ট্রাফিক নির্দেশনা অমান্য করেছিল এক যুগল।
তখন পুলিশ গাড়ি থামানোর সংকেত দেয়। জবাবে দুই আরোহী ক্রুদ্ধ প্রতিক্রিয়া দেখালে সন্দেহ
গভীর হয়। পরে গাড়ি আটকে তল্লাশি চালাতেই চোখ কপালে।
বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানায়, তারা গাড়ির মালপত্র
রাখা বুটে বয়ে চলছিল জীবন্ত বাঘ। সম্প্রতি এমন ঘটনার স্বাক্ষী হলো মেক্সিকো পুলিশ।
ঘটনাটি কোয়েরেতারো অঙ্গরাজ্যের। অবশ্য গাড়িতে
বাঘের বাচ্চা পাওয়ার নজির এটাই প্রথম নয়। মাদক চোরাচালনকারীরা প্রায়ই বিরল প্রজাতির
পশু সংগ্রহে রাখে। তাছাড়া বাঘ পাচার করাও চোরাচালানকারীদের জন্য বেশ লোভনীয় ব্যবসা।
এ ঘটনায় এল মারকো মিউনিসিপল পুলিশ গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, সৌভাগ্যক্রমেই দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। অফিসাররা তাদের গাড়িকে আটক করতে সক্ষম হয়েছে। আরোহী যুগলকে নেয়া হয়েছে আইনের আওতায়।
তল্লাশির সময় গাড়ির পেছনে স্যুটকেস
ও ব্যাগের মাঝে বাঘটিকে দেখতে পায়। সঙ্গে ছিল চারটি বন্দুক ও ১০০টি কার্তুজ। বাঘটি
এখনো প্রাপ্তবয়স্ক হয়নি। বিশেষজ্ঞের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে। খুব শিগগির একে প্রাকৃতিক
আবাসে ফেরত দেয়া হবে। অবশ্য প্রাকৃতিক আবাস বলতে নির্দিষ্ট কোনো স্থানকে স্পষ্ট করেনি
পুলিশ।
বিরল প্রজাতির পশুপালন করা মেক্সিকো আইনে
নিষিদ্ধ নয়। তবে তার জন্য শর্ত আছে। মালিককে দুটি বিষয় প্রমাণ করতে হবে। প্রথমত, প্রাণীটি
সরকার-নিবন্ধিত কোন সরবরাহকারীর কাছ থেকে এসেছে। দ্বিতীয়ত, জন্মগ্রহণ করেছে বন্দি অবস্থায়।
এর অন্যথা হলে নিষিদ্ধ। অবশ্য তারপরও গত কয়েক বছরে অনেক প্রাণীকে অবৈধ ভাবে ক্রয় ও
পাচার করা হয়েছে। বাঘকে রাস্তায় হাঁটানোও নিষিদ্ধ মেক্সিকোর আইনে।
২০২০ সালে একটা প্রাপ্তবয়স্ক রয়েল বেঙ্গল
টাইগারকে টিলাকুইপাকের রাস্তায় গর্জন করতে দেখা যায়। বাঘটির মালিকের বৈধ কাগজপত্র ছিল।
কিন্তু পুলিশের অভিযোগ, মালিক নিরাপত্তা নীতি অমান্য করেছেন। তার আগের বছর ২০১৯ সালে
মেক্সিকো শহরেই একটা বাসার ছাদে পাওয়া যায় তিনটি সিংহ। কয়েক বছর ধরেই সেখানে পালন করে
যাচ্ছিলেন মালিক। তবে সিংহের গর্জনে আতঙ্কিত প্রতিবেশী অভিযোগ করলে পুলিশ হস্তক্ষেপ
করে।










