ল্যাপারোস্কোপি একটি বিশেষ সার্জারি, যা অন্যান্য সার্জারির চেয়ে তুলনামূলক বেশি সুবিধাজনক। ক্যান্সার চিকিৎসায় সার্জারি, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি, ইমিউনোথেরাপি সবই একটার সঙ্গে আরেকটা জড়িত। অনেক সময় সার্জারির আগে রোগীকে কেমোথেরাপি দেয়া হয় আবার অনেক সময় সার্জারির পর। অতীতে এ সুবিধা ছিল না। ডাক্তাররা রোগীর পেট কেটে ভেতরে গিয়ে তারপর বুঝতে পারতেন যে এ রোগীর অপারেশন করা যাবে কি যাবে না। ল্যাপারোস্কোপির মাধ্যমে এখন সেটা খুব সহজেই করা যায়। ক্যান্সারের চিকিৎসায় তা কতটুকু ছড়িয়েছে সেটা জানা গুরুত্বপূর্ণ। এ কাজটুকু আমরা ল্যাপারোস্কোপি দিয়ে করতে পারি। ছোট ছোট দু-তিনটা ছিদ্র করে ক্যামেরা ঢুকিয়ে সেটা দেখা যায়। ল্যাপারোস্কোপির মাধ্যমে নিজের চোখে দেখে যেভাবে ডিটেক্ট করা যায় তা সিটি স্ক্যান, এমআরআই বা এক্স-রের মাধ্যমে করা যায় না। যথাযথ ফলাফলের জন্য ল্যাপোরোস্কোপি গুরুত্বপূর্ণ। তাই রোগীকে চিকিৎসা প্রদানের আগে তা কতটুকু ছড়িয়েছে সেটা জানতে ল্যাপারোস্কোপি গুরুত্বপূর্ণ। এর পরই আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি যে রোগীকে কী পরিমাণ কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি বা অন্যান্য থেরাপি দেব। ল্যাপারোস্কোপির আরো উল্লেখযোগ্য সুবিধা হলো অপারেশনের পর রোগীর ব্যথা কম হচ্ছে, ইনফেকশনের ভয় নেই, হার্নিয়া হচ্ছে না ইত্যাদি। তাছাড়া ল্যাপারোস্কোপির পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে আমরা তার ট্রিটমেন্ট প্রসেসরের দিকে এগোতে পারছি। ক্যান্সারের সার্জারি ল্যাপারোস্কোপি দিয়ে করা সম্ভব ও লাভজনক।