বাজারে মানসম্মত ও নির্ভরযোগ্য পণ্যের ঘাটতি বিবেচনায় নিয়ে আমাদের গ্রুপের প্রয়াত চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে বিশ্বমানের পণ্য পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্য স্থির করেছিলেন। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে যমুনা গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান যমুনা ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড অটোমোবাইলস লিমিটেড ২০১৪ সালে বৃহৎ পরিসরে ইলেকট্রনিকস ও হোম অ্যাপ্লায়েন্স উৎপাদন কার্যক্রম শুরু করে এবং একই বছর যমুনা এসি বাজারে আনে।

আমাদের অত্যাধুনিক উৎপাদন কারখানায় বিশ্বমানের প্রযুক্তি, আধুনিক যন্ত্রপাতি, উন্নত কাঁচামাল এবং ধারাবাহিক উদ্ভাবনের সমন্বয়ে যমুনা এসি তৈরি করা হয়, যা আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে সফলভাবে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম। গুণগত মান, নির্ভরযোগ্যতা এবং গ্রাহক আস্থার ভিত্তিতে যমুনা এসি আজ দেশের অন্যতম সেরা ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠিত।

দেশে এসির বাজারের কত শতাংশ এখন আমদানি করতে হয়? স্থানীয় উৎপাদন সম্প্রসারণের গতি কতটা সন্তোষজনক? আপনার পর্যবেক্ষণ জানতে চাই।

বাংলাদেশে এসি শিল্প একটি দ্রুত বিকাশমান খাত হিসেবে পরিগণিত হচ্ছে। বিগত কয়েক বছরে এসির বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে, যা দেশের বৃহৎ জনসংখ্যা ও বিদ্যুতায়নের সম্প্রসারণের সঙ্গে সম্পর্কিত। গ্রামীণ অঞ্চলেও এসির ব্যবহার ক্রমবর্ধমান, যা ইলেকট্রনিকস পণ্যের চাহিদার প্রসার নির্দেশ করছে। আগে এ বাজার সম্পূর্ণরূপে আমদানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। তবে যমুনার মতো দেশী প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় উৎপাদন সম্প্রসারণের মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমিয়েছে। বর্তমানে দেশে এসির মোট চাহিদার প্রায় ৮৫ শতাংশ স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পূরণ করছে। এছাড়া স্থানীয় কোম্পানিগুলো এসি সংযোজন ও উৎপাদনে ব্যাপক বিনিয়োগ করে যাচ্ছে। সরকারের প্রণোদনা, ভর্তুকি এবং প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি এ খাতের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

অন্যদিকে, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে আমাদের অঞ্চলে তাপমাত্রা বাড়ছে, যা এসির চাহিদা আরো বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতাও বেড়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে বাংলাদেশের এসি বাজারের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল। আমাদের লক্ষ্য ভোক্তাদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণ করা, উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধি, মান উন্নয়ন এবং নতুন মডেলের এসি বাজারে প্রবর্তন করা।

8

এক্ষেত্রে এসির বাজারে আপনাদের অংশীদারত্ব কতটুকু?

যমুনা ইলেকট্রনিকস এসির বাজারে একটি দৃঢ় ও শক্তিশালী অবস্থান নিশ্চিত করেছে। আমরা ক্রমাগত ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ, নিত্যনতুন উদ্ভাবন এবং সর্বোচ্চ মানের পণ্য বাজারে নিয়ে আসার বিষয়ে কাজ করে যাচ্ছি। যমুনা এসির উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত সব কাঁচামাল, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন দেশী বাজারে অনন্য। আমাদের অত্যাধুনিক কারখানায় তৈরি যমুনা এসি বিশ্বমানের ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে সক্ষম। আধুনিক যন্ত্রপাতি, মানসম্মত কাঁচামাল এবং ধারাবাহিক উদ্ভাবনের মাধ্যমে আমরা ক্রেতাদের কাছে সেরা মানের পণ্যকে যুক্তিসংগত মূল্যে পৌঁছে দিচ্ছি। সে হিসেবে আমরা বলতে পারি, যমুনা এসি হলো উদ্ভাবন আর বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের মেলবন্ধন।

আপনারা নিজেদের এসিতে সর্বশেষ কোন প্রযুক্তিটি সংযোজন বা উন্নয়ন করেছেন?

যমুনা এসি সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিশ্বমানের বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী এসি উৎপাদন ও বাজারজাত করছে। আমাদের এসিতে প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের উদাহরণ হলো ফাইভডি এআই ইনভার্টার প্রযুক্তি, যা বিদ্যুৎ খরচ কমানোর পাশাপাশি নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় দ্রুত শীতলীকরণ নিশ্চিত করে। যমুনা এসি ব্যবহারকারীর বিদ্যুৎ বিলকে ৭০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস করতে সক্ষম। এছাড়া, জিরো পয়েন্ট ফাইভ ওয়াট স্ট্যান্ডবাই মোড বিদ্যুতের অপচয় নিয়ন্ত্রণ করে, যা ব্যবহারকারীর জন্য আর্থিকভাবে সুবিধাজনক।

প্রযুক্তিগত বৈশিষ্ট্যের দিক থেকে আমাদের এসিতে রয়েছে পিএম ২.৫ ফিল্টার। হাই প্রেশার আয়োনাইজেশন এবং ন্যানো কোল্ড ক্যাটালিস্ট ইলেকট্রনিক ডাস্ট কালেক্টিং টেকনোলজির ব্যবহারের মাধ্যমে এটি আড়াই মাইক্রনেরও কম আয়তনের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র ধূলিকণা পরিশোধনে সক্ষম। যমুনা এসির কোল্ড প্লাজমা প্রযুক্তি এবং এয়ার আয়োনাইজেশন মানসিক চাপ কমায়, সংক্রমণ মুক্ত বাতাস সরবরাহ করে এবং শরীরের প্রাণশক্তি বাড়ায়। এতে রয়েছে ভিটামিন-সি ফিল্টার, যা ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা বজায় রাখে, ত্বককে সতেজ ও সুরক্ষিত রাখে। সিলভার আয়ন এবং ডিজার্মিং ফিল্টার বাতাসের ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া এবং দুর্গন্ধ দূর করতে সহায়ক। আমাদের এসিতে আমরা সেলফ ক্লিনিং টেকনোলজি সংযোজন করেছি। রিমোটের একটি ক্লিন বাটন চেপে এসির ইভ্যাপোরেটরে জমে থাকা ধূলিকণা ও দুর্গন্ধ সহজে দূর করা যায়। এসির অ্যান্টিভাইরাস ফিল্টার এবং বিল্ট-ইন থার্ড ইউভিসি লাইট ৯৯ শতাংশ পর্যন্ত শক্তিশালী ভাইরাস প্রতিরোধে সক্ষম।

গ্রাহকের জন্য সঠিক এসি নির্বাচনে কোন বিষয়গুলোয় সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেয়া উচিত?

সঠিক এসি নির্বাচন করতে যেসব বিষয় গুরুত্বপূর্ণ, তার মধ্যে রয়েছে এসির সক্ষমতা (Capacity), মূল্য, বিদ্যুৎ সাশ্রয়, বাতাসের গুণগত মান, দ্রুত শীতলীকরণ, ওয়ারেন্টি ও ইনস্টলেশন সুবিধা এবং সার্ভিসিং সুবিধা। যমুনা এসি এসব দিক বিবেচনায় রেখে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এসি তৈরি করছে, যা এরই মধ্যে গ্রাহক পর্যায়ে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

এ মুহূর্তে আপনাদের এসি কেনায় কোনো অফার চলমান আছে কি?

যমুনা এসির ক্রেতাদের জন্য বেশকিছু বিশেষ অফার চালু রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নন-ইনভার্টার এসি এবং ইনভার্টার এসিতে আকর্ষণীয় নগদ ছাড়। রয়েছে সহজ কিস্তি সুবিধাও। মাত্র ২০ শতাংশ ডাউন পেমেন্টে ৬, ৯ ও ১২ মাসের কিস্তিতে পছন্দের এসি ও সব ইলেকট্রনিক পণ্য ক্রয় করতে পারবেন গ্রাহকরা। ক্রেডিট কার্ডে ক্রয়ের ক্ষেত্রে রয়েছে বিনা সুদে ব্যাংক ইএমআইয়ের সুযোগ। যমুনা প্লাজা শোরুমে এসে গ্রাহকরা এ অফার উপভোগ করতে পারবেন।

আসন্ন ঈদ বা গ্রীষ্ম উপলক্ষে ক্রেতাদের জন্য আপনারা বাজারে আর কোনো অফার নিয়ে আসতে পারেন?

বছর ঘুরে খুশির বার্তা নিয়ে ফিরে এসেছে সংযম ও আত্মশুদ্ধির মাস, পবিত্র মাহে রমজান। এরই মধ্যে অনেকে ঈদুল ফিতরের আনন্দ উদযাপন করতে ও ঈদ কেনাকাটায় ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এ সময় দেশের ইলেকট্রনিকস বাজারও ক্রেতাদের চাহিদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। এ চাহিদা পূরণে দেশের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলো সচেষ্ট রয়েছে, যার মধ্যে যমুনা ইলেকট্রনিকস অন্যতম।

ক্রেতাদের ঈদ আনন্দকে দ্বিগুণ করতে যমুনা ইলেকট্রনিকস নিয়ে এসেছে বিশেষ কনজিউমার অফার। আমাদের সম্মানিত গ্রাহকরা এ ঈদে যমুনা প্লাজা, ডিলার শপ অথবা অনলাইনে যমুনার এসি ও অন্যান্য হোম অ্যাপ্লায়েন্স কিনে সহজেই রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন এবং জিতে নিতে পারবেন বিশেষ ঈদ উপহার। এছাড়া ভাগ্যবান ক্রেতারা পেতে পারেন মেগা পুরস্কার। সব পণ্যের সঙ্গে রয়েছে আকর্ষণীয় নগদ ডিসকাউন্ট।