এশিয়ার চালের বাজারে গত সপ্তাহে দেখা গিয়েছে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা। বিশেষ করে ভিয়েতনামে চালের দাম বেড়ে গত বছরের জানুয়ারির পর সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। স্থানীয় বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং নতুন ফসল উৎপাদন নিয়ে অনিশ্চয়তা এ মূল্যবৃদ্ধির কারণ। পাশাপাশি ফিলিপাইনের কাছ থেকে নতুন করে চাহিদা তৈরির সম্ভাবনাও বাড়াচ্ছে দাম। অন্যদিকে ভারত ও থাইল্যান্ডে রফতানি মূল্য স্থিতিশীল রয়েছে। আগামী বছর এল নিনোর প্রভাবে চাল উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও করছেন ব্যবসায়ীরা। খবর বিজনেস রেকর্ডার ও দ্য বিজনেসলাইন।

ভিয়েতনামে গত সপ্তাহে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চাল লেনদেন হয়েছে টনপ্রতি ৪৭০-৪৮০ ডলারে, আগের সপ্তাহে এ যা ছিল ৪৪০-৪৫০ ডলার। দেশটির হো চি মিন সিটির এক ব্যবসায়ী জানান, স্থানীয় বাজারে চালের সরবরাহ কম।

ভিয়েতনামে শরৎ-শীত মৌসুমের ধান কাটা শুরু হবে নভেম্বরের শেষ দিকে। ব্যবসায়ীদের ধারণা, এ মৌসুমে উৎপাদন গ্রীষ্ম-শরৎ মৌসুমের তুলনায় অর্ধেক হতে পারে। ফলে আগামী কয়েক সপ্তাহে সরবরাহ আরো কমার আশঙ্কা রয়েছে, যা দাম বাড়ার ক্ষেত্রে প্রভাবকের কাজ করবে।

অন্যদিকে বাজারে প্রভাব ফেলছে ফিলিপাইনের সম্ভাব্য চাহিদাও। আগামী মাস থেকে দেশটি আবার ভিয়েতনাম থেকে চাল কেনা শুরু করতে পারে। এতে সরবরাহের ওপর চাপ বাড়বে। ব্যবসায়ীদের ধারণা, ফিলিপাইন কেনাকাটা শুরু করলে আগামী মাস থেকে চালের দাম আরো বাড়বে।

এদিকে আগামী বছর এল নিনোর প্রভাবে চাল উৎপাদন কমতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন ব্যবসায়ীরা। এতে এশিয়ার বাজারে সরবরাহ পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে।

ভারতে অবশ্য চালের রফতানি মূল্য গত সপ্তাহে অপরিবর্তিত ছিল। দেশটির ৫ শতাংশ খুদযুক্ত সেদ্ধ চাল লেনদেন হয় টনপ্রতি ৩৮৭-৩৯২ ডলারে। ৫ শতাংশ খুদযুক্ত সাদা চালের দাম ছিল ৩৮৯-৩৯৪ ডলার। দেশটির উত্তরাঞ্চলের রাজ্যগুলোতে নতুন মৌসুমের ধান বাজারে আসতে শুরু করেছে। আগামী মাস থেকে মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলেও সরবরাহ বাড়বে বলে জানিয়েছেন কলকাতার এক রফতানিকারক। তুলনামূলক কম দামের কারণে আফ্রিকার কয়েকটি বাজারে ভারতীয় চালের চাহিদা এখনো বেশি।

থাইল্যান্ডে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের দাম প্রতি টন ৪৮০ ডলারে স্থির রয়েছে। দেশটির মুদ্রা বিনিময় হার ও স্থানীয় বাজারে বেশি দামের কারণে রফতানি মূল্য ধরে রেখেছেন ব্যবসায়ীরা। ফিলিপাইনসহ নিয়মিত ক্রেতাদের কাছে কিছুটা চাহিদা থাকলেও আফ্রিকার অনেক আমদানিকারক কম দামের ভারতীয় চাল কিনছেন।

অন্যদিকে থাইল্যান্ডের কয়েকটি অঞ্চলে বন্যায় চালের সরবরাহ নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। দেশটিতে বর্তমানে ধান কাটার মৌসুম চলছে। বন্যার কারণে ফসল সংগ্রহ ও সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।