সার্বিক বিবেচনায় ভয়াবহ রকম বিপর্যস্ত বাংলাদেশের পরিবেশ ও জলবায়ু। বিশেষ করে রাজধানীবাসী পরিবেশজনিত সমস্যার মোকাবেলা করতে গিয়ে প্রতি বছরই নতুন নতুন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছে। পরিবেশ নিয়ে দীর্ঘদিন কাজ করছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা)। সমসাময়িক পরিস্থিতি নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেছেন সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আল ফাতাহ মামুন

পরিবেশ নিয়ে এখনো বেশির ভাগ দাবিই উপেক্ষিত থাকছে—এ প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে পরিবেশ আন্দোলনের সঙ্গে সরাসরি জড়িত একজন মানুষ হিসেবে সফলতা-ব্যর্থতা মূল্যায়ন করবেন কীভাবে?

যখন আন্দোলন করা যায় না, যখন বিরুদ্ধ মত প্রকাশ দুরূহ হয়ে পড়ে, যখন উন্নয়ন চাপিয়ে দেয়া হয় তখন বেঁচে থাকাটাই আন্দোলনের জন্য সাফল্য। এ আন্দোলনগুলো যে এখনো বেঁচে আছে তা-ই অনেক বড় অর্জন। আন্দোলন করে আমরা কী অর্জন করেছি—যদি সেই বিচারে আপনি সফলতা মাপতে চান, তাহলে বৈরী পরিস্থিতির অনুকূলে অর্জন নেহাতই কম নয়। বিপরীত কাজ করলেও কোনো রাজনৈতিক দল তার নির্বাচনী ম্যানিফেস্টোতে এ কথাটা বলতে পারছে না যে নদী এত চওড়া রেখে লাভ নেই, ছোট করে ফেলি, প্লট বানাই। তাকে বলতে হচ্ছে সে নদী রক্ষা করবে, শিল্পদূষণ রোধ করবে, পাহাড়-বন বাঁচাবে। ঢাকার বুড়িগঙ্গা রক্ষার আন্দোলন দিয়ে নদী রক্ষার যে আন্দোলন শুরু হয়েছে তা জেলায় জেলায় ছড়িয়ে পড়েছে। আপনার কাছে কি এমন কোনো জেলার নাম আছে যে জেলায় স্থানীয়রা নদী রক্ষায় আন্দোলন করছে না। এটিই তো বড় সাফল্য। মানুষকে অনুপ্রাণিত করা গেছে, সংযুক্ত করা গেছে, তার মাত্রা আরো ব্যাপক হতে হবে, তবে শুরুটা বেশ জোরালো হয়েছে আর যাত্রাও বেশ দৃঢ়তার সঙ্গেই চলছে। প্রকৃত অর্থে আন্দোলনের ব্যাপ্তি ও বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে সব সময় না মিললেও প্রত্যেকটি জায়গায় মানুষ নদী রক্ষার জন্য সংগঠিত হচ্ছে, কিছু কিছু জায়গায় অনেক বিস্তারিত কাজ করছে, নদীবিরুদ্ধ কাজে বাধা দিচ্ছে, এগুলোও তো সফলতা। এখন যদি কেউ কক্সবাজার সৈকতে হোটেল করতে যায়, সে বাধার মুখে পড়ে। কক্সবাজারে বন কেটে ফিফার ট্রেনিং সেন্টার করতে যায়, বাধার মুখে পড়ে। ৭০০ একর বন কেটে যদি ক্ষমতাধর আমলাদের জন্যপ্রশিক্ষণ কেন্দ্র করতে চায়, তখনো বাধার মুখে পড়ে। এগুলো কী সফলতা নয়? 

দেশে যদি পরিবেশ আন্দোলন না থাকত তাহলে চিত্রটা কেমন হতো তা যদি ভেবে দেখেন তাহলেই পরিবেশ আন্দোলনের প্রয়োজনীয়তা বোঝা যাবে। শুধু নদী নয় বন, পাহাড়, বিশুদ্ধ বাতাস, নিরাপদ খাদ্যসহ নানা বিষয়ে পরিবেশ রক্ষার দাবি জনদাবিতে পরিণত হয়েছে, এটিই বাস্তবতা। সর্বশেষ যে ধানমন্ডির সাত মসজিদ এলাকার সড়ক বিভাজকে গাছ কাটা নিয়ে তরুণদের আর এলাকাবাসীর প্রতিবাদ দেখলেন, সেখানে তরুণরা রাত জেগে ৩৭টি গাছ কাটা ঠেকিয়ে দিয়েছে। আপনি বলতে পারেন যে ৬০০ গাছ কাটা হয়েছে, ৩৭টা গাছ রেখে লাভ কী? লাভটা হচ্ছে, নগর প্রশাসনকে মানতে হলো, গাছকাটা নগরবাসী সহজ চোখে দেখে না। যারা ৬০০ গাছ কেটে ফেলতে পারে, তারা ৩৭টি গাছ কাটতে পারছে না কেন? কেন তারা এখানে তাদের ক্ষমতা দেখাতে পারছে না। উত্তর হচ্ছে এই প্রক্রিয়া আন্দোলনকারীদের ক্ষমতায়িত করেছে আর পরিবেশ বিনষ্টকারীদের দুর্বল ভিতকে নাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে ৬০০ গাছ কাটা ক্ষমতাধর মানুষগুলো এখন আর ৩৭টি গাছ কাটতে পারছে না। অন্যায়ের বিরুদ্ধে জনগণের এ ক্ষমতায়নই পরিবেশ ধ্বংসের সব অপচেষ্টাকে রুখে দেবে। উন্নয়নের কেন্দ্রে পরিবেশকে না রাখা, উন্নয়নের নামে মানুষের সুস্থ পরিবেশের অধিকারকে অবমূল্যায়ন করা, মানুষের মতামতকে বিসর্জন দিয়ে বা মানুষকে সম্পৃক্ত না করে চাপিয়ে দেয়া উন্নয়নের বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিরোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 

আজকে যে ধানমন্ডির সড়ক বিভাজকে ১৫-২০ বছরের বড় গাছ কেটে ফুল গাছ লাগানো হয়েছে এবং তাকে কেন্দ্র করে যে অসন্তোষ, তা কি নগর পরিকল্পনায় যারা আছেন তাদের কাছে একটি বার্তা পৌঁছায়নি? এখানেই আন্দোলনের সাফল্য। আজ দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের অপরিণামদর্শী প্রকল্পের এ পরিণতি দেখে উত্তর সিটি করপোরেশন কঠোর অবস্থানে গেছে। তারা গাছ কাটবে না, এটাই সফলতা। আরো বড় আশার জায়গা হলো তরুণদের সম্পৃক্ততা, সাহসিকতা আর প্রত্যয়। তাদের দেখে দেশের মানুষ আশান্বিত হয়েছে, এ আন্দোলন জনগণের মন ছুঁয়ে গেছে। বিভিন্ন জায়গায় গাছকাটা প্রতিরোধে জনগণ সোচ্চার আর সংগঠিত হচ্ছে। দেরিতে হলেও সরকার আমাদের দাবিগুলো গুরুত্বের সঙ্গে নেয়ার চেষ্টা করছে।

আমাদের সব দাবি পূরণ হয় না, বেশির ভাগ দাবিই উপেক্ষিত থেকে যায়, কিন্তু আমাদের দাবির সঙ্গে জনগণকে সম্পৃক্ত করতে পেরেছি, হার না মানা এক অসম যুদ্ধে লিপ্ত আছে পরিবেশবাদীরা—এটাই তাদের সফলতা। আমাদের চ্যালেঞ্জগুলো দেশের সামগ্রিক গণতন্ত্রায়ণ ও সুশাসনের সঙ্গে জড়িত। সেখানে আমাদের অনেক সীমাবদ্ধতা।

দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে বারবার ইউরোপ-আমেরিকার উদাহরণ দেয়া হয়। অথচ বহির্বিশ্বে এখন পরিবেশ রক্ষা করে উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ হয়। পরিবেশের বেলায় কেন ইউরোপ-আমেরিকার উদাহরণ দেয়া হয় না?

আমাদের এখানের উন্নয়ন অনেক সময়ই জনগণের প্রকৃত চাহিদা বিবেচনা করে করা হয় না। যে উন্নয়ন জনগণকে কেন্দ্র করে করা হয় সে উন্নয়ন প্রকল্প নেয়ার আগে জনগণকে জিজ্ঞাসা করা হবে না কেন? জনগণ ভিন্ন মত দিতে গেলেই বলা হয় তারা উন্নয়নের বিরোধিতা করছে। আমাদের দাবি হলো, জনগণকে সম্পৃক্ত করে, জনগণের মতামত নিয়ে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করুন। সেটি না করে কিন্তু বেশির ভাগ সময়ই উন্নয়ন চাপিয়ে দেয়া হচ্ছে। যেমন ধরুন মেট্রোরেল। আমি মেট্রোরেলের জন্য করদাতা এবং এর একজন গর্বিত অংশীদার হলেও আমার মতামত নেয়া হলে এত টাকা দিয়ে ঋণ নিয়ে মেট্রোরেল না করে বরং প্রথমে বাস সিস্টেমকে শৃঙ্খলায় আনতে বলতাম। পৃথিবীতে অনেক উন্নয়নশীল দেশ আছে যেখানে মেট্রোরেল হওয়ার আগে তারা বাস সিস্টেমকে ঢেলে সাজিয়েছে। আপনি যদি বাস সিস্টেমের শৃঙ্খলা আনতে ব্যর্থ হন তাহলে এত ব্যয়বহুল মেট্রোরেল জনপ্রিয় করতে পারবেন কিনা আর জনগণ এতটা টাকা ঋণ পরিশোধ করতে সক্ষম হবে কিনা সেগুলোও বড় প্রশ্ন হয়ে দেখা দেবে। আমাদের দেশে বলা হয়, চীন আগে উন্নয়ন করেছে, পরে পরিবেশ নিয়ে মনোযোগী হয়েছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, জাপান এরা আগে উন্নয়ন করেছে, পরে পরিবেশ নিয়ে কাজ করেছে। কথা সত্য। তবে তারা যখন উন্নয়ন করেছে তখন পরিবেশ বিষয়ে এত উদ্বেগের কারণ ছিল না। তাদের কাজের কেমন প্রভাব পড়বে পরিবেশের ওপর, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণাও হয়তো অনেক ক্ষেত্রেই ছিল না। কিন্তু আজ জলবায়ু পরিবর্তনের এ যুগে তো উন্নত বিশ্বের প্রাথমিক উন্নয়ন মডেলের যুক্তি দিয়ে পার পাওয়া যাবে না। তারা যখন জীবাশ্ম জ্বালানি পুড়িয়েছে, তখন এর পরিণাম কী হবে সবাই জানত না। তখন সৌর, বায়ু বা জলবিদ্যুৎ বিকল্প হিসেবে জনপ্রিয় ছিল না, সহজলভ্য ছিল না। আজকের বাস্তবতা তো ভিন্ন। আমরা আজ সমস্যাটি জানি। আমাদের কাছে টেকসই আর পরিবেশবান্ধব। সেক্ষেত্রে উন্নয়ন আর পরিবেশকে অনর্থক মুখোমুখি দাঁড় করানোটা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এ কাজ তখনই করা হয়, যখন উন্নয়নের মধ্যে কেউ কেউ ব্যক্তি স্বার্থের উন্নতি খোঁজে। যদি উন্নয়ন হয় জনগণের জন্য, তাহলে জনগণের মতামত যাচাই করে উন্নয়ন করা হবে। জনগণ যদি বলে পাহাড় কেটে রাস্তা করে দিন, তাহলে করে দেবেন। জনগণ সে কথা কখনো বলবে না। জনগণ বলবে পাহাড়টি বাঁচিয়ে রেখে কী করে রাস্তা করা যায় বিবেচনা করেন। এই কয়দিন আগেই আমাদের একটা অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র বললেন, যে কারণে আকবরশাহর এত বড় পাহাড় কেটে ফেলা হলো, ওই পাহাড়টা না কেটেও এ রাস্তাটা করা যেত। জনগণকে সঙ্গে নিলে সুবিধা হলো—প্রথমত, জনগণের টাকা যে উন্নয়নে ব্যবহার করা হচ্ছে তার ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা সৃষ্টি হয়। দ্বিতীয়ত, জনগণের প্রজ্ঞা উন্নয়ন প্রকল্পকে সমৃদ্ধ করতে পারে। তৃতীয়ত, প্রকল্পের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে, আর বিরোধিতা কমে যায়। জনগণ কখনো তার বাতাস-পানি বিষাক্ত করে, নদী দূষিত করে, কৃষিজমি ভারী ধাতু দিয়ে ভরে উন্নয়ন চাইবে না। আমরা পরিবেশ ও উন্নয়নকে অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করার জন্য মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছি। কিন্তু পৃথিবীতে এমন মডেলের অভাব নেই যা দিয়ে পরিবেশ রক্ষা করেই উন্নয়ন করা হয়েছে আর হচ্ছে। পৃথিবীতে কি এ ধরনের মডেলের অভাব আছে, যেখানে দূষণ না করেই ট্যানারি করা সম্ভব হয়েছে? এমন মডেলের অভাব আছে যেখানে পাহাড় না কেটেই রাস্তা করা সম্ভব হয়েছে? সেসব মডেল আমরা দেখব না। আমরা পাহাড়টা কেটে কেমন করে কন্ট্রাক্টরকে টাকা দেয়া যায়, সেই কন্ট্রাক্টর পাহাড়ের মাটি দিয়ে বিল ভরে সেখানে আবার কীভাবে লাভবান হতে পারে—আমরা সে উন্নয়নের রূপরেখায় আটকে আছি। সেজন্য পরিবেশ রক্ষায় আমরা উন্নত বিশ্বের বা উন্নয়নশীল বিশ্বের ভালো দৃষ্টান্তগুলো নিই না। আমাদের নেতারা, নীতিনির্ধারকরা কেবল কত যানবাহনের জন্য কত রাস্তা প্রয়োজন সে হিসাব করেন, কিন্তু কত মানুষের জন্য কী পরিমাণ গাছ আর জলাশয় প্রয়োজন সে কথা বলেন না। 

একদিকে ঢাকার আবহাওয়া উত্তপ্ত হচ্ছে, অন্যদিকে কমছে সবুজ। এর মধ্যেই ঢাকার দুই সিটি গাছ কেটে সৌন্দর্য বৃদ্ধি করছে। ঢাকার সবুজ বাড়ানোর ক্ষেত্রে দুই সিটি করপোরেশন আসলে কোন পথে হাঁটছে বলে মনে করেন?

মাত্র ক’দিন আগেই বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব প্ল্যানার্সের (বিআইপি) একটি গবেষণায় দেখা গেল, গত আট বছরে ঢাকার সবুজ কমেছে সবচেয়ে বেশি। ২৮ বছরে জলাশয় কমেছে ৮৬ শতাংশ। একই সময়ে সবুজ কমেছে ৪৩ শতাংশ। ২৮ বছরে ঢাকা শহরে জনসংখ্যা কত বেড়েছে? এসব মানুষের কি শুধু বাসা হলেই চলবে? রাস্তা হলেই চলবে? গাড়ি হলেই চলবে? নাকি তাদের নিশ্বাস নেয়ার জন্য বাতাসও লাগবে, ছেলেমেয়েদের খেলাধুলার জন্য মাঠ আর পার্কও লাগবে, পানিও লাগবে? ঢাকার ভূগর্ভস্থ পানি মারাত্মক মাত্রায় নেমে গেছে। ভূ-উপরিস্থ পানি কমে গেলে ভূগর্ভস্থ পানি তো নেমে যাবেই। আমরা নির্বিচারে জলাশয় ভরছি আবাসন আর শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য। সাতটি নদীর শহরকে আমরা কারবালা বানিয়ে দিচ্ছি। অনুভূতি আর প্রাণহীন করে ফেলছি নগরটিকে। এখানে গাছ কাটার সময় কেউ পাখিদের কথা ভাবছে না, দরিদ্র মানুষের ছায়ায় দাঁড়ানোর প্রয়োজনকে অস্বীকার করছে। বায়ুদূষণ থেকে শিশুদের মুক্তি দিতে বিশুদ্ধ বাতাসের আয়োজন করছে না। 

আমার কাছে মনে হয়, ঢাকা একটি অভিভাবক ও দর্শনবিহীন নগর। ঢাকাকে বাঁচানোর কারো কোনো চেষ্টা নেই। প্রকৃতির কোনো যত্ন না করে বরং সমস্যা সমাধানে কেবল হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হয়। প্রথমে চুপ করে দেখা হয় খালটি ভরে যাচ্ছে, তারপর দেখা হচ্ছে প্রথমে বুড়িগঙ্গার পর ধলেশ্বরীর মৃত্যু। সব যখন শেষ, তখন এগুলো দূষণমুক্ত আর দখলমুক্ত করতে হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের ঘোষণা আসছে। আপনি দেখবেন বুড়িগঙ্গার আদি চ্যানেল মেরে ফেলা হলো। তারপর এটিকে উদ্ধারে হাজার কোটি প্রকল্প এল। 

প্রকল্প দিয়ে ঢাকা শহরকে বাঁচানো যাবে না। ঢাকাকে বাঁচাতে হলে এর জনঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। জনঘনত্ব নিয়ন্ত্রণ বলতে আমি বোঝাতে চাচ্ছি ঢাকার আশপাশের গাজীপুরে, কেরানীগঞ্জে, সাভারে, নারায়ণগঞ্জে পরিকল্পিত নগরায়ণের মাধ্যমে জনবসতি ছড়িয়ে দেয়া। কলকারখানা, গার্মেন্টসগুলো পরিকল্পনা করে সময় নিয়ে সরিয়ে দিলে তবেই ঢাকার ওপর চাপ কমবে এবং অন্যান্য এলাকায় উন্নয়নও হবে। কিন্তু সে সময়ও হয়তো পার হয়ে যাচ্ছে। সেসব এলাকায়ও ভূমিদস্যুদের হাত পড়েছে। এখন সরকার বেছে নিয়েছে কক্সবাজার। যা কিছু উন্নয়ন হয় সব কক্সবাজারে হতে হবে। ফুটবল খেলার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র কেন কক্সবাজারে হতে হবে? কক্সবাজার কি ফুটবল খেলার ঐতিহ্য ধারণ করে নাকি সেখানের লোকেরা সবচেয়ে ভালো ফুটবল খেলে? এজন্য কক্সবাজারে একটা পুরো পাহাড় আর ৩০ হাজার গাছের বন কেন উজাড় করতে হবে? 

নগরবাসীর শুধু বাসা, রাস্তা, হাসপাতাল, স্কুল, কলেজ এসবেরই প্রয়োজন হয় না। তাদের সবুজ আর নীলেরও প্রয়োজন হয়। এগুলোরও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড আছে যা নিয়ে কোনো সরকার কথা বলে না। ঢাকার ভূমিকে খনি বানানো হয়েছে আর এ খনি দখলে নিচ্ছে ভূমিদস্যুরা। ঢাকাকে বাঁচাতে হলে দর্শন প্রয়োজন, প্রয়োজন ঢাকাকে চাপমুক্ত-ভারমুক্ত আর লোভমুক্ত করা।