সিলিকন ভ্যালি, ওয়াল স্ট্রিট ও যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলীয় গণমাধ্যমের মালিকরা ট্রাম্পবাদকে নিছক কোনো রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে নয়, বরং বিবেচনা করেছিলেন পুরো সাংস্কৃতিক পরিবর্তন হিসেবে। তাদের ধারণা ছিল সমাজের সামগ্রিক অবস্থা ডানপন্থার দিকে মোড় নিচ্ছে। কিন্তু তাদের এ ধারণা ভুল প্রমাণ হয়েছে। মঙ্গলবারের নির্বাচনে জনগণ প্রেসিডেন্টকে প্রত্যাখ্যান করেছে। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে, ইলোন মাস্কের মতো অতিধনী দাতারা ট্রাম্পের প্রতিনিধি ও সমর্থকদের পেছনে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছেন, কিন্তু শ্রমজীবী ​​ও মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষ তাতে সাড়া দেয়নি।

নির্বাচন বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণ, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার সামর্থ্য ধরে রাখতে সাধারণ আমেরিকানদের যে সংগ্রাম করতে হচ্ছে, তা এখন সব ইস্যুকে ছাড়িয়ে গেছে। এমন সময়ে শ্রেণীগত বাস্তবতাই সামনে চলে আসে। এসবের পেছনে রয়েছে একটি গাড়িনির্ভর সমাজে পেট্রলের চড়া দাম, ডিম থেকে শুরু করে মাংসের কিমার মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামের ব্যাপক ওঠানামা ও বাড়ি ভাড়া বৃদ্ধি।

এগুলো নিয়ে অস্বস্তিতে থাকা ব্যক্তিরা হয়তো এসবকে ‘অর্থনৈতিক সমস্যা’ বা ‘ক্রয়ক্ষমতা’ বলে কিছুটা হালকাভাবে প্রকাশ করতে চাইবে। কিন্তু মনে রাখা দরকার, গত বছরের এ সময়েই জোহরান মামদানি জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সংকটের বিষয়কে সোশ্যাল মিডিয়ার মিম থেকে নির্বাচনে জয়লাভের কর্মসূচিতে রূপান্তর করেছিলেন।

[দ্য গার্ডিয়ানের এক নিবন্ধে]

আদিত্য চক্রবর্তী: আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমটির জ্যেষ্ঠ অর্থনীতি বিশ্লেষক