আমাদের পুরো জীবন উনার ওপর নির্ভর করে গেছে। এখনো নির্ভর করেই চলছি। আমরা সাত ভাইবোন। বাবা যে গাইডলাইন দিয়ে গেছেন সেটি সবাই মেনে চলার চেষ্টা করছি। এটি আমাদের পরিবারের মূল মোটো (প্রতীক) বলা যায়। শেষের দিকে তিনি যেসব ব্যবসার দেখভাল করতেন সেগুলো দেখার বড় দায়িত্ব আমায় দিয়ে গেছেন। যেখান থেকে শুরু, সেই টেক্সটাইল, আমাদের চকবাজার, ইসলামপুর ও সদরঘাটের দোকান...সেগুলো এখন আমিই দেখাশোনা করি। এগুলো ঠিকমতো পরিচালনা করা আমার কাছে খুবই বড় দায়িত্ব। আবার টেক্সটাইলে মালা শাড়ির যে ফ্যাক্টরি ছিল, সেটিও এখন আমি দেখছি। যদিও মালা শাড়ির ফ্যাক্টরিতে এখন রফতানিমুখী ফ্যাব্রিকস তৈরি হচ্ছে। পুরো টেক্সটাইল ব্যবসাটা আব্বা নিজের হাতে গড়েছেন। ‍উনার গড়ে তোলা প্রতিষ্ঠান ধরে রাখার পাশাপাশি আরো ভালো করা খুবই কঠিন। কারণ উনার মতো এত মেধাবীর সঙ্গে নিজের তুলনা কখনই করতে পারি না। শেষ সময়ে আব্বা আমাদের ইন্স্যুরেন্স কোম্পানিটিও দেখতেন। এখন এটি আমাকেই দেখতে হচ্ছে।

বাবার সঙ্গে আমার অনেক স্মৃতি। মনে পড়ে, ছোটবেলায় বাবার সঙ্গে খেলাধুলা করতাম। বাবা ব্যবসা থেকে শুরু করে সবকিছুতে আমাদের স্বাধীনতা দিয়েছেন। তিনি আমাদের ওপর যেকোনো কাজে আস্থা রাখতেন। সবসময় বলতেন, তোমরা নিজেরা কাজ করো, শেখো। ভুল করলে আমার কাছে আসবে। ‘তুমি করো’—এটি যে অনুপ্রেরণা ও সাহস জোগাত, এটি বলার বাইরে। বাবার ছায়াতলে আমরা আছি, এটিই ছিল সবচেয়ে বড় প্রটেকশন। উনি দীর্ঘদিন ডিমেনশিয়ায় (স্মৃতিশক্তি হ্রাস রোগ) ছিলেন। তখন অফিসে আসতে পারতেন না। কিন্তু আমরা অনুভব করতাম, আব্বা উপস্থিত আছেন এবং ‍উনার উপস্থিতিতে কাজ করছি।