৯ দশমিক ২ পয়েন্ট।
ডিএসইতে গতকাল ১ হাজার ৬০৬ কোটি টাকার সিকিউরিটিজ লেনদেন হয়েছে, যা ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। আগের কার্যদিবসে এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হয়েছিল ৭৭৬ কোটি টাকা। সে হিসাবে লেনদেন বেড়েছে প্রায় ১০৭ দশমিক ১ শতাংশ।
ডিএসইতে গতকাল মোট ৩৯৮টি কোম্পানি, মিউচুয়াল ফান্ড ও করপোরেট বন্ডের মধ্যে দিন শেষে দর বেড়েছে ৩৬৪টির, কমেছে ২৭টির আর অপরিবর্তিত ছিল সাতটির বাজারদর।
খাতভিত্তিক লেনদেনচিত্রে দেখা যায়, গতকাল ডিএসইতে মোট লেনদেনের ২৩ দশমিক ৭ শতাংশ নিয়ে শীর্ষে ছিল ওষুধ ও রসায়ন খাত। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৯ দশমিক ২ শতাংশ লেনদেন ছিল ব্যাংক খাতের দখলে। আর ৯ দশমিক ২ শতাংশ লেনদেন নিয়ে তালিকায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাত। এছাড়া প্রকৌশল খাতে ৭ দশমিক ২ ও বস্ত্র খাতের দখলে ছিল মোট লেনদেনের ৭ শতাংশ।
গতকাল ডিএসইতে সব খাতের শেয়ারে ইতিবাচক রিটার্ন এসেছে। ইতিবাচক রিটার্নে শীর্ষে ছিল টেলিকম, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক ও খাদ্য খাত। এ চার খাতে রিটার্ন এসেছে যথাক্রমে ৯, ৮ দশমিক ১, ৮ ও ৭ দশমিক ৫ শতাংশ।
দেশের আরেক পুঁজিবাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) নির্বাচিত সূচক সিএসসিএক্স গতকাল ৫২২ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১০ হাজার ১৩২ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ৯ হাজার ৬১০ পয়েন্ট। সিএসইর সব শেয়ারের সূচক সিএএসপিআই গতকাল ৮৬২ পয়েন্ট বা ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১৬ হাজার ৮০০ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ১৫ হাজার ৯৩৮ পয়েন্টে। এদিন এক্সচেঞ্জটিতে লেনদেন হওয়া ২৮৫টি কোম্পানি ও মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে দর বেড়েছে ২৪৪টির, কমেছে ৩১টির আর অপরিবর্তিত ছিল ২১টির বাজারদর। গতকাল সিএসইতে ২২ কোটি ৬৯ লাখ টাকার সিকিউরিটিজ হাতবদল হয়েছে, আগের কার্যদিবসে যা ছিল ২২৫ কোটি ১৬ লাখ টাকা।










