জর্ডানের একটা
শহর আকাবায়
আমি থাকি।
এখানে বসবাসরত
বাংলাদেশীরা ভালোই
আছে বলা
যায়, শান্তিতে
আছে তারা।
বাংলাদেশের বিভিন্ন
জেলা থেকে
তারা এসেছে।
তাদের সঙ্গে
কথাবার্তা হলেও
দেখি এরা
ভালোই আছে।
প্রায় পুরো
জর্ডানজুড়েই বাংলাদেশের
লোকজন আছে।
তবে সবচেয়ে
বেশি বাংলাদেশী
আছে আম্বালে।
কারণ ওখানে
পোশাক ফ্যাক্টরি
বেশি। এখানেও
গার্মেন্টস ফ্যাক্টরি
আছে। হিসভব
করলে তাতে
প্রায় ১০
হাজার বাংলাদেশী
আছে। আকাবা
মূলত ট্যুরিস্ট
এলাকা। এখানে
হোটেল, রেস্টুরেন্ট,
সুপারমার্কেট এসব
বেশি। স্থানীয়দের
রেস্টুরেন্টেও অনেকে
কাজ করে,
যেমন আমি অ্যাসিসটেন্ট কুকার হিসেবে কাজ
করি।
এখানে বাংলাদেশী
সুপারমার্কেট আছে,
এগুলো তাদের
নিজস্ব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান।
বেশ ভালো
ব্যবসা করেন
তারা। এখানে
গার্মেন্টস সেক্টরটি
নতুন হয়েছে।
এতেও প্রায়
৭ হাজারের
মতো বাংলাদেশী
আছে। নারী
কর্মীরা গার্মেন্টসে
কাজ করে।
আর কিছু
নারী আছে
যারা বাসাবাড়িতে
কাজ করে।
তবে এখনো
বাংলাদেশ থেকে
দক্ষ লোক
নিয়ে আসা
হচ্ছে জর্ডানে।
এজেন্টের সঙ্গে
কথা বলে
তারা বাংলাদেশ
থেকে আসছে
এবং এখানে
পোশাক কারখানায়
সুন্দরভাবে কাজ
করছে। আমার
জানামতে তারাও
বেশ ভালো
আছে।
আকাবায়ই আরেকটা
এলাকা আছে,
নাম হারাবিয়া।
সেখানে শুধু
শুক্রবার ছুটি
থাকে। হারাবিয়ায়
প্রবাসী বাংলাদেশীরা
একত্রে ক্রিকেট
খেলে, ফুটবল
খেলে। শুক্রবার
ছুটি থাকায়
সবাই একত্র
হয়ে অনেক
আনন্দ করে।
আমরা যারা
রেস্টুরেন্টে কাজ
করি, আমাদের
শুক্রবার ছুটি
থাকে না।
অন্যদিন থাকে,
সেদিন আমরাও
আনন্দ করি।
জর্ডানের মানুষ
আসলে খুব
ভালো। তারা
বাংলাদেশের লোকজনকে
খুব ভালোবাসে
ও সুনাম
করে। কোনো
অহংকার নেই
তাদের। খুব
শান্তিপূর্ণভাবে তারা
একসঙ্গে বাস
করে।
এখানে মূলত
আরবি ভাষায়
কথা হয়।
এখন যারা
আছেন, তারা
সবাই পুরনো,
কথা বলতে
সমস্যা হয়
না। সবাই
আরবি ভালো
বলতে পারে।
আমি যখন
প্রথম এলাম,
তখন আরবি
জানতাম না।
ইংরেজিতে কথা
বলতাম। পরে
আরবি শিখেছি।
এখন আরবি,
ইংরেজি, হিন্দি,
উর্দুতেও কথা
বলতে পারি।
মিসরীয়, বাংলাদেশী,
পাকিস্তানি, ভারতীয়
ও সুদানি
প্রবাসী রয়েছে
জর্ডানে। এছাড়া
শ্রীলংকা, চায়নাসহ
আরো অন্য
দেশের অনেকেই
আছে।
আমি এখানে
এসেছি ২০০৬
সালে। তখন
আমরা একটা
কোম্পানিতে ২০
জন এসেছিলাম।
১০ জনের
গ্রুপ করে
আকাবার সাগর
থেকে মিসরে
সুইটে কাজ
করতাম। তখন
আরবি তেমন
বুঝতাম না,
ইংরেজিতেই কথা
বলতাম। সে
সময়ে খুব
পরিশ্রম করতে
হয়েছে, খুব
কষ্ট করতে
হয়েছে। এমন
কষ্ট যে
আমার গ্রুপে
যে দশজন
ছিল তাদের
আটজন বাংলাদেশে
ফিরে যায়।
আর আমি
আর আমার
সঙ্গে একজন
থেকে যাই।
কষ্ট যেমন
বেশি ছিল,
তেমন বেতনও
কম ছিল।
যখন জয়েন
করেছিলাম এ
দেশের ১০০
টাকা হবে
না, আরো
কম, ৯২-৯৫
টাকা। এ
দেশের ১
টাকা সমান
ছিল বাংলাদেশের
৮০ টাকা।
তবে এটুকু
বলতে চাই,
বিদেশে যারা
যাবে তাদের
প্রত্যেককে প্রতিটি
পদে কষ্ট
করতে হবে
এবং ত্যাগ
স্বীকার করতে
হবে। আজকে
যে পর্যায়ে
আমি এসেছি,
অনেক কষ্টের
পরে এসেছি,
আজ সফলতার
মুখ দেখছি।
বাকি যারা
আমার সঙ্গে
ছিল, সবাই
বাংলাদেশে ফিরে
গিয়েছিল। এখন
তারা আমাকে
বলে, ‘ভাই
তোর কথা
না শুনে
অনেক ভুল
করেছি। কষ্ট
করে থাকলে
হয়তো তোর
মতোই ভালো
হতো।’ ওসব
বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে
এখনো কথা
হয়। প্রথমে
যখন এসেছিলাম,
তখন আমাদের
কনট্র্যাক্ট ছিল,
৮ ঘণ্টা
ডিউটি করব।
সেখানে আমাদের
ডিউটি করিয়ে
নিত ১৬
ঘণ্টা। বেতন
১ টাকাও
বেশি দিত
না। যাই
হোক, অনেক
কষ্টের পর
আমরা বাংলাদেশ
থেকে যারা
এসেছি, তারা
সফলতা অর্জন
করতে পেরেছি।
বিদেশে এলে
কষ্ট মেনে
নিতে হবে,
কষ্ট করতেই
হবে। আমি
এই কষ্টটা
প্রথমবার করেছিলাম।
আমার অন্য
বন্ধুরা কষ্ট
করতে পারেনি
বলেই বাংলাদেশে
ফিরে গিয়েছিল।
কষ্ট শেষে
আমি নিজেকে
সফল প্রবাসী
বলতে পারি।
এখানে রেস্টুরেন্ট
ও পোশাক,
এ দুই
খাতেই বাংলাদেশী
বেশি। যারা
গার্মেন্টসে কাজ
করে, তাদের
কাজের কোয়ালিটি
ভিন্ন। আর
যারা হোটেল-রেস্টুরেন্টে
কাজ করে
তাদের কোয়ালিটি
আলাদা। রেস্টুরেন্টে
যারা কাজ
করে, তাদের
কাজ থাকলে
কাজ করতে
হবে, কাজ
না থাকলে
বসে থাকলেও
সমস্যা নেই।
কিন্তু ডিউটিতে
থাকতে হবে।
জর্ডানে পর্যটক
বেশি। এখানে
আকাবা সাগর
আছে। এর
সবচেয়ে জনপ্রিয়
জায়গা হচ্ছে
পেট্রা। এছাড়া
আছে ডেড
সি। এখানে
অনেক পর্যটন
এলাকা আছে।
দেশটি পর্যটকের
ওপরই বেশি
নির্ভরশীল। প্রবাসী
বাংলাদেশীরা কেমন
জায়গায় থাকে,
সেটা তাদের
মালিকের ওপর
নির্ভর করে।
যেমন আমরা
পার্সোনাল হাউজে
থাকি। সেটা
অনেকটা ঢাকার
বাসা ভাড়ার
মতো। পাঁচজন
মিলে বাসা
ভাড়া করে
থাকি। বেতন
সিস্টেমে কাজ
করি। মালিকের
সঙ্গে চুক্তি
করি, কী
স্যালারি দেবে,
সে অনুযায়ী
আমরা চাকরি
করি। যতক্ষণ
ডিউটি থাকে,
ততক্ষণ খাবার
সরবরাহ করে
জর্ডানিয়ান মালিক।
ফিলিস্তিনের সঙ্গে
ইসরায়েলের যে
গণ্ডগোল সেই
আমল থেকে
হয়ে আসছে।
সে গণ্ডগোলের
কারণে ফিলিস্তিনের
ধনী লোকজন,
যাদের টাকাপয়সা
আছে তারা
জর্ডানে চলে
আসে। ফিলিস্তিনের
কিছু লোকজন
এখানে আছে,
যাদের নিজস্ব
ব্যবসা বেশি।
তারা এখন
মিলিতভাবে জর্ডানের
সঙ্গেই কাজ
করছে।
আবার অনেকেই
এখানে পরিবার
নিয়ে আসে।
তাদের নিজেদের
পরিবার নিয়ে
আসার সুযোগ
আছে। তবে
অন্যান্য দেশের
মতো দীর্ঘ
সময় থাকলেও
এখানে নাগরিকত্ব
পাওয়ার সুযোগ
নেই। জর্ডানে
আপনার জীবনকাল
কাটিয়ে দিতে
পারবেন কিন্তু
নাগরিকত্ব দেবে
না।
মো. এজানুর রহমান : জর্ডান প্রবাসী বাংলাদেশী





