বাংলাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে এক লাখ স্কুলে লাইব্রেরি স্থাপন করতে চায় ‘লাইট অব হোপ’-এর পড়ুয়া কর্মসূচি। সংস্থাটি আগামী ১০ বছরের মধ্যে দেশের সব সরকারি-বেসরকারি প্রাথমিক স্কুল ও মাদ্রাসায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে চায়।
শিশুদের পড়ার দক্ষতা উন্নত করতে ও সৃজনশীলতা বাড়াতে প্রাথমিক পর্যায়েই পাঠ্যবইয়ের বাইরে বই পড়ার সুযোগ তৈরি করা জরুরি। একটি জাতীয় দৈনিকের প্রতিবেদনে উঠে আসে, দেশের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থী ঠিকমতো পড়তে পারে না। এ বাস্তবতা পরিবর্তন করতেই লাইট অব হোপ ২০১৫ সাল থেকে ‘পড়ুয়া’ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে।
এ পর্যন্ত দেশের ৬০০টিরও বেশি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে লাইব্রেরি স্থাপন করা হয়েছে। এসব লাইব্রেরিতে প্রায় দুই লাখ বই ও পাঠ সহায়ক উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে, যা থেকে আড়াই লাখ শিশু বই পড়ার সুযোগ পাচ্ছে। শিশুদের মধ্যে পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলার মাধ্যমে তারা জ্ঞান-বিজ্ঞান, নৈতিকতা ও সৃজনশীলতা সম্পর্কে সমৃদ্ধ হবে বলে মনে করছে লাইট অব হোপ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাথমিক স্তরের শিশুরা যদি তাদের গ্রেড অনুযায়ী বাংলা পড়তে পারে, তাহলে সেটি দেশের অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। গবেষণায় দেখা গেছে, প্রতি ১০০ টাকা বিনিয়োগ করে শিশুদের বই পড়ার সুযোগ দেয়া হলে, তার রিটার্ন আসে ৪ হাজার ৭০০ শতাংশ। অর্থাৎ এ উদ্যোগ দেশের জিডিপিতেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে।
লাইট অব হোপ মনে করে, একজন শিশু যদি প্রতি সপ্তাহে একটি বই পড়ে, তাহলে প্রাথমিক স্তরে পড়াশোনা শেষ করার আগেই সে ২০০টি বই পড়ার সুযোগ পাবে। এসব বই নানা বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে বাছাই করা হয়, যাতে শিশুদের মধ্যে মূল্যবোধ, ইতিহাস, বিজ্ঞানমনস্কতা ও সৃজনশীলতা তৈরি হয়।
পড়ুয়া কর্মসূচির আওতায় শিশুরাই নিজেদের স্কুল লাইব্রেরি পরিচালনা করবে। শিশুদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দিয়ে লাইব্রেরি ম্যানেজমেন্ট শেখানো হয়। পাশাপাশি বই সংরক্ষণের জন্য বিশেষ তহবিল গঠন করা হয়, যাতে পরবর্তী বছরগুলোতে নতুন বই সংযোজন করা সম্ভব হয়।
এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সাজেদা ফাউন্ডেশন, লিলি চ্যারিটিজ, এশিয়া ফাউন্ডেশনের লেটস রিড, আইপিডিসি এবং ওয়াইজিএপির মতো করপোরেট ও অলাভজনক সংস্থাগুলো সহায়তা করছে। এছাড়া শত শত ব্যক্তি নতুন ও পুরনো বই অনুদান দিয়ে এই উদ্যোগে যুক্ত হচ্ছেন।
লাইট অব হোপের প্রতিষ্ঠাতা, জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত উদ্যোক্তা ওয়ালিউল্লাহ ভূঁইয়া বলেন, বাংলাদেশে প্রায় ১ লাখ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে যেখানে প্রাথমিক স্তরের শিশুরা পড়াশোনা করে। আগামী ১০ বছরের মধ্যে আমরা কৌশলগত অংশীদারত্বের মাধ্যমে সব স্কুল ও মাদ্রাসায় লাইব্রেরি স্থাপন করতে চাই।
এ উদ্যোগে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান যে কেউ অনুদান দিয়ে কিংবা নতুন-পুরনো বই দান করে যুক্ত হতে পারেন। বিস্তারিত জানা যাবে পড়ুয়ার ওয়েবসাইটে (**https://lightofhopebd.com/porua-the-reader/**)।
—বিজ্ঞপ্তি









