ড. মুহাম্মদ সামাদ
উপউপাচার্য (প্রশাসন), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তিতে সবাইকে প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানাই। প্রতিষ্ঠার পর থেকে একদিকে উচ্চশিক্ষার আলো ছড়িয়েছে এ অঞ্চলে; অন্যদিকে একটি মধ্যবিত্ত শ্রেণী তৈরি করে তাদের বুদ্ধিমত্তায় রাজনৈতিক, আর্থসামাজিক ও সাংস্কৃতিক মুক্তিকে ত্বরান্বিত করেছে। যার প্রধান অর্জন বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আজকের স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ।
সফলতা ও ব্যর্থতা আপেক্ষিক। সামগ্রিক সমাজ বাস্তবতায় আমাদের প্রধান কাজ গ্র্যাজুয়েট তৈরি করা, যারা মানবসম্পদ হিসেবে দেশ পরিচালনায় কাজ করবেন, সেটা হচ্ছে। দ্বিতীয়ত গবেষণা করা। এখানে অর্থের চেয়ে ইচ্ছা বা স্পৃহা অধিক প্রয়োজনীয় বলে আমি মনে করি। ব্রুনো, কোপারনিকাস, আইনস্টাইন, নিউটন, মাদাম কুরি, সত্যেন বোস, জগদীশচন্দ্র বসু প্রমুখের আগ্রহই তাঁদের আবিষ্কার-উদ্ভাবনে ব্রতী করেছে। তেমন মানুষ কই তাছাড়া ভেতরে জ্ঞানের শক্তি, বিদ্যার বল কমেছে সুষ্ঠু পরিকল্পনা ও দক্ষ পরিচালনার অভাবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে অনেক সংস্কার আবশ্যক।
প্রথমত শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়িত্ব পালনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। পাঠদান প্রভাষক থেকে অধ্যাপক পর্যন্ত কাঠামোবদ্ধ করতে হবে। আগ্রহী গবেষকদের জন্য তহবিলের জোগান দিতে হবে। শিক্ষকদের সঙ্গে ছাত্র-ছাত্রীদের সেতুবন্ধ তৈরি করতে হবে। একই ধরনের কোর্স পড়ানো হয় এমন বিভাগ বা ইনস্টিটিউটগুলোর মধ্যে সিলেবাস সমন্বয় করে ব্যবস্থা নিতে হবে। হল প্রশাসন অধিক কার্যকর করে শিক্ষার্থীদের তদারকি বাড়াতে হবে। সবাই যাতে নিজ নিজ দায়িত্ব সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করতে পারে, তার জন্য টিমওয়ার্ক খুবই জরুরি।
একথা সত্যি। তবে মনে রাখতে হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় মুুক্তচিন্তা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের লালনক্ষেত্র। বৃহত্তর কল্যাণের জন্য সর্বোচ্চ সহনশীলতা প্রদর্শন করে মতবৈচিত্র্যের মধ্যে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষা ও গবেষণাকে এগিয়ে নেয়া প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব। সেটা করতে পারলে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারে স্বস্তি আসবে এবং সবাই দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে এগিয়ে আসবে বলে আমার বিশ্বাস।





