উত্তর গ্রিনল্যান্ডে বরফ যুগের নমুনায় খোঁজ মিলল পৃথিবীর প্রাচীনতম প্রাণের চিহ্ন। এ ডিএনএ-র বয়স প্রায় ২০ লাখ বছর। গত ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে নেচারে প্রকাশিত গবেষণাপত্রে এমনটাই দাবি করা হয়েছে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে প্রায় প্রাণহীন ওই অঞ্চল একসময় প্রাণপ্রাচুর্যে পরিপূর্ণ ছিল বলেই প্রমাণিত হয় এই আবিষ্কারে। ছিল হাতি সদৃশ স্তন্যপায়ী প্রাণী, বলগা হরিণ, খরগোশ, লেমিং, রাজহাঁস, বার্চ কিংবা পপলার গাছ। তবে একইসঙ্গে নাতিশীতোষ্ণ ও মেরু অঞ্চলীয় জীবের সহাবস্থান সেখানকার বিচিত্র বাস্তুসংস্থান সম্পর্কে ধারণা দেয়।

গ্রিনল্যান্ডের উত্তর প্রান্ত থেকে ২০০৬ সালে কিছু নমুনা নিয়ে আসা হয়। সেখানে প্রাপ্ত ডিএনএ-র সঙ্গে গবেষকরা লাইব্রেরিতে আগে থেকে বিদ্যমান ডিএনএর সাথে তুলনা করেন। এর মধ্য দিয়ে এমন কিছু বৃক্ষ ও প্রাণী শনাক্ত করা সম্ভব হয়, যাদের সম্পর্কে আগে ধারণা ছিল না।

গবেষণার সহলেখক ও কোপেনহেগেন ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক মিক্কেল পেডারসেন জানান, 'উত্তর মেরুতে এই হস্তিসদৃশ প্রাণীর ফসিল পাওয়াটা আমাদের আপ্লুত করেছে। কারণ প্রাণের অস্তিত্ব পাওয়ার ক্ষেত্রে স্থানটা আমাদের অনুমিত সীমানা থেকে অনেক দূরে।’

এ গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এস্কে উইলারস্লেভ। তিনি মনে করেন, নতুন আবিষ্কৃত ডিএনএ এমন এক সময়কে নির্দেশ করে যখন গ্রিনল্যান্ডের তাপমাত্রা বর্তমানের চেয়েও ১০-১৭ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড বেশি ছিল। সেখানে গাছের পাশাপাশি রীতিমতো বনের অস্তিত্ব ছিল।

উইলারস্লেভ বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, 'ওই সময়ে প্রাপ্ত দারুবৃক্ষের সঙ্গে বর্তমান ব্রিটিশ কলম্বিয়ার দারুবৃক্ষের কোন পার্থক্য নেই।'

গ্রিনল্যান্ডের মাটির স্তর। ছবি: রয়টার্স

গবেষণার মধ্য দিয়ে এখন পর্যন্ত প্রাপ্ত আদিতম ডিএনএ-র নতুন রেকর্ড স্থাপিত হলো। এর আগে সাইবেরিয়ান স্তেপে প্রায় দশ লাখ বছর আগের ডিএনএ পাওয়া যায়। বর্তমানে পাওয়া ডিএনএর বয়স তার দ্বিগুণ।

গবেষণায় মাংসাশী কোন প্রাণীর ডিএনএ পাওয়া না গেলেও বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন সেখানে মাংসাশী প্রাণী বসবাস করত। বিশেষ করে ভালুক, নেকড়ে কিংবা বাঘের উপস্থিতি থাকা অস্বাভাবিক কিছু না। 

এই ফলাফল ভবিষ্যত গবেষণাকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে বলে বিশ্বাস করেন স্টকহোম ইউনিভার্সিটিতে সেন্টার ফর প্যালিওজেনেটিক্সের অধ্যাপক লাভ ড্যালেন। তার মতে, গবেষণাপত্রটি অসাধারণ। এটি আমাদের বাস্তুতন্ত্রের এমন কিছু বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে আনবে, যেগুলো জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে পরিবর্তিত হয়েছে। সামনে নিয়ে আসবে জলবায়ু পরিবর্তনের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পরিবেশের প্রতিক্রিয়া।