নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ বাসস্থান প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার। আবাসন মানে শুধু একটি ভবন নয়, এটি নিরাপত্তা, আত্মমর্যাদা ও পরিবারের সুন্দর ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা। বর্তমানে বিপুলসংখ্যক মানুষ শহরমুখী হচ্ছে। ফলে আমাদের সীমিত জমির বিপরীতে আবাসনের চাহিদা ক্রমাগত বাড়ছে। একদিকে খাদ্য নিরাপত্তার জন্য কৃষিজমি রক্ষা, অন্যদিকে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা জরুরি। এ বাস্তবতায় জমির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করে পরিকল্পিত, নিরাপদ, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব শহর গড়ে তোলা সময়ের দাবি।
বাংলাদেশের নগর ও অঞ্চলগুলোকে পরিকল্পিত, উৎপাদনশীল এবং পরিবেশবান্ধব বাসযোগ্য এলাকায় রূপান্তর করা আমাদের সরকারের অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার। টেকসই আবাসন, পরিকল্পিত নগরায়ণ এবং সীমিত আয়ের মানুষের জন্য বাসস্থান নিশ্চিত করাই হবে নতুন বাংলাদেশ গড়ার অন্যতম ভিত্তি। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
কৃষি, শিল্প, আবাসন ও সবুজ এলাকার জন্য নির্দিষ্ট জোন চিহ্নিত করে দেশের সিটি করপোরেশন, জেলা ও উপজেলায় দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে পরিবেশগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল ও উর্বর কৃষিজমিকে অপরিকল্পিত উন্নয়ন থেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হবে।
ঢাকার ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে সেকেন্ডারি সিটিগুলোকে কার্যকর করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণ, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণের মাধ্যমে এসব শহরকে রিজিওনাল গ্রোথ সেন্টার হিসেবে গড়ে তোলা হবে। পাশাপাশি জেলা ও আঞ্চলিক শহরগুলোকে গতিশীল করতে বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। পুরান ঢাকার ঐতিহ্য রক্ষা ও আধুনিকায়নে পুরনো ঢাকা রিভাইটালাইজেশন এবং ঢাকা আরবান রিজেনারেশন শীর্ষক বিশেষ প্রকল্প নেয়া হয়েছে।
সীমিত আয়ের ও বস্তিবাসী মানুষের জন্য সাশ্রয়ী মূল্যে পরিকল্পিত আবাসন সুবিধা প্রদানের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে দেশের সব দরিদ্র জনগোষ্ঠীর আবাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে। ৩৬ জুলাই আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে সবুজ নগরায়ণ, পার্ক-লেক উন্নয়ন এবং শিশু ও তরুণদের জন্য নিরাপদ পরিবেশে খেলাধুলার সুযোগ নিশ্চিত করতে খেলার মাঠ উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে।
ভূমিকম্প ও দুর্যোগ মোকাবেলায় বাংলাদেশ আর্থকোয়েক সেফটি অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউট (বিইএসআরআই) গঠন করা হয়েছে। নিরাপদ ভবন নির্মাণ নিশ্চিত করতে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে বাংলাদেশ বিল্ডিং রেগুলেটরি অথরিটি (বিবিআরএ)। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে রাজউকসহ অন্যান্য উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ভূমি ব্যবহার ছাড়পত্র এখন পুরোপুরি অনলাইনে দেয়া হচ্ছে। শহরে সমন্বিত বর্জ্য ও পানি ব্যবস্থাপনা চালু করা এবং আধুনিক কেন্দ্রীয় স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্লান্ট ও রিসাইক্লিং সুবিধা গড়ে তুলতেও সরকার কাজ করছে।
অপরিকল্পিত নগরায়ণ রোধ, দুর্যোগ মোকাবেলা এবং উন্নত নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সিলেট, ময়মনসিংহ, বরিশাল, কুমিল্লা, রংপুর ও নারায়ণগঞ্জে নতুন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে। এসব কাজ সফল করতে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি আবাসন খাত এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে পরিবেশ সুরক্ষা ও মানসম্মত নির্মাণকাজে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্বশীল এবং বাস্তবমুখী ভূমিকা রাখতে হবে।
আমি বিশ্বাস করি, সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ আবাসন নিশ্চিত করা এবং একটি পরিকল্পিত, টেকসই ও বাসযোগ্য নতুন বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।





