বাংলাদেশের অর্থনীতির ভিত্তিকে আরো শক্তিশালী, বহুমুখী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে এমএসএমই খাতের বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, আঞ্চলিক শিল্পায়ন এবং নারীর অর্থনৈতিক অংশগ্রহণে এ খাতের অবদান অনস্বীকার্য।
বর্তমান সরকার বিশ্বাস করে, দেশের টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য শুধু প্রচলিত শিল্প নয়, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি ও উদ্ভাবনভিত্তিক উদ্যোগগুলোকেও সমান গুরুত্ব দিতে হবে। শিল্প, সংস্কৃতি, ডিজাইন, প্রযুক্তি ও সৃজনশীলতার সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই খাত নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সে কারণেই এবারের জাতীয় বাজেটে ক্রিয়েটিভ ইকোনমির বিকাশে বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যাতে তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও উদ্যোগকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করা যায়।
একই সঙ্গে এমএসএমই খাতের জন্যও বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ ও নীতিগত সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে। সহজ শর্তে অর্থায়ন, ঋণের ব্যয় হ্রাস, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বাজার সম্প্রসারণের মাধ্যমে এ খাতকে আরো প্রতিযোগিতামূলক করে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। আমরা বিশ্বাস করি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি মানেই দেশের অর্থনীতির ভিত আরো সুদৃঢ় করা।
বিশেষত তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ সৃষ্টি, ডিজিটাল প্লাটফর্মে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি এবং স্থানীয় উদ্যোগকে বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করার দিকেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। ক্রিয়েটিভ ইকোনমি ও এমএসএমই—দুই খাতের সমন্বিত বিকাশ বাংলাদেশের অর্থনীতিকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আমি আশাবাদী।
আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, উদ্ভাবন, সৃজনশীলতা ও উদ্যোক্তা-চেতনার বিকাশের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশে একটি প্রাণবন্ত, স্থিতিশীল ও ভবিষ্যৎমুখী অর্থনীতি গড়ে উঠবে। বিশ্ব এমএসএমই দিবস আমাদের সেই অঙ্গীকারকে আরো সুসংহত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
আসুন, একটি উদ্যোক্তাবান্ধব, সৃজনশীল ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সবাই একসঙ্গে কাজ করি।










