সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হোসেন জিল্লুর রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে গণতন্ত্রের সংকট রয়েছে। দেশের ব্যাংক খাত, শিক্ষা ব্যবস্থা ও শেয়ারবাজারসহ বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মদক্ষতায় এ সংকট তীব্র প্রভাব ফেলছে। রাজধানীতে গতকাল ‘ফার্স্ট ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স ঢাকা’ শীর্ষক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ‘পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে উন্নয়নের পথ অনুসন্ধান’ প্রতিপাদ্য নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগ ও বণিক বার্তা যৌথভাবে এ সম্মেলন আয়োজন করে। সম্মেলন হয় প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে।
গতকাল সম্মেলনের শেষ দিনে ‘গণতান্ত্রিক ঘাটতি থেকে উত্তরণের পথ’ শীর্ষক অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন হোসেন জিল্লুর রহমান। এ অধিবেশনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন লন্ডনের সোয়াস বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. নাওমি হোসেন ও অধ্যাপক ড. মুশতাক খান, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র রিসার্চ ফেলো ড. মির্জা এম হাসান, ওয়েস্টার্ন সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. জুলফার তাজউদ্দিন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশ।
হোসেন জিল্লুর রহমান মনে করেন নির্বাচনে বহু দলের অংশগ্রহণ বর্তমান ‘ডমিনেন্ট পার্টির’ জন্য ভীতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাস্তবিক অর্থে বাংলাদেশ একটি “ডমিনেন্ট পার্টি স্টেট”। এখনো নির্বাচনে বহু দলের অংশগ্রহণটা গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্ট হিসেবে কাজ করছে। যার জন্য অর্থপূর্ণ নির্বাচন আয়োজন করতে ডমিনেন্ট পার্টি এতটা ভীত। এ পার্টির যেসব উন্নয়নমূলক কাজ, তা নিয়ে ভরসা থাকলে অর্থপূর্ণ নির্বাচন দিতে তাদের কোনো বাধা থাকত না। আরেকটি উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত ক্ষমতার যে শৃঙ্খলিত অবস্থা ছিল, সেটির অনুপস্থিতি উপজেলা নির্বাচনে স্পষ্ট বোঝা গেছে। তবে আমরা আশাবাদী হতে পারি। বর্তমান প্রভাবশালী রাজনৈতিক মিত্রদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সমস্যা রয়েছে, যা তাদের টিকে থাকার ক্ষেত্রে নেতিবাচক।’
এম এম আকাশ বলেন, ‘বাংলাদেশের এগিয়ে যাওয়ার পেছনে মূলত চারটি চালিকাশক্তি রয়েছে। প্রথমত, প্রবাসীরা যারা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। দ্বিতীয়ত, গার্মেন্ট খাত, যেটি যেকোনোভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে একটি জায়গা পাওয়ায় উন্নতি করেছে। তৃতীয়ত, এসএমই এবং চতুর্থত, কৃষি খাত। যদি শাসন প্রক্রিয়ায় এসব খাতের প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করা যায় তাহলেই কর্মমুখী জনশক্তি বৃদ্ধি পাবে এবং তুলনামূলক সমবণ্টনও নিশ্চিত হবে। আর এটাই একমাত্র বাংলাদেশকে রক্ষা করতে পারবে।’
ড. মুশতাক খান বলেন, ‘অর্থনীতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সামাজিক চুক্তিতে ক্ষমতার বণ্টনে পরিবর্তন ঘটে। এর ভিত্তিতে নব্বইয়ের দশকের সঙ্গে বর্তমান বাংলাদেশের চিত্র তুলনা করলে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিবর্তন দেখা যায়। নব্বইয়ের দশকে দুই দলের মধ্যেই ব্যাপক মাত্রায় ক্ষমতার বিভাজন ছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে একদল আরেক দলকে সম্পূর্ণ সরিয়ে দেয়।’
তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের উন্নয়নের ফল দেখলে আশাবাদী হতে পারি না। গত দুই দশকে কোনো ধরনের নতুন শিল্প এখানে গড়ে ওঠেনি। যদিও আমাদের এখানে ব্যাপক মাত্রায় অবকাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে।’





