বন বিড়ালকে খাবার দেয়ার অভিযোগে দুই বৃদ্ধাকে জেল-জরিমানা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালত। ওই প্রাণীকে জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক বলে বিবেচনা করা হয়। সাধারণত তাদের বন্ধ্যাত্বকরণকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়। ওই নারীরা ফাঁদের মাধ্যমে বিড়াল ডেকে এনে সেই কাজটিই করছিলেন। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

বেভারলি রবার্টস (৮৫) ও মেরি অ্যালস্টন (৬১) নামের ওই দুই নাগরিক আলাবামার বাসিন্দা। তাদের দুই বছরের আনসুপারভাইজড প্যারেল ও ১০০ ডলার জরিমানা করা হয়েছে। তবে ১০ দিনের কারাদণ্ড স্থগিত করা হয়েছে।

পরে ওয়াশিংটন পোস্টকে রবার্টস বলেন, সতর্কতা, গ্রেফতার ও দণ্ডাদেশ- সবই সম্ভবত আমরা একটি বন বিড়ালকে খাবার দিচ্ছিছিলাম, তাই। কারণ শহর কর্তৃপক্ষ হিংস্র বিড়ালের যে সমস্যা সমাধান করতে পারতে পারেনি, আমরা তাই করতে যাচ্ছিলাম।

সাড়ে পাঁচ ঘণ্টার শুনানির পর দুই নারীকে একাধিক অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বনবিড়ালদের খাওয়ানোর জন্য তাদের অভিযুক্ত করেন কর্মকর্তারা। এর ফলে হাজার হাজার ডলার সম্পত্তির ক্ষতি হয়েছে বলেও দাবি করেন।

গত ২৫ জুন ওয়েটুম্পকা কাউন্টির মালিকানাধীন একটি এলাকায় পুলিশ কর্মকর্তাদের যেতে বলেন মেয়র জেরি উইলিস। সেখান থেকে দুই নারীকে গ্রেফতার করা হয়। অফিসার ব্রেন্ডন ফস্টার জানান, তিনি সেখানে পৌঁছে দেখতে পান যে অ্যালস্টন বিড়ালের খাবারের একটি ক্যান ধরে আছেন।

অ্যালস্টন জানান, তিনি ফাঁদে ফেলে বিড়াল ধরেছেন। এর প্রতিক্রিয়ায় তাকে থামতে বলেন পুলিশ অফিসার, নইলে বেআইনি অনুপ্রবেশের অভিযোগে গ্রেফতারের হুমকি দেন। এক ভিডিওতে ওই নারীকে বলতে শোনা যায়, আমি বিড়ালকে খাওয়াচ্ছি, এ জন্য তোমরা তিনটা গাড়ি নিয়ে এসেছ? এটা অবিশ্বাস্য।

আলাবামা লাইভেসের রিপোর্টে বলা হয়, পুলিশ প্রথমে বিড়ালকে খাওয়ানোর জন্য অনুপ্রবেশের দায়ে রবার্টসকে গ্রেফতার করে। এর বিরুদ্ধে কথা বলে গ্রেফতার হন অ্যালস্টন।

দুই নারীর সাজা জাতীয় প্রাণী অধিকার সংস্থাগুলোর দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এই সংস্থাগুলো বলে থাকে, বন্ধ্যা করার জন্য ফাঁদ হলো বিড়ালের সমস্যা সমাধানের করার একটি সফল উপায়।

ফাঁদের ব্যবহার ও বন্ধ্যাত্বের পক্ষে আছে এমন গ্রুপ অ্যালি ক্যাট অ্যালাইসের প্রোগ্রামের ডিরেক্টর অ্যালিস বার্টন বলেছেন, সহানুভূতি কোনো অপরাধ নয়।