শুধু পনিরই নয়, হস্তশিল্প, তাঁত বা মৃৎশিল্পসহ দেশে নানা প্রান্তে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এমন নানা উদ্যোগ সঠিক নির্দেশনা ও অর্থায়নের অভাবে বিকশিত হতে পারছে না। অথচ এ ধরনের উদ্যোগ হতে পারত রফতানি আয়ের অন্যতম চালিকাশক্তি। কর্মসংস্থানও বৃদ্ধি পেত কয়েক গুণ। বিষয়টি সামনে রেখেই ‘একটি গ্রাম একটি পণ্য’ বা ওভিওপি প্রকল্প হাতে নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। নীতিনির্ধারক ও শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর সংস্কার এবং সুনির্দিষ্ট নীতিগত পৃষ্ঠপোষকতার সমন্বয়ে গঠিত এ একক প্রকল্পই দেশের সামগ্রিক এসএমই খাতে যুগান্তকারী বিপ্লব নিয়ে আসতে পারে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের ওভিওপি প্রকল্প সরকারের অংশগ্রহণমূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতিরই বিশেষ উদ্যোগ। দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ক্রিয়েটিভ ইকোনমি তথা সৃজনশীল অর্থনীতিকে জাতীয় প্রবৃদ্ধির অংশ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে। এ সামগ্রিক অর্থনৈতিক রূপান্তরের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দেশের কুটির, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) শিল্প খাত। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে থাকা এ খাতের স্থানীয় সম্ভাবনাগুলোকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সরবরাহ শৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত করতেই এ প্রকল্প নেয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সম্প্রতি এক বার্তায় বলেন, প্রতিটি অঞ্চলভিত্তিক স্থানীয়ভাবে বিখ্যাত এবং ঐতিহ্যবাহী পণ্যের উৎপাদন ও বাজারজাতের জন্য বিশেষ প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। স্থানীয় কুটির শিল্প ও এসএমই খাত বিকশিত করার জন্য সহজ এবং স্বল্পসুদে ঋণ সুবিধা দেয়ার পরিকল্পনা আমাদের রয়েছে।
বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতাহারেও এ বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছিল। ইশতাহারে বলা হয়েছিল, প্রত্যেক জেলার ঐতিহ্যবাহী ও বিখ্যাত পণ্যের ভিত্তিতে কুটির শিল্প ও এসএমই খাত বিকাশে স্বল্পসুদে ঋণ প্রদান, বৈশ্বিক ই-কমার্স প্লাটফর্মে পণ্য রফতানির লক্ষ্যে বেসরকারি শিল্প সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সহায়ক উদ্যোগ নেয়া এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থা স্বচ্ছ, দলীয়করণমুক্ত ও ব্যবসাবান্ধব করা হবে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিডিপিতে ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি খাতের শিল্পোৎপাদন প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। অথচ ২০২২-২৩ অর্থবছরেও এ খাতের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৬ দশমিক ৭২ শতাংশ। এছাড়া ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ১০ দশমিক ৪৩ শতাংশ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এ খাতের প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ১১ দশমিক ৬৫ শতাংশ। অথচ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির সবচেয়ে বড় চালিকাশক্তি হলো সিএমএসএমই খাত। বিভিন্ন সমীক্ষা অনুসারে, দেশের অনানুষ্ঠানিক ও অনগ্রসর অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর জীবনীশক্তি টিকিয়ে রেখেছে এ খাত। শিল্প মন্ত্রণালয় ও এসএমই ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশে ১ কোটি ১৭ লাখ সিএমএসএমই প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ উদ্যোক্তাই ব্যাংক খাতের ঋণ সুবিধার বাইরে রয়েছেন। প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবসায়িক নিবন্ধন বা ট্রেড লাইসেন্স না থাকা, কর শনাক্তকরণ নম্বর ও ভ্যাটসংক্রান্ত নথিপত্রের অভাব এবং ব্যাংকগুলোর ছোট অংকের ঋণ বিতরণে অনাগ্রহের কারণে প্রান্তিক উদ্যোক্তারা অপ্রাতিষ্ঠানিক চড়া সুদের ঋণের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হন।
রফতানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং স্থানীয় সম্ভাবনার বিকাশের জন্য বাংলাদেশ সরকার প্রথম ২০০৮ সালে ‘এক জেলা এক পণ্য’ (ওডিওপি) কর্মসূচি গ্রহণ করে, যা ২০০৯ সালে আনুষ্ঠানিকভাবে বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায় রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি)। এ কর্মসূচির আওতায় ৪১টি জেলা থেকে সুগন্ধি চাল, আগর ও হস্তশিল্পসহ মোট ১৪টি পণ্য নির্বাচন করা হয়েছিল। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো কর্মপরিকল্পনা, সমন্বিত আর্থিক সহায়তা কাঠামো এবং স্থানীয় কারিগরদের সঙ্গে বিশ্ববাজারের প্রযুক্তিগত সংযোগের অভাবের কারণে ওডিওপি উদ্যোগটি প্রায় সম্পূর্ণ ব্যর্থ হয়। ওডিওপি মূলত কোনো বড় আকারের বা কাঠামোগত কর্মসূচি ছিল না, বরং এটি ছিল কিছু বিক্ষিপ্ত পণ্যের রফতানি যাচাইকরণের সাধারণ প্রক্রিয়া মাত্র।
এ পূর্ববর্তী ব্যর্থতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক সুপরিকল্পিতভাবে ওভিওপি কর্মসূচি চালু করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ওভিওপি ধারণার উৎপত্তি মূলত ১৯৭৯ সালে জাপানের ওইতা প্রিফেকচারে। তৎকালীন গভর্নর মরিহিকো হিরামাৎসু গ্রামীণ যুবকদের শহরমুখী অভিবাসন রোধ এবং স্থানীয় সম্পদ ব্যবহারের মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে এ আন্দোলনের সূচনা করেন। পরবর্তী সময়ে জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) এ মডেলটিকে এশিয়া ও লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে দেয়। থাইল্যান্ডসহ বিশ্বের বহু উন্নয়নশীল দেশে এ মডেল সফল হয়েছে, যেখানে স্থানীয় প্রযুক্তি ও সংস্কৃতিকে ব্র্যান্ডিং করে পণ্য সরাসরি বৈশ্বিক ই-কমার্স প্লাটফর্মে বিক্রি করা হচ্ছে।
গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ক্রিয়েটিভ অর্থনীতিভিত্তিক পণ্য চিহ্নিতকরণ ও ডিজাইন উন্নয়নে সরকার বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করছে। সরকারের ‘একটি গ্রাম একটি পণ্য’ উদ্যোগ বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ক্রিয়েটিভ অর্থনীতিভিত্তিক পণ্য যেমন—তাঁতশিল্প, মৃৎশিল্প, বুনন শিল্প, শীতলপাটি, শতরঞ্জি, কাঠের খেলনা, হাতে তৈরি গয়না, টেরাকোটা, ইত্যাদিসহ আরো অনেক পণ্য চিহ্নিত করা হবে।
ওভিওপি কর্মসূচির মূল লক্ষ্য হচ্ছে স্থানীয়ভাবে কাঁচামাল প্রাপ্তির সহজলভ্যতার ওপর ভিত্তি করে অঞ্চলভিত্তিক ক্ষুদ্র শিল্প গড়ে তোলা। বাংলাদেশ ব্যাংক গ্রামীণ অর্থনীতি সচল করার উদ্দেশ্যে দেশের ৫২টি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার একটি বিশেষ পুনঃঅর্থায়ন তহবিল গঠনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এ কর্মসূচির মাধ্যমে দেশজুড়ে এক কোটিরও বেশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে এসব প্রান্তিক উৎপাদক ও উদ্যোক্তাকে আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মধ্যে নিয়ে আসার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ প্রকল্পের সবচেয়ে বৈপ্লবিক দিক হলো প্রথাগত জামানতভিত্তিক ঋণ প্রদান ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন ঘটানো। ওভিওপি মডেলের আওতায় ব্যাংকগুলো জামানতের পরিবর্তে ‘ভ্যালু চেইনভিত্তিক অর্থায়ন’ পদ্ধতি চালু করবে। এর অর্থ হলো পণ্য উৎপাদনকারী, প্রক্রিয়াজাত প্রতিষ্ঠান, পরিবহন ও লজিস্টিকস সরবরাহকারী এবং রফতানিকারক—এ মূল্য শৃঙ্খলের প্রতিটি ধাপে পর্যায়ক্রমিক ঋণ সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
ডিজিটাল অবকাঠামো ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য এ প্রকল্পে তথ্যপ্রযুক্তিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। সাতটি স্তম্ভ বা পলিসি পিলারের ওপর ভিত্তি করে দেশব্যাপী বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে এ উদ্যোগে। প্রথম ধাপ সঠিক পণ্য ও ক্লাস্টার শনাক্তকরণ। এ ধাপে কোনো পণ্যের কেবল ঐতিহাসিক বা ঐতিহ্যগত গুরুত্ব নয়, বরং সম্পূর্ণ বৈজ্ঞানিক উপায়ে তার বাজারের চাহিদা ও উপযোগিতাকে ৩০ শতাংশ অগ্রাধিকার দেয়া হবে। এছাড়া মূল্য সংযোজনের সক্ষমতাকে ২০ শতাংশ, রফতানির সম্ভাবনাকে ১৫ শতাংশ এবং অবকাঠামোগত প্রস্তুতি ও উৎপাদন ভলিউমকে যথাক্রমে ১৫ ও ১০ শতাংশ গুরুত্ব দিয়ে একটি নিখুঁত স্কোরিং পদ্ধতির মাধ্যমে ডিজিটাল আইডি সংবলিত জাতীয় ক্লাস্টার ম্যাপ তৈরি করা হবে। দ্বিতীয় স্তম্ভের মূলনীতি হলো পূর্ণাঙ্গ ভ্যালু চেইন একীকরণ। এ ধাপে কাঁচামাল সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রক্রিয়ারকণ, গ্রেডিং, কোল্ড ও ড্রাই স্টোরেজ সুবিধা এবং উন্নত প্যাকেজিংয়ের মাধ্যমে প্রতিটি নির্বাচিত অর্থনৈতিক ক্লাস্টারকে একেকটি স্বয়ংসম্পূর্ণ ‘মিনি-ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইকোসিস্টেমে’ রূপান্তর করা হবে। উদাহরণস্বরূপ, রাজশাহী বা রংপুরের মতো অঞ্চলগুলোর কৃষকদের সমবায়ভুক্ত করে আম বা স্থানীয় ফসল সংগ্রহ করে তা জুস, পাল্প বা ড্রাই ম্যাঙ্গোতে রূপান্তর করে সরাসরি দেশীয় সুপারশপ ও আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেয়া হবে।
ওভিওপি প্রকল্পের তৃতীয় পর্যায়ে আছে আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণ এবং ভ্যালু চেইনভিত্তিক অর্থায়ন। এ ধাপে সনাতন ও প্রাচীন জামানতভিত্তিক (কোল্যাটারাল) ঋণ ব্যবস্থার পরিবর্তে সম্পূর্ণ আধুনিক ক্যাশ ফ্লো ও ডিজিটাল ক্রেডিট স্কোরের ওপর ভিত্তি করে অর্থায়ন করা হবে। এ নতুন ঋণ মডেলে ক্ষুদ্র কৃষক ও কারিগরদের জন্য ইনপুট লোন, প্রক্রিয়াকারকদের জন্য এসএমই ঋণ এবং বড় ও রফতানিমুখী এন্টারপ্রাইজগুলোর জন্য সাপ্লাই চেইন ও এক্সপোর্ট ফাইন্যান্সের ব্যবস্থা থাকবে। চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে বাজার সংযোগ ও ব্র্যান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে ‘কমোডিটি থেকে প্রিমিয়াম প্রডাক্টে’ রূপান্তরের লক্ষ্য নেয়া হয়েছে। এ ধাপে নির্দিষ্ট এলাকার পণ্যকে ভৌগোলিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয়ে ব্র্যান্ডিং করে কেন্দ্রীয় ‘বাংলাদেশ ওভিওপি’ প্লাটফর্মের মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে। পঞ্চম ধাপে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো ও সুশাসনের জন্য একটি শক্তিশালী ও পাঁচ স্তরের পরিচালনা কাঠামো গড়ে তোলা হবে, যার শীর্ষে থাকবে ‘ন্যাশনাল ওভিওপি কাউন্সিল’ এবং এর সঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংক, সরকারের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়, এসএমই ফাউন্ডেশন, পিকেএসএফ এবং বেসরকারি খাতের বড় বড় করপোরেট ক্রেতা ও ডিজিটাল প্লাটফর্মগুলোর সমন্বিত অংশীদারত্ব থাকবে।
দক্ষতা উন্নয়ন ও মানবসম্পদ গঠনকে ষষ্ঠ স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করে গ্রামীণ তরুণ, যুবক ও নারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য তিন স্তরের ( বেসিক, ইন্টারমিডিয়েট ও অ্যাডভান্সড) বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির পরিকল্পনাও করা হয়েছে এ প্রকল্পে। এ স্তরের আওতায় সামগ্রিকভাবে নারীদের অংশগ্রহণ কমপক্ষে ৫০ শতাংশ নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। সর্বশেষ বা সপ্তম স্তম্ভ হিসেবে থাকবে একটি সর্বাধুনিক ডিজিটাল অবকাঠামো ও প্রযুক্তির ব্যবহার, যার আওতায় প্রতিটি গ্রামীণ উৎপাদকের জন্য একটি অনন্য ‘ডিজিটাল প্রডিউসার আইডি’ থাকবে এবং এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) ভিত্তিক বিকল্প ক্রেডিট স্কোরিং ও কিউআর কোডের মাধ্যমে খামার থেকে শুরু করে রফতানি পর্যন্ত পণ্যের শতভাগ ট্রেসেবিলিটি বা সত্যতা নিশ্চিত করা হবে।
প্রস্তাবিত এ বিশাল প্রকল্পটি আগামী তিন বছরের মধ্যে সম্পূর্ণ করার জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা অর্থায়নের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। যার ৪০ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে ফাইন্যান্সিং ফ্রেমওয়ার্ক বা ঋণ সহায়তায় এবং ৩৬ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে বাজার উন্নয়নের কাজে। এছাড়া ক্লাস্টার উন্নয়নে ১৩ শতাংশ এবং প্রযুক্তিগত একীভূতকরণে ১১ শতাংশ ব্যয় করা হবে। এ তহবিল গ্রামীণ অর্থনীতিতে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ ও ঋণপ্রবাহকে আরো ৫-১০ গুণ বাড়িয়ে দেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়নে তিনটি প্রধান ধাপের রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। প্রথম বছরে পাইলট প্রকল্প হিসেবে নির্দিষ্ট ক্লাস্টার নির্বাচন, ডিজিটাল ডেটাবেজে উৎপাদকদের নিবন্ধন এবং প্রাথমিক অর্থায়নের কাজ শুরু হবে। দ্বিতীয় বছরে স্কেলআপ বা দেশব্যাপী এ কার্যক্রমের পরিধি ব্যাপকভাবে সম্প্রসারণ করা হবে এবং কেন্দ্রীয় ওভিওপি ডিজিটাল মার্কেটপ্লেসটি উন্মোচন করা হবে। চূড়ান্ত বা তৃতীয় বছরে পূর্ণ একীকরণের মাধ্যমে দেশের ৬৮ হাজার গ্রামের এক কোটিরও বেশি প্রান্তিক উৎপাদক, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা এবং রফতানিকারককে এই একক ও শক্তিশালী জাতীয় অর্থনৈতিক নেটওয়ার্কে যুক্ত করা হবে। এই সমগ্র পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় আর্থিক চালিকাশক্তি তথা মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করবে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংক তার বিশেষায়িত রিফাইন্যান্স উইন্ডো, ক্রেডিট গ্যারান্টি স্কিম, এমএফএস ও এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের ডিজিটাল ফাইন্যান্স ইন্টিগ্রেশন এবং প্রাইভেট ক্রেডিট ব্যুরো প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতির প্রতিটি স্তরে অর্থপ্রবাহ বাড়াবে, যা দীর্ঘমেয়াদে দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও টেকসই উন্নয়নে মাইলফলক হিসেবে থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।
অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্স, বাংলাদেশের (এবিবি) চেয়ারম্যান এবং সিটি ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাসরুর আরেফিনের নেতৃত্বাধীন ওভিওপি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি এরই মধ্যে এ রূপরেখা বাংলাদেশ ব্যাংকে উপস্থাপন করেছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক গ্রামেই নানা রকম ঐতিহ্যবাহী ও বিখ্যাত পণ্য তৈরি হয়, যেগুলোর চাহিদা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক বাজারেও রয়েছে। তবে সঠিক অর্থায়ন ও নির্দেশনার অভাবে খাতটি বড় হতে পারছে না। ওভিওপি উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো প্রতিটি জেলার এসব নামকরা পণ্যকে বিশ্ববাজারে ছড়িয়ে দেয়া। আমরা এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করছি।










