ইন্দিরা গান্ধীর সঙ্গে বঙ্গবন্ধুর প্রথম সাক্ষাৎ ঘটেছিল ১০ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে দিল্লি বিমানবন্দরে। দিল্লিতে দুজন সেদিন একই মঞ্চে বক্তৃতা করেছিলেন। ৬ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধুর কলকাতা সফরে দুজনের আবার সাক্ষাৎ হয়েছিল। কলকাতার রাজভবনে দুজনের সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের এ অকৃত্রিম বন্ধু ইন্দিরা গান্ধীকে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
প্রথম সাক্ষাতের ঠিক ৬৭ দিন পর স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম রাষ্ট্রীয় অতিথি হিসেবে ইন্দিরা গান্ধী এবার নিজেই এলেন বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের স্বাধীন বাংলায়। ইন্দিরার আগমন নিয়ে ব্যাপক প্রস্তুতি নেয় বাংলাদেশ। একই সঙ্গে এ সফরের বিশেষত্ব যুক্ত হয় একই দিনে বঙ্গবন্ধুর জন্মদিনের কারণে। স্বাধীন বাংলায় বঙ্গবন্ধুর প্রথম জন্মদিন।
মুক্তিযুদ্ধে ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকা বাংলাদেশের মানুষের কাছে তাকে দেবতুল্য করে তুলেছিল। ইন্দিরা, বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ পরিণত হয়েছিল সমার্থক শব্দে। কিন্তু বিজয়ের পর পরই মিত্র বাহিনীর বাংলাদেশে অবস্থান নিয়ে আড়ালে-আবডালে অসন্তোষ বিরাজ করছিল। ইন্দিরা গান্ধীর বাংলাদেশ সফরের আগেই ১২ মার্চ মিত্র বাহিনীর সর্বশেষ দলটি বাংলাদেশ ত্যাগ করে। ফলে একদিকে চাপা সেই অসন্তোষ যেমন দূর হয়, অন্যদিকে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনে কংগ্রেসের বিপুল বিজয়ের কারণে ইন্দিরা গান্ধীও খুব ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন।
১৭ মার্চ, ১৯৭২। ঢাকার তেজগাঁও বিমানবন্দরে ভারতীয় বিমান বাহিনীর বিশেষ উড়োজাহাজ ‘রাজহংস’-এ সকাল ১০টা ৩৫ মিনিটে প্রথমবারের মতো ঢাকায় নামলেন ইন্দিরা। উড়োজাহাজটির গায়ে ভারতের তেরঙ্গার পাশে নতুন জন্ম নেয়া বাংলাদেশের লাল-সবুজ পাতাকা। বাংলাদেশের মাটি স্পর্শ করামাত্রই চারদিকে জয়ধ্বনি, করতালিতে মুখর হয় সারা বিমানবন্দর। ততক্ষণে এগিয়ে যান বঙ্গবন্ধু। সঙ্গে বেগম মুজিব, রাসেল, পররাষ্ট্রমন্ত্রী আবদুস সামাদ। বুটি ছাপা সিল্কের হালকা সবুজ শাড়ি পরিহিত ইন্দিরা গান্ধী উড়োজাহাজ থেকে বের হয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে বিমানবন্দরের আকাশ-বাতাস জয় ইন্দিরা গান্ধী, জয় বাংলা, জয় ভারত, জয় বঙ্গবন্ধু, জয় বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী ধ্বনিতে মুখর হয়ে ওঠে। একনজর তাকে দেখার জন্য সাধারণের সে কি আকুলতা! এদিন সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছিল। ফলে বিমানবন্দরের বাইরে হাজারো জনতা উৎসুক হয়ে অপেক্ষা করছিল ইন্দিরাকে একনজর দেখার জন্য।
হেলিকপ্টারে করে ইন্দিরা গান্ধী সরাসরি পৌঁছেন বঙ্গভবনে। তার থাকার বন্দোবস্ত করা হয় বঙ্গভবনে। সে সময়ের বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির স্পেশাল অফিসার মাহবুব তালুকদার তার স্মৃতিচারণমূলক বঙ্গভবনে পাঁচ বছর গ্রন্থে লিখেছেন, ‘বঙ্গভবন এ উপলক্ষে নতুন সাজে সজ্জিত করা হলো। এর অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার জন্য কলকাতা থেকে মিসেস বসন্ত চৌধুরীকে কমিশন করে আনা হয়েছিল। বসন্ত চৌধুরী স্বনামখ্যাত চিত্রনায়ক ও নাট্যাভিনেতা। তার স্ত্রী স্বনামখ্যাত ইন্টেরিয়র ডেকোরেটর। ভদ্রমহিলা দিন-রাত পরিশ্রম করে বঙ্গভবনকে সাজিয়ে দিলেন।’
ইন্দিরা গান্ধীর বাংলাদেশ সফরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় ছিল সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জনতার উদ্দেশে ভাষণ প্রদান। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নৌকার আদলে স্থাপন করা হয় ইন্দিরা মঞ্চ। নৌকার ছাদটি ছিল শাপলা পাতার আকৃতিতে গড়া। তার পরে দুই দেশের জাতীয় পতাকা উড়ছিল মুক্ত আকাশে পত্পত্ করে। নৌকার গায়ে জাতীয় ফুল শাপলার অনুকরণে আঁকা ছিল আলপনা। শিল্পীর নিপুণ তুলির পরশে আলপনাগুলো অদ্ভুত সুন্দর লাগছিল। উদ্যানের চারপাশ সাজানো হয়েছিল দুই দেশের জাতীয় পতাকা দিয়ে। ১৬ মার্চ দৈনিক ইত্তেফাক প্রস্তুতি নিয়ে লিখেছিল, ‘জনগণ যাহাতে মাননীয়া অতিথিকে শান্তিপূর্ণভাবে দেখিতে পারেন তজ্জন্য ময়দানে কয়েক মাইল দীর্ঘ ব্যারিকেড তৈরি করা হইয়াছে। প্রায় ৫০ হাজার মহিলার জন্য তিনটি বিশেষ বেষ্টনীর ব্যবস্থা করা হইয়াছে।’ ১৭ মার্চ ইত্তেফাক প্রথম পাতায় সম্পাদকীয় ছাপে। লেখেন ‘প্রদীপ্ত সূর্যের অবারিত কিরণমালায় উদ্ভাসিত এই বাংলার প্রতিটি নগর-বন্দর, গ্রাম-গঞ্জ ও জনপদের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা চৈত্রের খরতপ্ত মধ্যাহ্ন পূর্ব প্রহরে মহীয়সী মহানেত্রীকে স্বাগত জানানোর জন্য অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষমাণ।’
বঙ্গভবন থেকে রেসকোর্স পথের দুই ধারে উদ্দীপ্ত জনতা, নারী-পুরুষ-শিশু নির্বিশেষে হাত নেড়ে স্লোগান দিয়ে মুখর করে তুলেছিল পথের দুদিক। গাড়িতে করে ধীরে ধীরে এগিয়ে যাচ্ছিলেন দুই মহান নেতা—ইন্দিরা গান্ধী ও বঙ্গবন্ধু। আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী, পুলিশ ও অন্যদের সতর্ক তত্ত্বাবধানে পথের দুই পাশে আনন্দে উদ্বেল জনতা ধীর-শান্তভাবে অত্যন্ত শৃঙ্খলার সঙ্গে অভিনন্দন জানায় মহান নেত্রীর প্রতি। বেলা সাড়ে ৩টায় তুমুল করতালি আর গগনবিদারী স্লোগানের মধ্য দিয়ে তারা পৌঁছেন বিশাল জনসমুদ্রের সামনে। উদ্যানের বিশাল অঙ্গনের কোথাও এতটুকু ফাঁক ছিল না। প্রতীক্ষায় অস্থির অনুভূতিতে ছিল ঠাসা। কোমলমতি বালক থেকে অশীতিপর বৃদ্ধ সবাই এসেছিল এ মহামিলনে। প্রায় অর্ধলক্ষ মহিলার উপস্থিতি একে আরো বিশিষ্টতা দান করেছিল।
বেলা ৩টা ৩৫ মিনিটে স্থাপিত ইন্দিরা মঞ্চে ওঠেন অতিথি। শুরুতে বক্তৃতা দেন বঙ্গবন্ধু। বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘মাননীয়া শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী আজ আমাদের পরম সৌভাগ্যের দিন। আপনি শ্রীমতী গান্ধী সেদিন মাতৃরূপে আমার বাংলার দুঃখী মানুষকে আশ্রয় দিয়েছেন, খাদ্য দিয়েছেন, সমর্থন দিয়েছেন আর দিয়েছেন মুক্তি সংগ্রামের হাতিয়ার।...আপনাকে দেবার মতো আমাদের কিছুই নেই...আছে কেবল অফুরন্ত ভালোবাসা, আছে সাড়ে সাত কোটি মানুষের সজীব প্রাণের আবেগ। আপনি বাংলার এই ভালোবাসা গ্রহণ করুন।’ বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতার পর ঠিক ৪টায় জয় বাংলা স্লোগান দিয়ে বাংলায় বক্তৃতা শুরু করেন ইন্দিরা। ‘আমার প্রিয় ভাই ও বোনেরা। ভারতবর্ষের ৫৫ কোটি মানুষের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন নিয়ে আজ আমি আপনাদের সোনার বাংলায় এসেছি। আজ ভারতবর্ষের প্রতিটি মানুষ আপনাদের জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সফলতা কামনা করছে। এ মুহূর্তে কবিগুরুর একটি লাইন মনে পড়ছে—আজ ভাষার এ লগনে, উঠেছে নবীন সূর্য গগনে। (মাহবুব তালুকদার এক্ষেত্রে ভুল উদ্ধৃতি করেছেন এবং অন্যরা তাকে অনুসরণ করেছেন) আমি তো বাংলা ভালো করে বলতে পারি না। এজন্য আমি হিন্দিতে বলব।’ (দৈনিক পূর্বদেশ, ১৮ই মার্চ ১৯৭২) প্রায় ৩৩ মিনিট তিনি বক্তৃতা করেন।
জনতার উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘মৃত্যু আর ধ্বংসের ভগ্নাবশেষের ওপর নতুন বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে হবে।...স্বাধীনতা কোনো জাদু নয়, যার ফলে এমনিতেই সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। কেবল কঠোর পরিশ্রমের ফলেই সমস্যার সমাধান হয়।’ ইন্দিরা গান্ধী প্রদত্ত সম্পূর্ণ বক্তৃতাটি স্ট্র্যাটেজিক অ্যানালাইসিস জার্নালের ভলিউম ৪৫ সংখ্যা ৬ (বাংলাদেশের পঞ্চাশ বৎসর পূর্তি সংখ্যা)-তে প্রকাশ করা হয়েছে।
১৮ মার্চ দৈনিক ইত্তেফাক লেখে, ‘ ঊনসত্তরের সেই মহান গণঅভ্যুত্থানের মুহূর্তে মুক্তিপাগল জনতা তাহাদের প্রাণপ্রিয় নেতাকে মিথ্যা ষড়যন্ত্র মামলা হইতে মুক্ত করিয়া যে ময়দানে আনিয়া হাজির করিয়াছিল, যে ঐতিহাসিক ময়দানে দাঁড়াইয়া বাংলাদেশের সংগ্রামী জনতার চোখের মণি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দিয়াছিলেন মুক্তি সংগ্রামের ডাক, যে ঐতিহাসিক ময়দানে গত ১৬ই ডিসেম্বর বিংশ শতাব্দীর মানবেতিহাসের ঘৃণ্যতম দুশমন পাক বাহিনী তাহাদের অস্ত্র সমর্পণ করিয়া মুক্তিপাগল জনতার কাছে মাথা নত করিয়াছিল, সেই ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী ময়দানে মহান ভারতের তথা সমগ্র বিশ্বের গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রিয় নেত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী বিশাল জনসমুদ্রের উদ্দেশে প্রদত্ত ভাষণে দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে ঘোষণা করেন, সমগ্র বিশ্বের নিপীড়িত মানবতার পাশে ভারত ও বাংলাদেশ কাঁধে কাঁধ মিলাইয়া দাঁড়াইবে।’
১৮ মার্চ ১৯৭১ দৈনিক বাংলা ‘রক্তের এই রাখী অটুট থাকবে’ শিরোনামে লেখে, ‘ভারত আর বাংলাদেশের বাষট্টি কোটি লোকনন্দিত প্রধানমন্ত্রী শ্রীমতী ইন্দিরা গান্ধী আর শেখ মুজিবুর রহমান। ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী ময়দানে ঢাকার ইতিহাসের বৃহত্তম জনসমাবেশে দাঁড়িয়ে দৃপ্ত কণ্ঠে তাঁরা ঘোষণা করেন ভারত বাংলাদেশের চির অটুট মৈত্রী আর বন্ধুত্বের কথা।’
ইন্দিরা গান্ধী শেখ মুজিবের সঙ্গে তিন দফা আলোচনায় বসেন। এর মধ্যে দুই দফা আলোচনায় কোনো পক্ষেই কোনো সাহায্যকারী ছিল না। পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলোচনাকালে দুই দেশের দুজন মুখপাত্র এসব আলোচনাকে দুই দেশের মধ্যে প্রাথমিক মতবিনিময় বলে অভিহিত করেন। এতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, বাণিজ্য, যুদ্ধাপরাধী ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিসহ এশিয়ার নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়াদি আলোচিত হয়। তৃতীয় দফা বৈঠকটিই ছিল দুই দেশের মধ্যে সরকারি পর্যায়ে প্রথম পূর্ণাঙ্গ আলোচনা। পূর্ণাঙ্গ আলোচনা অনুষ্ঠানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু ছিল যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের পদ্ধতি নির্ধারণসংক্রান্ত আলোচনা, সাধারণ বাণিজ্য চুক্তি ও চোরাচালানি বন্ধের পদক্ষেপ হিসেবে সীমান্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদন ও সাংস্কৃতিক কারিগরি ও বৈজ্ঞানিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতাসংক্রান্ত বিষয়গুলো। বন্যা নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে ভারতের সহযোগিতার বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে আলোচিত হয়েছিল। এছাড়া পররাষ্ট্রমন্ত্রীদ্বয়ের মধ্যকার, বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে, অর্থনৈতিক ও কারিগরি বিষয়ে এবং রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে দ্বিপক্ষীয় বেশকিছু বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
রাতে বঙ্গবন্ধু ইন্দিরা গান্ধীর সম্মানার্থে নৈশভোজের আয়োজন করেন। পরদিন ১৮ মার্চ শীতলক্ষ্যা নদীতে ৬ ঘণ্টা দীর্ঘ নৌবিহারকালে নদীমাতৃক বাংলাদেশের মনোরম দৃশ্য অবলোকন করেন এবং অপরাহ্ণে তার সম্মানে আয়োজিত এক নাগরিক সংবর্ধনায় (সংবর্ধনা সভায় ঢাকাবাসীর পক্ষ থেকে অভিনন্দনপত্র দেয়া হয় এবং তার পূর্ণ বিবরণ দৈনিক ইত্তেফাকে ১৯ মার্চ ১৯৭২ প্রকাশিত হয়) যোগ দেন। পরবর্তী সময়ে তিনি বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী ও শিল্পীদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন।
১৯ মার্চ সকালে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ ও ভারত প্রজাতন্ত্রের মধ্যে ২৫ বছর মেয়াদি ঐতিহাসিক মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছিল, ১৯৭১ সালের সোভিয়েত-ভারত চুক্তির আদলে। ৪৯ ঘণ্টার সফর শেষের প্রাক্কালে এক সংবাদ সম্মেলনে ইন্দিরা গান্ধী সংবাদপত্র প্রতিনিধিদের তার শুভেচ্ছাবাণী বাংলাদেশের জনসাধারণের কাছে পৌঁছে দিতে অনুরোধ করে যান। ঢাকা ত্যাগের আগে বঙ্গবন্ধু ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে লক্ষ করে বলেন, ‘আমাদের ভুলবেন না। আবার বাংলাদেশে আসবেন।’
চৌধুরী শহীদ কাদের: ট্রাস্টি সম্পাদক, গণহত্যা জাদুঘর





