ব্রিটিশ রহস্য লেখক আগাথা ক্রিস্টির
বাড়ি দেখতে গিয়ে মজার অভিজ্ঞতা হয়েছে এক দল পর্যটকের। উল্টো দিকে অনেক সোশ্যাল মিডিয়া
ব্যবহারকারী পেয়েছেন গা ছমছমে অভিজ্ঞতা। যেন ক্রিস্টির উপন্যাসের কোনো ঘটনা বাস্তবে
উঠে এসেছে।
গত ১৪ জুলাই বেড়াতে গিয়ে ওই বাড়িতে
আটকে পড়েন শ’খানেক মানুষ।
সিএনএনের প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েকটি
ঘটনা থেকে মনে হয়, যেন ক্রিস্টি রহস্য উপন্যাসের পাতা থেকে সরাসরি ঘটনাটি তুলে আনা
হয়েছে। যেমন দক্ষিণ-পশ্চিম ইংল্যান্ডের ডেভন কাউন্টির ওই বাড়ির দিকে যাওয়ার পথে ঝড়ের
মুখোমুখি হন পর্যটকরা। আর একটি গাছ ভেঙে পুরো পথই বন্ধ হয়ে যায়। তাদের সামনে বাইরের
সাহায্য ছাড়া উদ্ধারের কোনো উপায় ছিল না।
গ্রিনওয়ের ওই ভ্রমণে ছিলেন ক্যারোলিন
হেভেন। তিনি স্থানীয় নিউজ আউটলেট ডেভন লাইভের সঙ্গে উদ্ধারের আশায় যোগাযোগ করেন। তখনই
প্রায় ১০০ পর্যটক ক্রিস্টির অবকাশকালীন বাড়ির মাঠে আটকা পড়ার কথাটি চাউর হয়ে যায়।
ঐতিহাসিক এলাকাটির দেখভাল করে ব্রিটেনের
ন্যাশনাল ট্রাস্ট। আটকা পড়ার বিষয়টি জানতে পেরে তারা দ্রুত ওয়েবসাইটে একটি বার্তা
দেয়। ঘোষণায় বলে, বড় একটি গাছ গ্রিনওয়েতে যাওয়ার একমুখী রাস্তায় ভেঙে পড়েছে।
ন্যাশনাল ট্রাস্টের মুখপাত্র জানান,
দর্শক, কর্মচারী ও স্বেচ্ছাসেবকের আটকে পড়ার খবরে তারা অবগত। তাদের আরাম নিশ্চিত করার
জন্য ‘সবকিছু করা হচ্ছে’।
অবশ্য পর্যটকরা ততটা আতঙ্কিত হননি। তারা চা পান করে ও গলফ খেলে সময় কাটিয়েছে।
ছবি: সিএনএন
ন্যাশনাল ট্রাস্ট ওয়েবসাইট অনুসারে,
ক্রিস্টি নিজেও গ্রিনওয়ের লনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ক্লক গলফ ও ক্রোকেট খেলতে পছন্দ করতেন।
তার রহস্য উপন্যাসেও লনে খেলাধুলার মাধ্যমে অতিথিদের বিনোদন দেয়ার কথা রয়েছে।
আটকে পড়া পর্যটকরা এস্টেটের দেয়াল
ঘেরা বাগান ও বিখ্যাত বোটহাউস ঘুরে দেখেছেন। যা ক্রিস্টির উপন্যাস ‘ডেড ম্যানস ফোলি’তে
ক্রাইম সিন হিসেবে উঠে এসেছে।
অতিথিরা শান্ত পরিবেশে সময়টা উপভোগ
করলেও সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা থ্রিলের গন্ধ পেয়েছেন আকস্মিক এই বিপত্তিতে। অনেকে
ধরে নিয়েছিলেন যেন ‘অ্যান্ড দেন দেয়ার অয়ার নোন’ এর মতো কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। ওই উপন্যাসে
দশজন অপরিচিত ব্যক্তিকে ডেভন উপকূলের একটি প্রাসাদে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। দলটির
সদস্যরা একে একে রহস্যজনকভাবে খুন হতে থাকে। দলটি শিগগিরই বুঝতে পারে যে তাদের মধ্যে
একজন খুনি আছে।
একজন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী ডেভন
লাইভের প্রতিবেদনের লিংক শেয়ার করে টুইটারে কাউন্ট ডাউন করছিলেন, ৯৯, ৯৮, ৯৭, ৯৬, ৯৫ ...।
অন্য একজন আটকে পড়া পর্যটকদের জোড়ায় জোড়ায় থাকার পরামর্শ দেন।
সোশ্যাল মিডিয়ার উত্তাপের মতো বাস্তবের
কিছুই ঘটেনি। পর্যটকরা ক্রিস্টির চরিত্রগুলোর তুলনায় কম বিপত্তিতেই পড়েন। স্থানীয়
উদ্ধারকারী পরিষেবা সড়ক পরিষ্কার করার পর তারা সন্ধ্যা নাগাদ এস্টেট ছেড়ে বাড়ির পথ
রওনা দেন।
আকস্মিক এ ঘটনায় রাতারাতি আলোচনায় জায়গা করে নেয় আগাথা ক্রিস্টির বাড়ি। তাই অনেকেই দ্রুত ট্যুর পরিকল্পনা করে ফেলেন। কিন্তু তাতে বাধ সাধে ন্যাশনাল ট্রাস্ট। পরদিনই তারা জানায়, গ্রিনওয়ে এলাকায় ঝড়ের সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে এস্টেট বন্ধ থাকবে।










