দ্রুত নগরায়ণের চাপে শহরে আবাসনের সংকট বাড়ছে। ছোট শহরগুলোয় জায়গা কম, নাগরিক সুবিধাও অপ্রতুল। পরিবেশ, প্রতিবেশ ও জমির সংকট মিলিয়ে সমস্যা এখন বহুমুখী। এ বাস্তবতায় ‘স্মার্ট আবাসন, টেকসই নগরায়ণ ও ভবিষ্যতের বাংলাদেশ’ শীর্ষক নীতি-আলোচনা সময়োপযোগী। সবার জন্য উপযুক্ত আবাসন নিশ্চিত করা আমাদের কাছে স্লোগান নয়, একটি জরুরি দায়িত্ব।
নিরাপত্তাই আবাসনের প্রথম শর্ত। গত বছরের নভেম্বরের ভূমিকম্প আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছে, ঝুঁকি কেবল ভবনের উচ্চতায় নয়; ত্রুটিপূর্ণ নকশা, মাটির অবস্থা ও নির্মাণ-অনিয়মও বড় ঝুঁকি তৈরি করে। তাই অনুমোদিত নকশা মেনে নির্মাণ, মাটি পরীক্ষা ও প্রকৌশলগত মান নিশ্চিত করার কোনো বিকল্প নেই। ঝুঁকিপূর্ণ ভবন চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, নকশা না মানলে কঠোর পদক্ষেপও থাকবে। আমাদের লক্ষ্য রাজউকের দুর্বল উপস্থিতিকে শক্তিশালী উপস্থিতিতে রূপ দেয়া। কাজটি একদিনে হবে না, তবে শুরু হয়েছে।
নিরাপত্তার পাশাপাশি দরকার নাগালের মধ্যে আবাসন। নতুন রাজউক আইনে আধুনিক, সাম্যভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনার পাশাপাশি নিম্নবিত্ত, ভূমিহীন ও গৃহহীনদের আবাসনকে অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। এ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে আমরা কয়েকটি পথে এগোচ্ছি।
প্রথমত, ব্লকভিত্তিক আবাসনে বেশি এফএআর ও বেশি সবুজ স্থান নিশ্চিত করা হবে। জমির বদলে ফ্ল্যাটভিত্তিক প্রকল্পে জোর দিচ্ছি; উত্তরার বি ও সি ব্লকে এমন প্রকল্প নিয়ে রাজউক কাজ করছে। উত্তরায় সোশ্যাল হাউজিংয়ের উদ্যোগও আছে।
দ্বিতীয়ত, আবাসনের সরবরাহ বাড়াতে ৬০০ বর্গফুট পর্যন্ত ছোট ফ্ল্যাটে ইউনিট সংখ্যার কোনো সীমা রাখা হয়নি, যাতে সাশ্রয়ী আবাসন বাড়ে।
তৃতীয়ত, টেকসই নগরায়ণে গ্রিন বিল্ডিংকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে এবং ভবনে সোলার প্যানেল স্থাপনে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। ইমারত বিধিমালা, ২০২৫-এ এক বিঘা প্লটে ১০ শতাংশ জায়গায় গাছ লাগানো বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি ট্রানজিট ওরিয়েন্টেড ডেভেলপমেন্ট (টিওডি) ও পুনরায় উন্নয়নকে গুরুত্ব দিচ্ছি। পুরান ঢাকার মতো ঘনবসতি এলাকায় ঐতিহ্য রক্ষা করেই পরিকল্পিত নগরায়ণের পথ খুঁজছি।
এ কাজ সরকারের একার নয়। ডেভেলপার, নীতিনির্ধারক, বিনিয়োগকারী, গবেষক ও নাগরিক—সবার অংশগ্রহণ দরকার। ড্যাপ সংশোধনসহ আবাসন খাতের বিভিন্ন বিষয়ে খাতসংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা চলছে। এ ধরনের কনক্লেভ সে সংলাপকে এগিয়ে নেয়।
আমরা এমন একটি ঢাকা চাই, যেখানে নিরাপদ ঘর, খোলা জায়গা ও নাগরিক সুবিধা শুধু কয়েকজনের নয়, সবার জন্য নিশ্চিত হবে। সে লক্ষ্যে রাজউক প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।





