ক্যানারি দ্বীপের সমুদ্র সৈকতে ভেসে আসা
মৃত স্পার্ম তিমি দেখতে অনেকেই এসেছিলেন। তবে তারা কেউ কল্পনাও করেননি প্রাণীটির পেটে
লুকিয়ে থাকতে পারে মূল্যবান বস্তু। যার দাম প্রায় পাঁচ লাখ ডলার। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
জোয়ারের কারণে অতিকায় এই তিমির ময়নাতদন্ত
কঠিন হয়ে পড়েছিল। কিন্তু লাস পালমাস ইউনিভার্সিটির ইনস্টিটিউট অব এনিমেল হেলথ অ্যান্ড
ফুড সিকিউরিটির প্রধান আন্তোনিও ফার্নান্দেজ রদ্রিগেজ মৃত্যুর কারণের খোঁজে ছিলেন অবিচল।
হজমের সমস্যা সন্দেহ করে প্রাণীটির অন্ত্র
পরীক্ষা করেন তিনি। আর তখনই দেখতে পান সেখানে শক্ত কিছু একটা আটকে আছে।
রদ্রিগেজ বলেন, বের করে দেখি, এটি ৫০-৬০
সেন্টিমিটার ব্যাসের একটি পাথর। যার ওজন সাড়ে নয় কেজি। আমি যখন সৈকত থেকে ফিরে আসি
তখন দর্শনার্থীদের কেউ জানত না আমার হাতে ছিল অ্যাম্বারগ্রিস।
‘ভাসমান স্বর্ণ’ নামে পরিচিত অ্যাম্বারগ্রিস একটি বিরল পদার্থ। এটি শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে পারফিউম প্রস্তুতকারীদের আরাধ্য। রদ্রিগেজের পাওয়া অ্যাম্বারগ্রিসের বাজার মূল্য প্রায় পাঁচ লাখ ডলার।
ছবি: দ্য গার্ডিয়ান
সাধারণত গড়ে ১০০টি স্পার্ম তিমির মাঝে একটিতে অ্যাম্বারগ্রিসের দেখা মেলে। তিমিরা প্রচুর পরিমাণে স্কুইড ও কাটলফিশ খায়, যার বেশিরভাগই হজম করা যায় না ও বমি হয়ে যায়। কিন্তু বমির কিছু অংশ পেটের মাঝেই থেকে যায়। আর বছরের পর বছর ধরে তিমির অন্ত্রে জমাটবদ্ধ হয়ে অ্যাম্বারগ্রিস তৈরি করে।
মূল্যবান এই পর্দাথ সব সময়ই পেটে থাকে
এমন নয়। অনেক সময় অ্যাম্বারগ্রিস বের হয়ে এসে সমুদ্রে ভাসতে থাকে। কিন্তু কখনো কখনো
বড় হলে অস্ত্র ফেটে তিমি মারা যায়। লা পালমার ওই ঘটনায় তা-ই হয়েছিল।
অ্যাম্বারগ্রিসে চন্দন কাঠের মতো সুঘ্রাণ
রয়েছে। এটি সুগন্ধির তীব্রতা ও স্থায়ীত্ব বাড়িয়ে দেয়। তাই পারফিউমারদের মধ্যে এর ভীষণ
জনপ্রিয়তা।
গত শতক থেকেই অ্যাম্বারগ্রিসের কারণে স্পার্ম
তিমির ওপর শিকারিদের লোভ। তাই যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও ভারত তিমি শিকার ও নিধনের
ওপর নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে অ্যাম্বারগ্রিসের বাণিজ্য নিষিদ্ধ করেছে।
রদ্রিগেজ এই পর্যন্ত এক হাজারের বেশি তিমির
ময়নাতদন্ত করেছেন। তিনি জানান, অ্যাম্বারগ্রিসের কারণে সৃষ্ট প্রদাহে তিমিটি মারা
গেছে।
এখন প্রতিষ্ঠানটি অ্যাম্বারগ্রিসের জন্য
একজন ক্রেতা খুঁজছে। প্রাপ্ত অর্থ ২০২১ সালে লা পালমার অগ্ন্যুৎপাতে ক্ষতিগ্রস্তদের
সাহায্য তহবিলে জমা দেয়া হবে। ওই প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে ৮০ কোটি ডলারের ক্ষতি হয়েছিল।
ধ্বংস হয়েছে শত শত বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।










