বিশ্বব্যাপী সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর সংখ্যা ৫২২ কোটি, যা বিশ্বের মোট জনসংখ্যার ৬৩ দশমিক ৮ শতাংশের সমান। অর্থাৎ পৃথিবীর অর্ধেকের বেশি মানুষ সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ব্যবহার করে। ডিজিটাল মার্কেটিং ও ডাটা অ্যানালিটিকস প্রতিষ্ঠান কেপিওসের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর ডাটারিপোর্টাল।

চলতি বছর অক্টোবর পর্যন্ত হালনাগাদ করা তথ্যানুযায়ী, গত এক বছরে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে গত বছরের অক্টোবরের পর থেকে ২৫ কোটি ৬০ লাখ নতুন ব্যবহারকারী এটি ব্যবহার করতে শুরু করেছে। গত ১২ মাসে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী বেড়েছে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। এ সময় গড়ে প্রতি সেকেন্ডে আটজন নতুন ব্যবহারকারী সোশ্যাল মিডিয়ায় যুক্ত হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি মাসে বিশ্বের ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর ৯৪ দশমিক ৫ শতাংশ সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে।

কেপিওস বলছে, সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর সংখ্যা একক ব্যক্তিদের প্রতিনিধিত্ব নাও করতে পারে। ডুপ্লিকেট অ্যাকাউন্টের মতো জটিলতার কারণে এসব প্লাটফর্ম ব্যবহারকারীর সংখ্যা ইন্টারনেট ব্যবহারকারী, এমনকি মোট জনসংখ্যার চেয়েও বেশি হতে পারে।

আবার যখন মোট জনসংখ্যার সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর তুলনা করা হয়, তখন প্রক্রিয়াটি প্লাটফর্ম ব্যবহারের পুরো পরিসরকে সঠিকভাবে উপস্থাপন করতে নাও পারে। কারণ বেশির ভাগ সোশ্যাল মিডিয়া প্লাটফর্ম ১৩ বছর বা তার বেশি বয়সী ব্যক্তিদের জন্য ব্যবহারযোগ্য।

বাজার গবেষণা সংস্থা জিডব্লিউএক্সের তথ্যানুযায়ী, গড়ে একজন সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারী প্রতি মাসে প্রায় সাতটি ভিন্ন প্লাটফর্ম ব্যবহার করে এবং প্রতিদিন সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যয় করে ২ ঘণ্টা ১৯ মিনিট। কেউ যদি দিনে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমায়, এর মানে দাঁড়ায় সে জাগ্রত সময়ের প্রায় ১৪ শতাংশ সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় কাটায়। সারা বিশ্বের মানুষ মিলে প্রতিদিন এসব প্লাটফর্মে ১ হাজার ২০০ কোটির বেশি ঘণ্টা ব্যয় করে।

ডাটাডটএআই ওয়েবসাইটের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যার দিক থেকে শীর্ষে রয়েছে গুগলের ভিডিও শেয়ারিং সাইট ইউটিউব। এরপর দ্বিতীয় স্থানে আছে হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুক তৃতীয় স্থানে। এ দুটোই মেটা মালিকানাধীন প্লাটফর্ম। এ তথ্য থেকে বোঝা যায়, মেটার মূল মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপের সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা তাদের মূল সামাজিক নেটওয়ার্ক ফেসবুকের চেয়ে বেশি। ডাটাডটএআই বলছে, ইউটিউব ব্যবহারকারীর সংখ্যা হোয়াটসঅ্যাপ ও ফেসবুকের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এ তালিকায় চতুর্থ স্থানে রয়েছে মেটার আরেক প্লাটফর্ম ইনস্টাগ্রাম। এরপর যথাক্রমে ফেসবুকের মেসেঞ্জার ও টিকটক।

মেসেজিং প্লাটফর্ম টেলিগ্রামের ব্যবহারও বাড়ছে। অ্যাপটির ব্যবহারকারীর সংখ্যা এখন ইউটিউবের এক-তৃতীয়াংশের সমান। তবে অন্যান্য প্লাটফর্মের সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা ইউটিউবের এক-চতুর্থাংশেরও কম।

স্মার্টফোন ব্যবহারের বৃদ্ধি, সহজ ইন্টারনেট অ্যাকসেস ও ভিডিও কনটেন্টের জনপ্রিয়তার কারণে বিশ্বব্যাপী সোশ্যাল মিডিয়ার ব্যবহার বেড়েছে। এছাড়া আছে বন্ধু কিংবা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখা ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করা। সোশ্যাল মিডিয়া বিনোদন প্লাটফর্ম হিসেবেও কাজ করে। আবার ব্যবসায়ীরা ও প্রতিষ্ঠানগুলো এটি ব্যবহার করে তাদের পণ্যের প্রচার ও গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করে থাকে। এ সবকিছু মিলিয়েই সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।