আমরা চীন থেকে কাঁচামাল আমদানি করে মোবাইল ফোন তৈরি করি। বাংলাদেশ থেকে যদি চীন ও অন্যান্য দেশে মোবাইলসংশ্লিষ্ট পণ্য রফতানি করার সুযোগ দেয়া হয়, তাহলে এ খাতে আরো অগ্রগতি হবে। বিশ্বের সব দেশ থেকে মোবাইল ফোন রফতানি করা যায়।"কিন্তু বাংলাদেশ দেশ থেকে মোবাইল ফোন রফতানি করা হয় না।
মোবাইল ফোনের জন্য ব্যাটারি, চার্জার গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর কাঁচামাল আমদানিতে বন্ডের লাইসেন্সের সুযোগ-সুবিধা পেলে আমরা পণ্যগুলো দেশে তৈরি করে রফতানি করতে পারতাম।
মোবাইল খাতে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। বাংলাদেশে কম্পিউটার ট্যাক্স জিরো করা হয়েছে। মোবাইলের ট্যাক্সটা যদি জিরো করে দেয়া হয় তাহলে আমরা অনেক পণ্য রফতানি করতে পারতাম।
চীন থেকে পণ্য আমদানির ক্ষেত্রেও কিছু সমস্যা আছে। অনেক সময় পণ্যের জন্য চীনা উদ্যোক্তাকে অগ্রিম অর্থ দিতে হয়। আমরা তাদের অগ্রিম যে ডিপোজিট দিই, তার কোনো নিরাপত্তা বা পণ্য পাওয়ার গ্যারান্টি নেই। অনেকে পণ্য না দিয়ে চলে যায়। অগ্রিম অর্থের নিরাপত্তার জন্য চীনা দূতাবাস আমাদের সহযোগিতা করতে পারে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারেরও সহযোগিতা দরকার।
বাংলাদেশে ট্যাক্স পলিসি যদি বিদেশী বিনিয়োগকারীদের জন্য প্রক্রিয়াগুলো সহজ করে তাহলে চীনের অনেক বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে আসবে। চীনারা আমাদের দেশে ইলেকট্রনিকস পণ্যের মধ্যে মোবাইল, এসি, টিভি—এসব খাতে বিনিয়োগ করতে চায়। আমাদের ট্যাক্স পলিসির কারণে তারা ভয় পায়, বিনিয়োগ করছে না। গার্মেন্টস সেক্টরে অনেক বিনিয়োগকারী আসছেন, কিন্তু ইলেকট্রনিকস খাতে সে রকমভাবে আসেনি। অপো, ভিভো—এমন কিছু মোবাইল কোম্পানি বিনিয়োগ করছে। বাংলাদেশের ইলেকট্রনিকস কার বিওয়াইডি নিয়ে এসেছে রানার গ্রুপ। চীনের আরো অনেক গাড়ি উৎপাদক কোম্পানি আছে যারা বাংলাদেশে আসতে চায়, কিন্তু বিনিয়োগ পলিসি ও ট্যাক্স পলিসি জটিল হওয়ায় তারা আসছে না।
চাইনিজরা আমাদের অনেক হেল্প করতে চায় কিন্তু বাংলাদেশের পলিসির কারণে তারা কিছু করতে পারে না। চীনে রফতানির ক্ষেত্রে ৯৯ শতাংশ পণ্যে সুবিধা দিয়েছিল। আমরা তো রফতানিই করতে পারি না। তাই এ সুবিধা আমরা নিতে পারিনি। আমাদেরকে চীনে মোবাইল পণ্য রফতানির সুযোগ দেয়া দরকার। এখন বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা আছে। আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য অনেক খারাপ। ব্যবসা ১০০ থেকে ৪০ শতাংশে নেমে এসেছে। রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে এখানে অনেকে বিনিয়োগ করতে চাচ্ছেন না। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসার পর চীনের সঙ্গে যদি সম্পর্ক আরো উন্নত হয়, তখন অনেক বিনিয়োগকারী বাংলাদেশে আসবে।
মো. আশরাফ উদ্দিন: ব্যবস্থাপনা পরিচালক
আনিরা ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড








