ক্যাঙ্গারু ও অস্ট্রেলিয়ার সমার্থক ভাবা হয় সারাবিশ্বে। দেশটির জাতীয় বিমান সংস্থাসহ বিভিন্ন লোগোতে শোভা পায় প্রাণীটির ছবি। এত ভালোবাসা সত্ত্বও প্রতি বছর লাখে লাখে ক্যাঙ্গারু হত্যা করা হয়। তাও আবার সরকারের দেয়া লাইসেন্সের মাধ্যমে ঘটে।

এই হত্যাযজ্ঞের কারণ হিসেবে সরকার ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞরা বলে আসছে, কিছু প্রজাতির ক্যাঙ্গারুর বংশবৃদ্ধি ঘটে প্রচুর পরিমাণে। যা ভূমি, অন্যান্য স্থানীয় প্রজাতির জন্য ক্ষতিকর।

সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানায়, ক্যাঙ্গারুর এই দলগত হত্যার বিরুদ্ধে বরাবরই একজোট প্রাণী অধিকারকর্মীরা। সম্প্রতি প্রধান দুই আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সামগ্রী প্রস্তুতকারক ক্যাঙ্গারুর চামড়া ব্যবহার না করার ঘোষণায় তারা ভীষণ খুশি।

নমনীয়তা ও টিকে থাকার গুণের কারণে কয়েক দশক ধরে কে-লেদার নামে পরিচিত ক্যাঙ্গারু চামড়া ফুটবল বুট প্রস্তুতকারকদের খুবই পছন্দের।  কিন্তু চলতি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের নাইকি ও তাদের জার্মান প্রতিদ্বন্দ্বী পুমা ঘোষণা দিয়েছে, তারা ক্যাঙ্গারু চামড়া পর্যায়ক্রমে বাদ দিচ্ছে। এর বদলে ব্যবহার হবে সিন্থেথিক।

কোনো কোম্পানিই বিবৃতিতে পশু অধিকার সংক্রান্ত সমস্যার উল্লেখ করেনি। এমনকি এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য অনুরোধেও সাড়া দেয়নি। কিন্তু প্রাণী অধিকার গোষ্ঠীগুলো বছরের পর বছর লবিংয়ের পর জয় হয়েছে বলে দাবি করছেন।

ক্যাঙ্গারু নিধনের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ। ছবি: সিএনএন

ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও যুক্তরাষ্ট্রে ক্যাঙ্গারু পণ্যের আমদানি নিষিদ্ধের জন্য তদবিরকারী কর্মীদের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের অংশ ক্যাম্পেইন গ্রুপ ক্যাঙ্গারুস অ্যালাইভ। এই সংস্থার কর্মী মিক ম্যাকইনটায়ার বলেন, এটি ক্যাঙ্গারুদের জন্য একটি দুর্দান্ত দিন।

সরকারি কর্মসূচির অধীনে, লাইসেন্সপ্রাপ্ত শিকারীরা প্রতি কিলোগ্রাম ক্যাঙ্গারুর জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ পেয়ে থাকেন। প্রক্রিয়াজাত ক্যাঙ্গারুর মাংস ও চামড়া ৭০টি দেশে রফতানি হয়। এই শিল্পে বার্ষিক আয়ের পরিমাণ ১৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার।

ক্যাঙ্গারু আমদানি নিষিদ্ধ করার জন্য ২০২১ সালে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে একটি বিল উত্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু এটি পাস পায়নি।  একই বছর অ্যারিজোনা, কানেকটিকাট, নিউ জার্সি, ওরেগন ও ভারমন্টে অনুরূপ বিল উঠে।

একসময় খাবারের জন্য আদিবাসী জনগোষ্ঠী ও স্থানীয় বন্য কুকুর ডিঙ্গোর আক্রমণে ব্যাপকভাবে হ্রাস পায় ক্যাঙ্গারু।  পরে ব্রিটিশ উপনিবেশকালে সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এখন প্রাকৃতিক কারণের মধ্যে খরার কবলে পড়লে অনাহার মারা যায় ক্যাঙ্গারু। এরপরই রয়েছে সরকারি নির্দেশনা। সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, নিয়ন্ত্রণ সাপেক্ষে তিন কোটি ৬৫ লাখ ক্যাঙ্গারু বিচরণের অনুমতি রয়েছে। চলতি বছরে হত্যার কোটায় রয়েছে প্রায় অর্ধ কোটি ক্যাঙ্গারু।