মেরিন ট্যারিফ (কার্গো) রেটের তুলনায় কম প্রিমিয়ামে বীমা পলিসি ইস্যু করার অভিযোগে বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি (বিজিআইসি) পিএলসি ও গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স পিএলসির মেরিন কার্গো বীমা ব্যবসা তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ (আইডিআরএ)। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠান দুটির মেরিন কার্গো উপশ্রেণীর নিবন্ধন কেন স্থগিত করা হবে না সে বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। আইডিআরএর ৫ নভেম্বরের পৃথক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেয়া হয়।
চিঠিতে বলা হয়, ২ নভেম্বর প্রতিষ্ঠান দুটির প্রধান কার্যালয়ে আইডিআরএর পরিদর্শক দলের সরজমিনে পরিদর্শনে ২০২৬ সালে বীমা পলিসি ইস্যুর ক্ষেত্রে বিভিন্ন বীমাগ্রহীতাকে নির্ধারিত মেরিন ট্যারিফ রেটের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে কম প্রিমিয়াম দেয়ার বিষয়টি উঠে আসে। নির্ধারিত রেটের তুলনায় কম প্রিমিয়ামে বীমা পলিসি ইস্যুর এ কার্যক্রম বীমা আইন ২০১০-এর ৬০ ধারা এবং আইডিআরএর জারি করা নন-লাইফ বীমা সার্কুলার ৮/২০২১-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে কর্তৃপক্ষ।
এ পরিপ্রেক্ষিতে বীমা আইন ২০১০-এর ১০(১) ধারা অনুযায়ী, প্রতিষ্ঠান দুটির মেরিন কার্গো উপশ্রেণীর নিবন্ধন কেন স্থগিত করা হবে না, তা জানতে চেয়ে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে আইডিআরএ। ৩০ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে জবাব দাখিল করতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বীমা আইন ২০১০-এর ৬০ ধারা ও আইডিআরএর সংশ্লিষ্ট সার্কুলারের আওতায় প্রতিষ্ঠান দুটির মেরিন কার্গো বীমা ব্যবসা তিন মাসের জন্য স্থগিত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, ২০২৫ হিসাব বছরে গ্রীন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্সের মোট আয় হয়েছে ১৮১ কোটি টাকা, যেখানে বিনিয়োগ থেকে আয়ের পরিমাণ ছিল ৬৩ কোটি ও বীমা ব্যবসা থেকে আয় ছিল ১১৮ কোটি টাকা। কোম্পানিটির সবচেয়ে বেশি আয় এসেছে নৌ বীমা থেকে, যার পরিমাণ ৫৪ কোটি টাকা। এছাড়া কোম্পানিটি অগ্নি ইন্স্যুরেন্স থেকে ৪৬ কোটি, মোটর বীমা থেকে ৪ কোটি ও বিবিধ বীমা থেকে ১২ কোটি টাকা আয় করেছে।
অন্যদিকে ২০২৫ হিসাব বছরে বিজিআইসির মোট আয় হয়েছে ২১ কোটি টাকা, যেখানে সবচেয়ে বেশি আয় এসেছে নৌ বীমা থেকে, যার পরিমাণ প্রায় ৭ কোটি টাকা। এছাড়া কোম্পানিটির মোটর বীমা থেকে ১ কোটি ও বিবিধ বীমা থেকে প্রায় ৪ কোটি টাকা আয় হয়েছে।










