টাঙ্গাইলের মধুপুরের লাভলী বেগমের জীবনসংগ্রামের গল্পটা একটু ব্যতিক্রমী। ফল চাষে একজন সফল উদ্যোক্তা তিনি। পরিবারে সচ্ছলতার পাশাপাশি সম্মানও এনে দিয়েছে তার এ উদ্যোগ। ইসলামী ব্যাংকের পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের (আরডিএস) সহায়তায় ফল চাষ শুরু করেন লাভলী বেগম ও তার স্বামী মোহাম্মদ কিতাব আলী। এ দম্পতির নিরলস পরিশ্রম তাদের এনে দিয়েছে সুদিন। 

২০১৩ সালে লাভলী বেগম ইসলামী ব্যাংকের আরডিএস সদস্য হন। ফল চাষের জন্য ৩০ হাজার টাকা নেন। সে বিনিয়োগই তাকে এগিয়ে দেয় সফলতার পথে। ব্যাংক থেকে টাকা নিয়ে ইজারা নেন একখণ্ড জমি। রোপণ করেন আনারস, কলা, লেবু, মাল্টা, কমলা, পেঁপেসহ নানান ফলের গাছ।

মধুপুরের উঁচু উর্বর জমি তার স্বপ্ন পূরণে সহায়ক হয়। বছর না ঘুরতেই ফলের খামারের বিনিয়োগ তাকে ফল দিতে শুরু করে। ধীরে ধীরে ইসলামী ব্যাংকের টাকা শোধ করতে শুরু করেন। ইজারা নেয়া জমি ছেড়ে দিয়ে নিজেই কেনেন সাড়ে ছয় বিঘা জমি। তাতেই চলছে এখন ফল চাষ।

লাভলীর চলমান আরডিএস বিনিয়োগের পরিমাণ ৩ লাখ এবং সঞ্চয় ৮০ হাজার টাকা। স্বামী কিতাব আলী ছিলেন তার সাহসের সঙ্গী, দিয়েছেন শারীরিক শ্রমও। তাদের খামারে কর্মসংস্থান হয়েছে গ্রামের আরো ২০ জনের।

একসময় চাষের জন্য কোনো জমিই ছিল না তাদের। এখন লাভলী বেগমের সাড়ে ছয় বিঘা নিজস্ব ফলের খামার, সুদৃশ্য পাকা বাড়ি, ছেলে-মেয়ের সুশিক্ষা আর পরিবারের সুদিন ফেরাতে পারাটা জীবনের বড় প্রাপ্তি। তাদের ছেলে নাজমুল হাসান মাধ্যমিক পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে এবং মেয়ে স্থানীয় মাদ্রাসায় দাখিল শ্রেণীতে পড়ছে। নিজেকে এখন বেশ সুখী মনে করেন লাভলী বেগম। আর এ সফলতার জন্য নিজের নিরলস পরিশ্রমের কথা স্মরণ করেন। সেই সঙ্গে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ইসলামী ব্যাংকের আরডিএসের প্রতি। এখন ফলের খামারের পরিধি আরো বাড়াতে কাজ করছেন এ উদ্যোক্তা।