অনেক কারণেই স্বতন্ত্র্য বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন
মায়া সভ্যতা। মধ্য আমেরিকার ইউকাটান উপদ্বীপ অঞ্চলে গড়ে উঠা এই সভ্যতা পিরামিড, লিপি,
শিল্পকলা, জ্যোতির্বিদ্যা ও ক্যালেন্ডারের ধারণা নিয়ে বিখ্যাত।
এই অঞ্চলে সম্প্রতি আবিষ্কৃত হলো বিশেষ
ধরনের স্কোরবোর্ড। মূলত গোলক বা বল রেখে এতে খেলোয়াড়রা চাল দিতেন।
ইউকাটান উপদ্বীপের চিচেন ইতজা প্রত্নতাত্ত্বিক
অঞ্চল থেকে আবিষ্কৃত স্কোরবোর্ডটি ধারণ করে আছে হাজার বছরের পুরাতন সংস্কৃতি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের ভাষ্য
অনুযায়ী, স্কোরবোর্ডটি দেখতে গোলাকার চাকতির মতো। ব্যস ৩২ সেন্টিমিটার ও ওজন ৪০ কেজি।
সেখানে দুজন খেলোয়াড়কে একটা বলের পাশে দাঁড়ানো অবস্থায় দেখা যাচ্ছে। তাদের ঘিরে হায়ারোগ্লিফিকে
কিছু লেখা।
গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন ফ্রান্সিসকো পেরেজ।
তিনি বলেছেন, ‘মায়া প্রত্নতাত্ত্বিক অঞ্চলে হারারোগ্লিফিক লেখা পাওয়া
দুর্লভ। তার ওপরে এটা একটা সম্পূর্ণ লিপি।’
মেক্সিকোর জাতীয় নৃতত্ত্ব ও ইতিহাস (আইএনএএইচ)-এর
পক্ষ থেকে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে, পাথরের স্কোরবোর্ডটি ৮০০ থেকে ৯০০ খ্রিষ্টাব্দের
দিকের। মধ্য আমেরিকার জনপ্রিয় ও ঐতিহ্যবাহী খেলা ছিল বল। ভারি রাবারের বল ব্যবহৃত হতো
খেলাতে। সঙ্গে জড়িত থাকত নানা আচারও। তেমন কোনো এক খেলায় ব্যবহৃত হয়েছে এই চাকতি। তবে
লেখার পাঠোদ্ধার এখনো সম্ভব হয়নি।
আইএনএএইচের গবেষকরা প্রস্তুতি নিচ্ছেন
উচ্চ রেজুলেশনের ছবি ও লেখা সংগ্রহ করতে। পাঠোদ্ধারের ক্ষেত্রে পরবর্তী গবেষণায় যেন
কাজে লাগে।
চিচেন ইতজা কমপ্লেক্সকে বিশ্ব ঐতিহ্যের
অংশ হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে ইউনেস্কো। মায়া সভ্যতার প্রধান প্রত্নতাত্ত্বিক অঞ্চল সমূহের
একটি এটি। অফিশিয়াল উপাত্ত অনুসারে, প্রতি বছর প্রায় ২০ লাখ মানুষ এ অঞ্চলে ভ্রমণ করে।
আবিষ্কৃত চাকতির পাঠোদ্ধার সম্ভব হলে মায়া সভ্যতার সংস্কৃতি নিয়ে আধুনিক মানুষের ধারণা
আরো স্পষ্ট হতে পারে।










