কিছু মানুষের জীবন ব্যয় হয় পরোপকারে। চেনা-অচেনা যেকোনো মানুষের বিপদে ঝাঁপিয়ে পড়েন তারা। এক্ষেত্রে নিজের জীবনকেও মনে করেন অতি-তুচ্ছ। দুঃসাহসী নিঃস্বার্থ এসব মানুষের অবদানকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছে মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক (এমটিবি) পিএলসি। ব্যাংকটির প্রতিষ্ঠিত এমটিবি ফাউন্ডেশন থেকে দেয়া হচ্ছে ‘সাহসিকতা ও বীরত্ব’ পুরস্কার। এ পুরস্কারের উদ্দেশ্য হলো নিঃস্বার্থ ব্যক্তি ও তার পরিবারকে স্বীকৃতি দেয়া। যেসব ব্যক্তি নিজের জীবনের চেয়ে অন্যের জীবনকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন, তাদের অবদানকে স্বীকৃতি দেয়া হচ্ছে এ পুরস্কারের মাধ্যমে।
২০১২ সালে প্রথমবারের মতো প্রয়াত হজরত আলীকে ‘সাহসিকতা ও বীরত্ব’ পুরস্কার দেয়া হয়। পরবর্তী সময়ে প্রয়াত লিয়াকত আলী লিটন, ট্রাফিক কনস্টেবল মো. মনির হোসেন, আক্তার মিয়া ও প্রয়াত সারোয়ার হাওলাদার, প্রয়াত বাদল মিয়া, প্রয়াত নবী হোসেন ও হোসেন আলমগীর, প্রয়াত সোহেল রানা, প্রয়াত সাইদ শাহ, প্রয়াত দেলোয়ার হোসেনকে তাদের সাহসিকতার জন্য পুরস্কার দেয়া হয়। সীতাকুণ্ডে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় মারা যাওয়া ১৩ অগ্নিনির্বাপণ কর্মীর পরিবারকে এমটিবি ফাউন্ডেশন ১১তম ‘সাহসিকতা ও বীরত্ব’ পুরস্কার দেয়। তাদের বীরত্বপূর্ণ আত্মত্যাগের স্বীকৃতিস্বরূপ এ পুরস্কার দেয়া হয়েছে। ১২তম ‘সাহসিকতা ও বীরত্ব’ পুরস্কার দেয়া হয়েছে প্রয়াত সালমান ফার্সী শামীমকে। তিনি নীলফামারী সদর উপজেলার কুন্দাপুকুর ইউনিয়নের বৌবাজার গ্রামে খুলনা-চিলাহাটিগামী চলন্ত রূপসা এক্সপ্রেস ট্রেন থেকে একই পরিবারের তিন শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে নিজের জীবন হারিয়েছেন। একজন মাদ্রাসা ছাত্রীকে যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে প্রাণ হারানো আব্দুল জব্বার শেখ ও রাজীব শেখের পরিবারকে ১৩তম ‘সাহসিকতা ও বীরত্ব’ পুরস্কার দেয়া হয়েছে। বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার গৌরনলুয়া গ্রামে চলতি বছরের ৫ মে এ ঘটনা ঘটে, যেখানে আব্দুল জব্বারকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয় এবং রাজীব শেখকে নির্দয়ভাবে ছুরিকাঘাত করা হয়।
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্কুলশিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বাইসাইকেল প্রদান করে আসছে এমটিবি ফাউন্ডেশন। এ কর্মসূচির নাম দেয়া হয়েছে ‘স্বপ্ন সারথি’। ২০১৫ সালে চালু করা এ কর্মসূচির মূলমন্ত্র হলো ‘স্কুলে যেতে দূরত্ব যেন বাধা না হয়’। এরই মধ্যে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ১ হাজার ৬০০টি বাইসাইকেল বিতরণ করা হয়েছে। বাইসাইকেল বিতরণের ক্ষেত্রে পঞ্চগড়, বগুড়া, দিনাজপুর, জয়পুরহাট, রংপুর, সিরাজগঞ্জ, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, টাঙ্গাইল, কুমিল্লা, পাবনা, ফেনী, সাভার, খুলনাসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। ভূতপূর্ব কিছু ছিটমহলেও বাইসাইকেল বিতরণ করেছে এমটিবি ফাউন্ডেশন। চলতি বছর যশোরের প্রত্যন্ত অঞ্চলের উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ছাত্রীর মধ্যে বাইসাইকেল বিতরণের মাধ্যমে এ কর্মসূচি পুনরায় চালু করা হয়।
শুরু থেকেই শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে কার্যক্রম সম্প্রসারিত করেছে এমটিবি ফাউন্ডেশন। সংস্থাটি বিশ্বাস করে শিক্ষা মানুষকে ক্ষমতায়িত করে, জীবনকে পরিবর্তন করে দেয়। শিক্ষা হলো উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিতের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মের জন্য একটি শক্তিশালী ভিত তৈরির সিঁড়ি। শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাওয়া-আসার বিষয়টি সহজতর করতেই ‘স্বপ্ন সারথি’ প্রকল্পটি চালু করা হয়। বাইসাইকেল বিতরণের ক্ষেত্রে ছাত্রীদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে এমটিবি ফাউন্ডেশন। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) অন্যতম লক্ষ্য হলো জনগোষ্ঠীর সুস্বাস্থ্য ও সমৃদ্ধি, গুণগত শিক্ষা, লিঙ্গসমতা ও বৈষম্য হ্রাস। এমটিবি ফাউন্ডেশনের গৃহীত কর্মসূচি এসব লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করছে।
আয় সৃষ্টিতে সহায়ক কার্যক্রমের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ মৎস্যজীবী সম্প্রদায়ের জীবিকা পুনরুদ্ধার প্রকল্প রয়েছে এমটিবি ফাউন্ডেশনের। প্রতি বছর দেশের অর্থনীতির স্বার্থে সরকার মাছের মজুদ বাড়ানো ও প্রজনন বৃদ্ধিতে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ক্ষেত্রে ৬৫ দিনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এর সঙ্গে ইলিশ ধরা, বিক্রি, মজুদ ও পরিবহনের ক্ষেত্রে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞাও রয়েছে। ফলে এ সময়ে জেলেরা কর্মহীন হয়ে পড়েন। সামাজিক দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এমটিবি ফাউন্ডেশন এসব কর্মহীন জেলের মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা থাকাকালীন সহায়তা করে আসছে। এ কর্মসূচির উদ্দেশ্য হচ্ছে মাছ ধরায় সরকারের নিষেধাজ্ঞা চলাকালীন কর্মহীন জেলেদের দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ তৈরি করা, যাতে তারা টিকে থাকতে পারে। বাড়ির নারীদের মাধ্যমে বিকল্প আয়ের উৎস তৈরির মাধ্যমে জেলে সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়ন করাই এমটিবি ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য।
কুয়াকাটার পানজোপাড়া ও পশ্চিম খাজুরার জেলে সম্প্রদায়ের ২০০ পরিবারকে জীবিকার জন্য অনুদান দিয়েছে এমটিবি ফাউন্ডেশন। এ কর্মসূচির মাধ্যমে ১৬০টি পরিবারের মাঝে গবাদিপশু বিতরণ, ৩২টি পরিবারকে সেলাই মেশিন প্রদান এবং আটটি পরিবারকে মাছ, শুঁটকি, ক্ষুদ্র ও কৃষি ব্যবসা প্রতিষ্ঠায় সহায়তা করা হয়েছে। কর্মসূচিটি পালনের মাধ্যমে এমটিবি ফাউন্ডেশন এসডিজির দারিদ্র্য ও ক্ষুধামুক্ত পৃথিবী, জলবায়ু এবং পানির নিচের জীবনসংক্রান্ত লক্ষ্যগুলো অর্জনে সহায়তা করতে চায়।





