এ খাতে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ১ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ। এটি গত অর্থবছরের চেয়ে দ্বিগুণ বরাদ্দ। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে সংশোধিত বাজেট ছিল ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা (মূল বাজেট ৪১ হাজার ৯০৮ কোটি টাকা), যা জিডিপির দশমিক ৫৮ শতাংশ। সে হিসাবে নতুন অর্থবছরে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ ৩৩ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে। গতকাল জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তবে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ১ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ বরাদ্দের মধ্যে শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যয়ই নয়, বরং অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও সংস্থার অধীন পরিচালিত স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট কর্মসূচি, ব্যয় ও হাসপাতালগুলোর খরচও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, ইসলামিক ফাউন্ডেশন, পুলিশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে প্রস্তাবিত বাজেট ১৩ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা। এ অর্থবছরে ওই বিভাগে পরিচালন ব্যয়ে প্রস্তাবিত বাজেট ৫ হাজার ২৪৪ কোটি টাকা এবং উন্নয়ন বাজেট ৮ হাজার ২২০ কোটি টাকা। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা বিভাগে ৪৯ হাজার

৩৮৬ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়। ওই বিভাগে পরিচালন বাজেট ২২ হাজার ৫৮০ কোটি ও উন্নয়ন বাজেট ২৬ হাজার ৮০৬ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ড. লেলিন চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘স্বাধীনতার পর থেকে দেশের স্বাস্থ্য খাতের জন্য কোনো দীর্ঘমেয়াদি ও সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়নি। এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বেড়ে জিডিপির প্রায় ১ শতাংশে পৌঁছানো ইতিবাচক হলেও এ অর্থ জনস্বাস্থ্যের উন্নয়নে কীভাবে কার্যকরভাবে ব্যবহার হবে সে বিষয়ে সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই। বর্তমানে চিকিৎসা ব্যয়ের বড় অংশই মানুষকে নিজের পকেট থেকে বহন করতে হয়। তাই সরকারি হাসপাতালগুলোতে ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসাসেবার প্রাপ্যতা বাড়িয়ে জনগণের ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য ব্যয় কমানোকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয়ের সরকারি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে একটি স্পষ্ট রোডম্যাপও প্রয়োজন।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিষয়ের অধ্যাপক ড. রুমানা হক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে এবং প্রতিরোধমূলক, প্রমোটিভ, চিকিৎসামূলক ও প্যালিয়েটিভ—সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা জনগণের কাছে পৌঁছে দিতে এ ধরনের বাজেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে আমাদের সবচেয়ে বড় উদ্বেগ বাস্তবায়ন সক্ষমতা নিয়ে। অতীতের অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন বাজেটের বড় অংশ সংশোধিত বাজেটে কমিয়ে দেয়া হয় এবং বরাদ্দের পুরো অর্থও ব্যয় করা সম্ভব হয় না। অর্থাৎ পরিচালন ব্যয়ে তুলনামূলক বেশি অগ্রগতি হলেও উন্নয়ন ব্যয় বাস্তবায়নে দুর্বলতা থেকে যায়। সামগ্রিকভাবে আমরা মনে করি, এবারের স্বাস্থ্য বাজেট আশাব্যঞ্জক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক। এতে সরকারের বিভিন্ন অঙ্গীকারের প্রতিফলন রয়েছে এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন ও বৈষম্য হ্রাসে এটি ভূমিকা রাখতে পারে। বাজেটের সফলতা নির্ভর করবে এর যথাযথ বাস্তবায়নের ওপর। আমরা আশা করি, অতীতের মতো সংশোধিত বাজেটে স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ বড় আকারে কমানো হবে না এবং বরাদ্দকৃত অর্থ দক্ষতা, স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতার সঙ্গে ব্যয় করা হবে।’