কুমিল্লা থেকে এনামুল হক দর্জির কাজ করার জন্য ১১ বছর আগে ওমানে যান। নির্দিষ্ট বেতন ৫০ হাজার টাকার বদলে তিনি পেতেন ৪০ হাজার টাকা। কিন্তু কম বেতনের চেয়েও তার জন্য বড় সমস্যা ছিল তাকে দিয়ে তার নিয়োগকর্তা অনেক ওজনের কাঁচামাল গাড়িতে ওঠাতেন-নামাতেন। পরবর্তী সময়ে কোনো এক পর্যায়ে বুকে ব্যথা শুরু হওয়ায় তিনি একটি সরকারি হাসপাতালে যান। সেখানে দুদিন চিকিৎসাধীন থাকার ফলে তার ৯০ হাজার টাকা খরচ হয়। কিন্তু তার নিয়োগকর্তা এ খরচ বহন করতে অপারগতা জানান। এর আগে বারবার স্বাস্থ্য কার্ড চাওয়া সত্ত্বেও তার মালিক তাকে তা দেননি। পরবর্তীকালে দেশে ফিরে এসে তাকে চিকিৎসার জন্য দেড় লাখ টাকা খরচ করতে হয়। এনামুল হক বিদেশে থাকাকালীন যা অর্জন করেছিলেন তার একটা বড় অংশই ব্যয় হয়ে যায় চিকিৎসার পেছনে।
সৌদি আরবে চাকরিরত শাহিদা আক্তার ২ লাখ টাকা খরচ করে গৃহকর্মে নিযুক্ত হন। দিন-রাত নির্বিশেষে তাকে পরিশ্রম করতে হতো। কারণ তার কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট ছিল না। কাজের চাপে তিনি বিশ্রামের সুযোগ পেতেন না। এছাড়া তাকে যা খেতে দেওয়া হতো তা তিনি খেতে পারতেন না। মাসিক প্রয়োজনে স্যানিটারি পণ্য কিনতে যাওয়ার অনুমতি তাকে দেয়া হতো না। প্রায়ই তার ওপর শারীরিক নির্যাতন করা হতো। এসব কারণে তিনি চাকরি ছেড়ে দিতে চাইলে তাকে জানানো হয় চাকরির মেয়াদ দুই বছর পূর্ণ হওয়ার আগে তিনি যেতে পারবেন না। এরই মধ্যে তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সঙ্গিন হয়ে পড়লে তার নিয়োগকর্তা তাকে হাসপাতালে ফেলে রেখে চলে যান। প্রাথমিকভাবে হাসপাতালে খাওয়াসহ যাবতীয় খরচ তিনি নিজের জমানো টাকা দিয়ে বহন করেন। কিন্তু দ্রুতই তা নিঃশেষ হয়ে যায়। তার পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার পর তাকে হাসপাতাল ও দেশে ফিরে আসার খরচ পাঠানো হয়। দেশে আসার পর ডাক্তার তাকে জানান দীর্ঘ সময় ধরে জন্ডিসে ভোগার কারণে তার যকৃৎ বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
কুমিল্লার মামুন হাসান ২০২০ সালে নির্মাণ খাতে কাজ করতে ওমানে যান। সেখানে তিনি চাকরির চুক্তির চেয়ে অনেক কম বেতনে কাজ করতে বাধ্য হন। এমনকি বাড়তি কাজের জন্য কোনো ওভারটাইম তিনি পেতেন না। একদিন দুর্ঘটনায় দুজন সহকর্মীসহ ১২ ফুট ওপর থেকে পড়ে তার পা ভেঙে যায়। তাত্ক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া মামুনকে ৬০ হাজার টাকা নিজের থেকে পরিশোধ করতে হয়। তার নিয়োগকর্তা আহত তিনজন কর্মচারীর চিকিৎসার খরচ বহন করতে অস্বীকৃতি জানান। উপরন্তু তিনি চাকরির চুক্তির মেয়াদপূর্তির অনেক আগেই তাদের পাসপোর্ট দিয়ে নিজ দেশে ফেরত যেতে বাধ্য করেন। যদিও নিয়োগকর্তা কথা দিয়েছিলেন সুস্থ হওয়ার পর তাদের কাজে ফিরিয়ে নেবেন, কিন্তু কভিড-১৯ মহামারীর কারণে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।
বাংলাদেশী অভিবাসীদের উপরোক্ত তিনটি ঘটনা সুস্পষ্টভাবে এ বাস্তবতাকেই প্রতিষ্ঠিত করছে যে বৈধ পথে নিয়মিতভাবে চাকরি নিয়েও শ্রম অভিবাসীরা গন্তব্য দেশে স্বাস্থ্যসেবা থেকে প্রায় বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছেন। সমাজের অপেক্ষাকৃত দুর্বল অংশের সদস্য হওয়ার কারণে দেশের অর্থনীতির ওপর তাদের এত অবদান থাকা সত্ত্বেও তারা এ ধরনের সঙ্গিন অবস্থায় দিন কাটাতে বাধ্য হচ্ছেন।
উৎস ও গন্তব্য দেশগুলোর নীতিমালায় এ শ্রমিকদের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত বিষয়টি এখন পর্যন্ত খুব কম মনোযোগ পেয়েছে। যদিও শ্রমগ্রহীতা দেশগুলো মূলত জাতীয় সুরক্ষা এবং শ্রমিকদের অভিবাসন স্ট্যাটাসের ওপর গুরুত্ব দেয়, উৎস রাষ্ট্রগুলোর আলোচ্যসূচিতে প্রাধান্য পায় শ্রমিকদের রেমিট্যান্সপ্রবাহ সম্পর্কিত বিষয়গুলো এবং সেই সঙ্গে নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন, দক্ষতার বিকাশ ও রেমিট্যান্স ব্যবহার-সংক্রান্ত তথ্যের প্রচার।
তথ্য প্রচার, আর্থিক সাক্ষরতা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার মতো বিষয়গুলো নিয়ে যুক্ত থাকার ফলে অভিবাসীদের স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে বেসরকারি খাতের তত্পরতা উৎস দেশগুলোতে ন্যূনতম এবং গন্তব্য দেশগুলোতে প্রায় অস্তিত্বহীন। একই সঙ্গে বিষয়টি এখনো বিভিন্ন আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক প্রক্রিয়া যেমন অভিবাসন উন্নয়ন সম্পর্কিত বৈশ্বিক ফোরাম, কলম্বো প্রক্রিয়া বা আবু ধাবি সংলাপে গুরুত্ব পায়নি।
কভিড-১৯ মহামারীর প্রাদুর্ভাব স্বল্পমেয়াদি অভিবাসী শ্রমিকদের গন্তব্য দেশে বিদ্যমান স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ভঙ্গুর কাঠামোকে সামনে তুলে এনেছে। এ বাস্তবতাও সামনে এসেছে যে অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যসেবা লাভের অধিকার কাগজে-কলমে সহজলভ্য হলেও বাস্তবে শ্রমিকদের সেবা পেতে নানাবিধ সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হতে হয়।
কর্মসংস্থানের আবশ্যক শর্ত হিসেবে কাজের ভিসা পেতে হলে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে হয়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে গন্তব্য দেশের দূতাবাস দ্বারা অনুমোদিত ডায়াগনস্টিক কেন্দ্রগুলোতে এ-জাতীয় পরীক্ষা করানো বাধ্যতামূলক। শারীরিকভাবে উপযুক্ত বিবেচিত হলেই কর্মীরা কাজের জন্য বিদেশে যেতে পারেন। তবু এমন অনেক দৃষ্টান্ত রয়েছে যেখানে গন্তব্য দেশগুলোতে আসার পর দ্বিতীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অনুপযুক্ত বিবেচিত হওয়ার কারণে অনেক শ্রমিককে দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এমতাবস্থায় প্রশ্ন জাগে যে তাদের অনুমোদিত কেন্দ্রগুলোতে প্রাথমিক পরীক্ষার ভুল-ত্রুটির দায়বদ্ধতা কি গন্তব্য দেশগুলোরই নেয়া উচিত নয়?
আরেকটি প্রাসঙ্গিক বিষয় হলো কেন উৎস ও গন্তব্য উভয় দেশেই সফলভাবে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় পাস করা অল্পবয়সী অনুপ্রাণিত পুরুষ ও নারীদের একটি অংশ এমন কিছু অসুস্থতায় ভুগবে যা সাধারণত তাদের বয়সের সঙ্গে সম্পর্কিত নয়। তাদের অস্বাস্থ্যকর কর্মপরিবেশ যেমন দীর্ঘ কর্মঘণ্টা, কাজ চলাকালীন বিশ্রামের অনুপস্থিতি, অতিরিক্ত তাপমাত্রায় কাজ করা, অনিরাপদ কাজের শর্তাদি সম্ভবত এ প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে। কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনা, অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা ব্যবস্থা এবং সুরক্ষা যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষণের অভাব এক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব রাখে। অস্বাস্থ্যকর বাসস্থান যেমন অত্যন্ত ঘনবসতিপূর্ণ আবাসস্থল রোগ সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। অভিবাসী কর্মীদের সঙ্গে অবমাননাকর আচরণ, উদাহরণস্বরূপ শারীরিক, মৌখিক ও যৌন নির্যাতন, প্রতিশ্রুত চাকরি না দেয়া, অনিয়মিতভাবে বেতন প্রদান ও অন্যান্য অধিকারের লঙ্ঘন এবং একই সঙ্গে সুষ্ঠু প্রতিকার ব্যবস্থার অভাব তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে, যার প্রভাব তাদের শারীরিক সুস্থতার ওপরও পড়ে।
নারী গৃহকর্মীদের স্বাস্থ্যবিষয়ক নাজুকতা বিশেষভাবে গুরুতর। তাদের চলাফেরায় আরোপিত বিধিনিষেধ তাদের চিকিৎসাসেবা লাভ করা থেকে এবং স্যানিটারি পণ্য কেনা থেকে বঞ্চিত করে। তারা অনেকেই বিচ্ছিন্নতা ও একাকীত্ববোধে ভোগেন। গোপনীয়তার অভাব তাদের নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতিকে বাড়িয়ে তোলে। অনিয়মিত অভিবাসীদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। চিকিৎসার খরচ বহনের সীমিত আর্থিক ক্ষমতা ছাড়াও হাসপাতালের কর্তৃপক্ষ দ্বারা অবৈধ চিহ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তাদের গুরুতর স্বাস্থ্য পরিস্থিতির মাঝেও আনুষ্ঠানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে চিকিৎসাসেবা নেয়া থেকে বিরত রাখে।
অভিবাসী শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগের ওপর ভাইটাল সায়েন্স—রামরু পরিচালিত চলমান গবেষণায় দেখা গেছে: (ক)
গন্তব্য দেশগুলোতে স্বাস্থ্যসেবা প্রাপ্যতার অধিকার ও সুযোগ সম্পর্কে অভিবাসী কর্মীদের জ্ঞান খুব কম; (খ)
বেশির ভাগ অভিবাসী কর্মীর স্বাস্থ্যবীমা নেই, যার কারণে তাদের স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ বাধাপ্রাপ্ত হয়; (গ)
কর্মীরা অসুস্থ হয়ে পড়লে নিয়োগকর্তারা তাদের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে অস্বীকৃতি জানান; (ঘ)
বীমার অনুপস্থিতিতে এমন পরিস্থিতি হতে পারে যেখানে অভিবাসী কর্মীদের চিকিৎসার খরচ বহন করার জন্য দেশে সম্পত্তি বিক্রি করতে হয়; (ঙ)
নিয়োগকর্তা দ্বারা শ্রমিকদের চিকিৎসার দায়িত্ব বহন করানো বা এ-সংক্রান্ত কোনো সাহায্য বা পরামর্শ দেয়ার ক্ষেত্রে উৎস দেশের মিশনগুলোর সক্ষমতা কম এবং (ছ) অভিবাসী কর্মীদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই নিজেদের বা সহকর্মীদের দেশ থেকে নিয়ে আসা ওষুধ সেবনের প্রবণতা রয়েছে।
স্বাস্থ্যসেবা সম্পর্কিত রামরুর একটি সাম্প্রতিক আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা উৎস ও গন্তব্য দেশগুলোর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় চুক্তির গুরুত্ব তুলে ধরেছেন, যেখানে স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগসহ অভিবাসী কর্মীদের সুরক্ষার অন্যান্য বিধানের ওপর জোর দিতে হবে। এ বিধানগুলো নিশ্চিত করতে হবে যে গন্তব্য দেশগুলোতে কর্মীরা মর্যাদাপূর্ণ কাজের অবস্থা (পর্যাপ্ত বিশ্রাম, অবসর ও নিরাপদ কাজের জায়গাসহ ৮ ঘণ্টা কাজের সময়) এবং জীবনযাত্রার পরিস্থিতি (পর্যাপ্ত পানিসহ স্বাস্থ্যকর পরিবেশ) পাবেন। চুক্তিতে নির্ধারণ করা আবশ্যকীয় যে নিয়োগকর্তারা তাদের নিযুক্ত অভিবাসী কর্মীদের স্বাস্থ্যসেবা চাহিদা মেটাতে দায়বদ্ধ থাকবেন এবং কাজের চুক্তিতে পর্যাপ্ত বীমা সুবিধার ব্যবস্থা থাকতে হবে। সেখানে এমন বিধান রাখতে হবে যাতে নিয়োগকর্তারা কর্মীদের অসুস্থতার অজুহাতে চাকরিচ্যুত করতে না পারেন। এ বিধানগুলো মেনে চলা হচ্ছে কিনা তা নিরীক্ষণের জন্য প্রয়োজন উৎস দেশের মিশনের শ্রমবিভাগগুলোর ক্ষমতায়ন। মিশনগুলোর নিশ্চিত করতে হবে যে বৈশ্বিক সাপ্লাই চেইনের শীর্ষে থাকা অভিবাসী শ্রমিক নিয়োগকারী সংস্থাগুলো শ্রম সরবরাহকারী সংস্থাসহ সব আন্তঃসম্পর্কিত কার্যকলাপের জন্য দায়বদ্ধ থাকবে।
‘ফ্রি ভিসা’ ব্যবস্থা অভিবাসী কর্মীদের নানাবিধ নিরাপত্তাহীনতায় ফেলে দেয়। এ ব্যবস্থা স্বাস্থ্য ও অন্যান্য অধিকার অগ্রাহ্য করে তাদের অনিরাপদ ও শোষণমূলক কর্মপরিবেশের দিকে ঠেলে দেয়। ফ্রি ভিসা কর্মীদের সরবরাহ বাড়িয়ে দিলেও এর ব্যবহার গন্তব্য দেশে শ্রমিকদের অনেক ভোগান্তি বাড়িয়ে দেয়। এ পরিস্থিতিতে ন্যায্য ও নৈতিক নিয়োগ নিশ্চিত করে দক্ষ শ্রমিকদের জন্য ‘কোম্পানি ভিসা’ সংগ্রহ করতে নিবন্ধিত নিয়োগ সংস্থাকে উৎসাহিত ও সহযোগিতা করা আবশ্যক।
এ আলোচনায় দূতাবাস অনুমোদিত চিকিৎসা কেন্দ্রে অভিবাসনের আগে কর্মীদের জন্য বাধ্যতামূলক ব্যয়বহুল স্বাস্থ্য পরীক্ষার সমস্যা নিয়েও কথা বলা হয়েছে। এ কেন্দ্রগুলোতে স্বাস্থ্য পরীক্ষায় ব্যবহূত সরঞ্জামগুলোর গুণগত মান (যা আংশিকভাবে দুই দেশে পরীক্ষার ফলাফলের ভিন্নতার ব্যাখ্যা দেয়) এবং সেবা গ্রহণকারীদের থেকে বাড়তি অর্থলাভের জন্য পরীক্ষার ফলাফল বদলানোর অনৈতিক চর্চা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
অভিবাসন-পূর্ববর্তী ওরিয়েন্টেশন এবং গন্তব্য দেশগুলোতে যাওয়ার পর অভিবাসীদের যতটা সম্ভব পুষ্টিকর খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত জল পান, বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে কাজ করার সময় সুরক্ষা গিয়ারের ব্যবহার ইত্যাদির গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতন করা দরকার। ফিরে আসা অসুস্থ ও নির্যাতিত অভিবাসী শ্রমিকদের তাত্ক্ষণিক শারীরিক ও মানসিক পুনর্বাসনের চাহিদা মেটাতে আলাদা তহবিলসহ বিশেষ ব্যবস্থা রাখার বিষয়ে বিবেচনা করা আবশ্যক।
অনেক গন্তব্য দেশ বর্তমানে তাদের অভিবাসী কর্মশক্তি-সংক্রান্ত নীতির সংস্কার করছে। কিছু দেশে কাফালা (স্পন্সরশিপ) ব্যবস্থার রোধ একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। দেশের নাগরিকদের স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা পূরণে সফলতা উদযাপনের পাশাপাশি গন্তব্য দেশগুলোকে তাদের অভিবাসী কর্মশক্তির জন্য বিদ্যমান স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ঘাটতির প্রতি যথাযথ মনোযোগ দিতে হবে। এ ধরনের পদক্ষেপ তাদের কেবল অভিবাসী শ্রমিকদের জন্য আদর্শ গন্তব্য দেশ হিসেবে গড়ে তুলবে না, একই সঙ্গে তাদের সহায়তা করবে আইএলও শ্রমনীতি, টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা ও অভিবাসনের জন্য বিশ্বব্যাপী কমপ্যাক্টের অধীনে দেশীয় বাধ্যবাধকতা ও প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণ করতে।
সি আর আবরার : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক ও রামরুর নির্বাহী পরিচালক।





