বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (আরএমজি) উৎপাদন ব্যবসা বিগত তিন দশকে দ্রুত প্রসারিত হয়েছে। এটি বর্তমানে দেশের অন্যতম ম্যানুফ্যাকচারিং খাত। আরএমজি খাত ২০২১-২২ অর্থবছরে দেশের জিডিপিতে ১১ শতাংশ এবং বাংলাদেশ থেকে মোট রফতানিতে ৮৪ দশমিক ৫ শতাংশ অবদান রাখে, যা প্রায় ৪ হাজার ৭০০ কোটি ডলারেরও বেশি (বিজেএমইএ, ২০২২)। 

আরএমজি শিল্প বাংলাদেশের লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থানের সম্ভাবনা তৈরি করেছে, বিশেষ করে নারীদের জন্য। আরএমজি খাতে ৪০ লাখ নারী কর্মী রয়েছেন। বাংলাদেশে আরএমজি ইন্ডাস্ট্রি নারীদের স্বাধীনতা, স্বয়ংসম্পূর্ণতা, গতিশীলতা, আর্থিক সক্ষমতা ও অন্তর্ভুক্তি এবং সামগ্রিক ক্ষমতায়নে ভূমিকা রাখছে। এ শিল্প এমন একটি দেশে তরুণীদের বিকল্প পথ দেখাচ্ছে, যেখানে লিঙ্গবৈষম্য ব্যাপক এবং বাল্যবিবাহ খুবই সাধারণ ঘটনা। নারী আরএমজি কর্মীদের বেশির ভাগই গ্রামীণ এলাকা থেকে আসে এবং তারা অবিবাহিত অবস্থায় কর্মজীবন শুরু করেন। তাদের অনেকেই পরিবারের আয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখেন এবং সঞ্চয় করেন। 

এ কথা অস্বীকার করার উপায় নেই যে নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া বাংলাদেশের উন্নয়ন লক্ষ্য অর্জন অসম্ভব ছিল। এ দেশের সমাজ ব্যবস্থায় অনেক ক্ষেত্রেই নারীকে পরিবারের বোঝা বিবেচনা করা হয়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এ দৃশ্যপট পরিবর্তিত হচ্ছে। বর্তমানে নারীরা গার্মেন্টস সেক্টর, শিক্ষা খাত, ব্যাংকিং সেক্টর, বিভিন্ন এনজিও ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। কিন্তু এককভাবে গার্মেন্টস সেক্টরের ৭০ শতাংশ শ্রমিক নারী এবং তাদের অধিকাংশই স্বল্পশিক্ষিত, অদক্ষ এবং গ্রামীণ এলাকা থেকে এসেছেন। গার্মেন্টস সেক্টরে চাকরি পাওয়ার আগে এ নারীদের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা বা সম্পত্তিতে অধিকার ছিল না। ফলে চাকরির ব্যবস্থা নারী কর্মীদের জন্য অর্থনৈতিক স্বাধীনতা এনে দিয়েছে, তাদের শহর এলাকার সম্পদ ও সুযোগ-সুবিধার কাছাকাছি রেখেছে এবং প্রশিক্ষণ, কাউন্সেলিং ও সহকর্মীদের সঙ্গে সমস্যা ভাগ করে নেয়ার মাধ্যমে তাদের জ্ঞান ও দক্ষতা তৈরির যথেষ্ট সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

গবেষণা থেকে জানা যায় যে নারীর ক্ষমতায়ন মূলত চারটি পরিবর্তনের ওপর নির্ভর করে। সেগুলো হলো পরিবারে নারীর আর্থিক অবদান, সম্পদে নারীর প্রবেশাধিকার, পরিবারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে নারীর অংশগ্রহণ এবং সংকট সামলানোর ক্ষমতা। গার্মেন্টস সেক্টর নারী কর্মীদের আর্থিকভাবে অবদান রাখতে, পরিবারের সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ, সম্পদে অধিকার ও ঝুঁকি মোকাবেলার দক্ষতা তৈরি করে। এগুলো শেষ পর্যন্ত সামগ্রিকভাবে সমাজে তাদের ক্ষমতায়ন বৃদ্ধি করে।

বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। তাই নারীর ক্ষমতায়ন এ দেশের দারিদ্র্য দূরীকরণ ও মানবাধিকারের উন্নয়নের অগ্রদূত। অতি দরিদ্র আয় গোষ্ঠীর অন্তর্গত নারীদের জন্য সামাজিক নিপীড়ন ও অর্থনৈতিক বৈষম্য প্রতিকূল পরিস্থিতি তৈরি করে (ডিএফআইডি, ২০০০)। পিতৃতান্ত্রিক সমাজ হিসেবে পরিবার ও সমাজ উভয়কেই নিয়ন্ত্রণ করার সর্বোচ্চ ক্ষমতা দেয়া হয় পুরুষদের। অন্যদিকে নারীদের ঘরে রাখা হয় (বাল্ক, ১৯৯৭)। গৃহস্থালির সম্পদে তাদের কম প্রবেশাধিকার, স্বল্প জ্ঞান ও দক্ষতা, গার্হস্থ্য কাজের বিরাট চাপ এবং পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সীমিত অংশগ্রহণের কারণে নারীরা বাংলাদেশে অরক্ষিত অবস্থায় থাকেন (সেবস্টাড অ্যান্ড কোহেন ২০০২)। বাংলাদেশে নারীদের প্রতি পরিবারের সদস্যরা অসম আচরণ করে। অনেক সময় তাদের বাইরে কাজে যেতে বাধা দেয়া হয়, যেমন গার্মেন্টসে কাজে যোগদান করা। যার অর্থ দাঁড়ায় বাংলাদেশে নারীদের পরিবারে কোনো কণ্ঠস্বর নেই। (কেইন ও অন্যান্য, ১৯৯৭)

এশিয়ান সেন্টার ফর ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন বিজিএমইএ তালিকাভুক্ত ১৭৩টি গার্মেন্টস কারখানার ১ হাজার ২০৪ জন শ্রমিকের ওপর জরিপ চালিয়েছে এবং এসব কারখানায় গড়ে শ্রমিকের সংখ্যা ছিল প্রায় ৯৫০ জন। সোয়েটার কারখানা, নিটওয়্যার কারখানা এবং অন্যান্য কারখানায় পুরুষ ও নারী কর্মচারীর অনুপাত ছিল যথাক্রমে ৪৬:৫৪, ৪২:৫৮ ও ৩০:৭০। জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, ৫৯টি জেলা থেকে প্রায় ৮৭ শতাংশ শ্রমিক নিজ নিজ জেলা বাদে অন্য জেলার কারখানায় কাজ নিয়েছেন। বাকিরা স্থানীয় শ্রমিক। গড়ে একজন গার্মেন্টস শ্রমিকের মাসিক খরচ প্রায় ১১ হাজার ২৯৯ টাকা এবং গার্মেন্টস শ্রমিক তাদের মোট আয়ের ৪০ শতাংশ খাবার, ৩০ শতাংশ বাসস্থানের জন্য খরচ করেন ও ১১ শতাংশ তাদের অভিভাবকদের কাছে পাঠান।

জরিপকৃত শ্রমিকদের সম্পদের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ৮৬ শতাংশের কাছে মোবাইল ফোন, ৮৪ শতাংশের কাছে বৈদ্যুতিক পাখা, ৭৫ শতাংশের নিজস্ব বাসস্থান, ৬৮ শতাংশের কাছে টেলিভিশন এবং ২৮ শতাংশের কাছে সোনার অলংকার আছে। গবেষণায় শ্রমিকদের সাক্ষরতা সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং দেখা গেছে যে ৭১ শতাংশ পড়তে ও লিখতে পারেন, ৮৩ শতাংশ পড়তে পারেন এবং মাত্র ১২ শতাংশ পড়তে বা লিখতে পারেন না। সাধারণত গার্মেন্টস শ্রমিকের আয় দক্ষ, আধা-দক্ষ ও অদক্ষ বিভাগের ভিত্তিতে ৬০০০ থেকে ১২০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারিত হয়। বিশ্লেষণে আরো দেখা গেছে, একজন গার্মেন্টস কর্মী শিশু বা ভাই-বোনের লেখাপড়ার জন্য ৬৬৭ টাকা, স্বাস্থ্যের জন্য ৬০৪ টাকা, পোশাকের জন্য ৫২৬ টাকা, মোবাইল ফোন ব্যবহারে ৩১৬ টাকা, প্রসাধনের জন্য ২৯৯ টাকা এবং বিনোদনের জন্য ৯৮ টাকা খরচ করেন। প্রায় ৪০ শতাংশ গার্মেন্টস কর্মী তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে ৩০০০ টাকা পাঠান। সংগৃহীত তথ্যে দেখা গেছে, প্রায় ৮৪ দশমিক ২ শতাংশ কারখানায় তাদের নিজস্ব ডাক্তার, ৩৮ দশমিক ৮১ শতাংশে স্বাস্থ্যকর্মী আছে এবং ৭৬ শতাংশ কারখানা ওষুধও প্রদান করে। এ সুযোগ-সুবিধা ৬৬ শতাংশ শ্রমিক অসুস্থ থাকা অবস্থায় ব্যবহার করেছেন।

তৈরি পোশাক খাতে নারী কর্মীদের বিড়ম্বনা শুরু হয় নিয়োগ প্রক্রিয়া থেকে। অনেকে এ সময়ে তাদের কোনো নিয়োগপত্র দেয়া হয় না (আবসার, ২০০২)। বেতন ও প্রমোশনের ক্ষেত্রেও নারীদের কথা ভাবা হয় ভিন্নভাবে। এসব কারখানার ভেতর কাজের পরিবেশও ঠিকমতো বজায় রাখা হয় না, কারণ সেখানে একই তলায় অনেক কর্মী ভিন্ন ভিন্ন রকম কাজ করেন (পল-মজুমদার এবং বেগম, ২০০০)। 

কিছু মানুষ চাকরি করে জীবন বাঁচানোর জন্য আর কেউ চাকরি করে জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের জন্য। নারী কর্মীদের এ খাতে কাজ করার পেছনে ভিন্ন পুশ অ্যান্ড পুল ফ্যাক্টর প্রভাব রাখে (কিবরিয়া, ১৯৯৮)। অর্থনৈতিক সংকট, ভিন্ন ভিন্ন ধরনের পারিবারিক সংকট যেমন কোনো ব্যবসায় ক্ষতির মুখে পড়া, বেকারত্ব, পরিবারের প্রধান উপার্জনকারীর অসুস্থতা বা মৃত্যু পুশ ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে। অন্যদিকে নারীদের মধ্যে জীবনযাপনের মান উন্নয়নের ক্ষেত্রে কোনো ভাবনা কাজ করলে তা পুল ফ্যাক্টর হিসেবে কাজ করে (কিবরিয়া, ১৯৯৮)। 

তৈরি পোশাক খাতের চাকরিতে নারীদের আয়ের সম্ভাবনা বেশি, কিন্তু এর সঙ্গে তারা কিছু স্বাস্থ্যজনিত জটিলতায়ও পড়েন, যেমন শ্বাসকষ্ট, অস্থিসন্ধিতে অস্বস্তি ও দুশ্চিন্তা। বাংলাদেশের নারী কর্মীরা দীর্ঘ সময় অফিসে থাকা এবং কম বিরতি পাওয়ার কারণে অফিসের বাইরেও প্রসবপূর্ব সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে বেশ সমস্যায় পড়েন (ডিওয়ার ও অন্যান্য, ২০২২)। 

তার ওপর বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশে খুব কাছের সঙ্গীর সহিংসতার মাত্রাও অনেক বেশি দেখা যায় (বিবিএস, ২০১৬)। বিশ্বব্যাপী সঙ্গীর সহিংসতা যখন সংকটময় জনস্বাস্থ্য ও মানবাধিকারের বিষয় হয়ে উঠেছে তখনো দেশে এ ধরনের সহিংসতা কমিয়ে আনার বিষয়ে কোনো প্রচেষ্টা নেই। নারীর বিরুদ্ধে পুরুষের সহিংসতার দিক থেকে বৈশ্বিক র‍্যাংকিং অনুসারে বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয় (মাহমুদ, ২০০৪)। বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতে কর্মরত নারীদের বেশির ভাগই তাদের জীবনের প্রজননক্ষম সময়ের অর্ধেকটা কারখানায় কাজে ব্যয় করেন। এ সময়ে তাদের যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য এবং পরিবার পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া দরকার। যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য বিষয়ে ধারণা থাকা এবং পরিবার পরিকল্পনা ব্যবহার করা নারী কর্মীদের জন্য খুব জরুরি। কিন্তু যৌন রোগের সংক্রমণ এবং এসব প্রতিরোধ করার পদক্ষেপ খুবই কম। একই গবেষণায় দেখা গেছে, জরিপে অংশ নেয়া নারী কর্মীদের অর্ধেকেরও কম স্যানিটারি হাইজিন পণ্য ব্যবহার করে। বাংলাদেশের কারখানার শ্রমিকরা খুবই কম পরিবার পরিকল্পনা/ যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য ও সেবা পায়। কর্মক্ষেত্রে হাইজিন বজায় রাখার মতো পণ্যও তারা পায় না। 

বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ এবং কম বয়সে শিশু জন্মদানের ঘটনাও ঘটে অহরহ। ২০-২৪ বছর বয়সী নারীর তুলনায় কম বয়সীদের সাধারণত শারীরিক, আবেগিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক সংকটকাল চলে। ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সীদের মধ্যে মাতৃত্বকালীন মৃত্যুর ঘটনাও অনেক বেশি ঘটতে দেখা যায়।

ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা যায় আওয়াজ তুলে। পুরুষপ্রধান সমাজে বাড়িতেই শুধু নারী পোশাক কর্মীদের কথা বলার জায়গা থাকে না তা নয়, ট্রেড ইউনিয়ন না থাকায় একই পরিস্থিতি দেখা যায় তৈরি পোশাক কারখানায়ও (আহমেদ, ২০০৪)। বিস্তৃতভাবে বলা যায়, যখন মানুষের চাহিদা সন্তুষ্টি সহকারে পূরণ হবে এবং ভালো থাকা নিশ্চিত হবে তখনই বলা যায় উন্নয়ন হয়েছে (গালতুং, ১৯৮০)। তাই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে সব ধরনের অসমতা দূর করতে হবে। কারণ লিঙ্গভিত্তিক অসমতা ভালো থাকা এবং মানুষের সন্তুষ্টির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে (ক্লাসেন, ২০০০)। ওপরের আলোচনায় দেখা যাচ্ছে, নারী ক্ষমতায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে তৈরি পোশাক খাত, বিশেষ করে গরিব ও গ্রামীণ নারীদের ক্ষেত্রে, যদিও তা খুব ভালোভাবে হচ্ছে তা নয়। 

উৎপাদন সক্ষমতা নিশ্চিত করতে হলে প্রথমত কাজের পরিবেশ আরামদায়ক করতে হবে। সেখানে ঠিকমতো আলো ও বাতাসের ব্যবস্থা, যথাযথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং বিপদ মোকাবেলার সুবিধা থাকতে হবে। দ্বিতীয়ত, ম্যানেজমেন্ট পর্যায়ের কর্মীদের মনে একটি ইতিবাচক ধারণা তৈরি করতে হবে এবং মাতৃত্বকালীন ছুটি নিশ্চিত করতে হবে, পাশাপাশি প্রজনন স্বাস্থ্য বজায় রাখার জন্য অন্যান্য সুবিধা সংবলিত নীতির প্রচলন করতে হবে। বিভিন্ন সংস্থা কিছু সংস্কৃতি তৈরি ও চর্চা করতে পারে, যেখানে পারিবারিক সহিংসতার দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের সমর্থন দেয়া হবে। কর্মক্ষেত্রে এ বিষয়ক কিছু প্রশিক্ষণ, নীতি এবং তথ্য প্রচারণা চালানো যেতে পারে। নতুন সংস্কৃতি চর্চার জায়গাটা তৈরি করতে হবে নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদেরই। তার ওপর তৈরি পোশাক কারখানাগুলোয় নারী কর্মীদের জন্য কাউন্সেলিং সেন্টার থাকা দরকার, সেখানে তাদের পারিবারিক সহিংসতা এবং প্রজনন স্বাস্থ্যের বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হবে। সেই সেন্টারে যেমন কর্মীরা কিছু তথ্য পাবেন, পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য কিছু সমর্থনও পাবেন। 

নারী ক্ষমতায়নে তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব রেখেছে তৈরি পোশাক খাত। সাধারণভাবে, পরিবারে যখন কোনো নারী অর্থনৈতিক অবদান রাখতে পারেন তখন তিনি ক্ষমতায়নের সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী পর্যায়ে পৌঁছান। যদিও যোগাযোগের দক্ষতা এবং বিষয়টি বোঝার সক্ষমতা নারীকে পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশ নিতে সাহায্য করে, সেই সঙ্গে তারা এমন কিছু অর্জন করে যা তাদের ক্ষমতায়নে আরো প্রভাব রাখে। নারী ক্ষমতায়ন ত্বরান্বিত করার জন্য দেশে আরো তৈরি পোশাক কারখানা চালু করা প্রয়োজন, যেখানে দেশের প্রচলিত নিয়ম ও নীতি প্রয়োগ করা হবে, ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করা হবে এবং নারী কর্মীদের জন্য আরো বেশি কর্মসংস্থান তৈরি হবে। পুরুষপ্রধান এ সমাজে অর্থনৈতিক অবদানের বাইরে অন্য বিষয়গুলো কখনো সেভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে না। তার পরও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে।

(লেখকের মূল ইংরেজি রচনার অনুবাদ করেছেন রেশমা জাহান)

লেখক: সহযোগী অধ্যাপক, ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগ

বিজেএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজি (বিইউএফটি)