গত সোমবার গণবিক্ষোভের মুখে পদত্যাগের পর দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। পতন হয় দীর্ঘ ১৫ বছরের আওয়ামী সরকারের। এ অবস্থায় গতকাল থেকেই সব অফিস-আদালত, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেয়া হয়। লেনদেন শুরু হয় পুঁজিবাজারেও। গতকাল আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর প্রথম কার্যদিবসে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানসহ আরো দুই কমিশনার অফিসে উপস্থিত ছিলেন না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
বিএসইসি সূত্র জানিয়েছে, সংস্থাটির চেয়ারম্যান অধ্যাপক শিবলী রুবাইয়াত-উল-ইসলাম কানাডা থেকে সম্প্রতি দেশে ফিরেছেন। গত রোববার কমিশন সভা থাকলেও সেটি স্থগিত করা হয়। এর মধ্যে গত সোমবার দেশব্যাপী কারফিউ জারি করার কারণে পুঁজিবাজারে লেনদেন ও বিএসইসির দাপ্তরিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। একদিন বিরতির পর গতকাল থেকে পুরনায় অফিস খোলার পর সংস্থাটির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত হয়েছেন। তবে এদিন বিএসইসিতে আসেননি সংস্থাটির চেয়ারম্যান। পাশাপাশি কমিশনার অধ্যাপক ড. শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ ও মো. মহসিন চৌধুরীও এদিন অফিস করেননি। আরেক কমিশনার ড. রুমানা ইসলাম স্বল্প সময়ের জন্য গতকাল অফিসে এসে পরে বেরিয়ে যান। আরেক কমিশনার ড. এটিএম তারিকুজ্জামান পুরো সময়ই অফিস করেছেন। চেয়ারম্যান ও অধিকাংশ কমিশনার অনুপস্থিত থাকায় এদিন বিএসইসিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অনেকটাই অলস সময় কাটিয়েছেন। তাছাড়া হামলা হতে পারে এমন আতঙ্কের কারণে দুপুরের দিকে কেউ কেউ অফিস থেকে বেরিয়ে যান।
প্রসঙ্গত, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গতকাল সচিবালয়সহ সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীরা সারা দিন আতঙ্কের মধ্যে ছিলেন। বিশেষ করে বিভিন্ন সরকারি অফিসে হামলা ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তাদের মধ্যে আতঙ্ক দেখা গেছে। গতকাল সচিবালয়ে আগুনের গুজবের কারণে দুপুর ১২টা থেকে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অফিস ত্যাগ করতে থাকেন। বিকালের আগেই ফাঁকা হয়ে যায় পুরো সচিবালয়।










