সৌদি আরব আর দুবাইয়ের মরুর বুকে কাটিয়েছেন যুগের পর যুগ। প্রবাস জীবন শেষ করে সংসারে ফেরার তৃষ্ণা পেয়েছিল ২০১৮ সালে। চলেও এলেন স্থায়ীভাবে। সিদ্ধান্ত নিলেন বাকি জীবনটা কাটাবেন ছোট্ট একটা ব্যবসা দিয়ে। তিনি কক্সবাজারের চকরিয়ার সন্তান মনির আহমেদ। প্রবাস জীবনের প্রায় পুরো আয় দিয়ে বানিয়েছেন স্বপ্নের বাড়ি। দেশে ফিরেই দেরি না করে চারতলা বাড়ির কাজ শেষ করেছেন।

চিন্তা করেছিলেন ব্যবসা শুরু করবেন। কিন্তু বাড়ি করতে গিয়েই সব ফুরাল। হাতে নগদ টাকা নেই। ব্যবসার জন্য পরিচিতদের কাছে টাকা চেয়ে ব্যর্থ হলেন। সবশেষে ধরনা দিলেন ইসলামী ব্যাংকের স্থানীয় মাইজঘোনা শাখায়। সেখানকার রুরাল ডেভেলপমেন্ট স্কিম (আরডিএস) কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে এক শেডের মুরগি খামার করেন।

একদিনের মুরগির বাচ্চা কিনে আনেন। সেগুলোকে যত্ন করে বড় করে, খাওয়ার উপযুক্ত হলে চিকেন ব্রয়লার হিসেবে বাজারে বিক্রি করেন মনির। তার প্রতিষ্ঠানে একদিনের মুরগি থেকে শুরু করে মুরগির ডিমও বিক্রি হয় এখন। সময় গড়ায়, ব্যবসাও বাড়ে। এরই মধ্যে আরডিএস থেকে বিনিয়োগ নিয়েছেন, বাড়িয়েছেন ব্যবসাও। তার ব্যবসায় এখন ছোট থেকে মাঝারি মানের মুরগির বাচ্চা তো আছেই, সঙ্গে যোগ করেছেন হাঁসের খামারও।

ব্যবসায় সুসময় থাকে, আসে দুঃসময়ও। তার ব্যবসা শুরু থেকে ভালোই চলছিল। পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি বাড়িয়েছেন নিজের সঞ্চয়ও। কিন্তু ২০২০ সালে করোনার হানায় থমকে গিয়েছিল তার ব্যবসা। মহামারীর আঘাতে ছন্নছাড়া ব্যবসার ক্ষতি বাড়িয়েছিল ৫০ হাজার মুরগির মৃত্যু। তবে দমে যাওয়ার পাত্র মনির নন। সঞ্চয়ে থাকা ২০ লাখ টাকা আর আরডিএসের কিছু সহযোগিতায় আবার শুরু করেছেন। পুষিয়েছেন ক্ষতি। এর মধ্যেই শোধ করেছেন আরডিএসের ঋণের সব কিস্তি।

মনির বলেন, ‘খামারে এত বেশি মুরগি মারা যাওয়ার পর নিজে নিজেই ভ্যাকসিন দেয়া শিখেছি। মুরগির বেড়ে ওঠা থেকে শুরু করে সব স্বাস্থ্যসেবা নিজেই দিই। আরডিএস কর্মকর্তাদের অনুপ্রেরণা আর নিয়মিত যোগাযোগ আমার অভিজ্ঞতা আরো বাড়িয়েছে। খামারে মুরগির মৃত্যুহার শূন্যে এসে ঠেকেছে।’

স্ত্রী শারমিন আক্তার মনিরের ব্যবসার বড় সঙ্গী। মুরগির ডিম, মুরগির বাচ্চার বেড়ে ওঠা থেকে শুরু করে খামারের সব দেখভাল মূলত তিনিই করেন। মনির আর তার ছোট ভাই বাচ্চার খাবার থেকে শুরু করে বিক্রি করা পর্যন্ত সব খোঁজ রাখেন।

মনিরের সংসারে আলো এখন চার সন্তান। বড় ছেলে চট্টগ্রাম মেডিকেলে পড়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে আর ছোট ছেলে দশম শ্রেণীতে পড়ে, তৃতীয় ছেলে মাদ্রাসায় ভর্তি হয়েছে, ছোট ছেলের বয়স পাঁচ বছর।

এ সফল উদ্যোক্তার শ্রম আর ব্যবসার সমৃদ্ধি তার গ্রামে তাকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরেছে। উপজেলার মাঝিঘোনা আরডিএস সেন্টারের মধ্যমণিও তিনি। তার দেখায় সেই কেন্দ্রে এখন ৪৫ জন উদ্যোক্তা তালিকাভুক্ত হয়েছেন। মনির আরডিএসকে ধন্যবাদ জানান তার ব্যবসার শুরু থেকে সহায়তার জন্য। ঋণ দিয়ে সহায়তার জন্যও তিনি খুব খুশি।